Advertisement

খুটাখালী বিটকর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ পাচার ও জমি বিক্রির অভিযোগ

জাইতুন নাহার ইতু
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধিন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর বনবিটের

সংরক্ষিত মূল্যবান কাঠ ও বনভূমি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিটের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, খূটাখালী বনবিটের বিটকর্মকর্তা আবদুর রউব এ বিটে যোগদানের পর থেকে স্থানীয় কাঠচোর ও কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে আতাঁত করে সংশ্লিষ্ট বনের সেগুন, গর্জন ও মূল্যবান বিভিন্ন জাতের গাছ কাঠচোরদের সহায়তায় কেটে স্থানীয় সমিল ও চকরিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্নস্থানে পাচার করছে। বিটকর্মকর্তার উপস্থিতিতে ৩/৪টির কাঠ চোরের দল প্রতিরাতে গাড়িতে লাখ লাখ টাকার কাঠ ভর্তি করে পাচার করে দিচ্ছে। ওই বিটের এক দয়িত্বরত কর্মচারী জানায়, বিট কর্মকর্তা এ বিটে যোগদানের পর থেকে তিনি নিজের বাগানের মত বাগান থেকে গাছ কেটে পাচার করে পকেটস্থ করছে। অভিযোগে আরো জানাগেছে, ওই বিটকর্মকর্তা গাছ বিক্রির পাশাপাশি বেশ কিছু বনভূমি রোহিঙ্গাদের মাঝে বিক্রি করে বসবাসের সুযোগ করে দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুত্র জানায়, বিটের আশপাশ এলাকায় বেশ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীর ডিপো রয়েছে। ওই ডিপোতে বিটকর্মকর্তা কাঠচোরদের সহযোগিতায় উক্ত কাঠ জমারেখে স্থানীয় লোকজনদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেচাবিক্রি করছে। এসব অপরাধের প্রতিবাদ করলে বনমামলায় আসামী করার হুমকিতে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। আরো জানাগেছে, কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও খুটাখালী বিটের বনকর্মকর্তার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় ওই বিট কর্মকর্তা দাপটের সাথে বনভূমি উজাড় করে যাচ্ছে। খূটাখালীর কালাপাড়া এলাকায় ওই বিট কর্মকর্তা প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছে। ওই জায়গায় ২০০৩ সালে সমাজিক বনায়ন হলেও এখন ওই বিটকর্মকর্তা এসব বাগানের গাছ কেটে উজাড় করে দেয়। বর্তমানে জানে আলম সিয়া, হাজির ঘোনা, টুনুমিয়া ঘোনা, ছিদ্দিকার রাস্তার মাথা, খুটাখালীর পাগলির বিল, মধূরশিয়া, গয়ালমারা এলাকা থেকে কাঠ ও জমি বিক্রির ধূম পড়ছে। এসব কাছে বিটকর্মকর্তাকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় সাবেক হেডম্যান নুরুল আলম, জানে আলমসহ কয়েকজন ভিলিজার। সুত্র জানায়, বিটকর্মকর্তা কর্তর্ৃক খুটাখালী পাগলির বিল এলাকার নুরু নামে এক ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৫ একর বনভূমি দেয়াসহ আরো অভিয়োগ রয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে অচিরে বনের সংশ্লিষ্ট গাছ উজাড় ও উজাড় হয়ে যাওয়া জমি রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাবে।

Post a Comment

0 Comments