Advertisement

কক্সবাজারে ইটভাটায় বন্দি ২৪ শিশু উদ্ধার ॥ আটক-৩


এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পিএমখালী এলাকায় এবিসি ইটভাটায় বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে  বন্দি ২৪
শিশুকে উদ্ধার সহ এসময় ইটভাটার মালিক হুন্ডি হাজি আবদুল শুক্কুর ,ম্যানেজার শামসুল আলম ও জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুস সাত্তার জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা থেকে ইদ্রিস নামের এক দালাল এই ২৪ শিশু কিশোরদের  ফুঁসলিয়ে ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে নিয়ে আসেন। গত বুধবার দুই শিশুর বাবা র‌্যাব ক্যাম্পে হাজির হয়ে এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করলে বৃহস্পতিবার সকালে এ অভিযান চালানো  হয়। 
এবিসি ইটভাটায় হতে উদ্ধার করা হয়, মো. শামীম (১৫), জাহেদুল ইসলাম (১৬), লাল মিয়া (৮), আল আমিন (১৩), শামিম (১৪), খাইরুল (১২), শামিম আহমদ (১২), মো. সাজু (১৩), জাহাঙ্গির আলম (১২), আরিফ মিয়া (১২), বিল্লাল হোসেন (১৪), মিজানুর রহমান (১৩), সোহেল মিয়া (১৩), বাবু মিয়া (১১), মো. আনোয়ার (১৬), রফিক আহমদ (১৫), বিল্লু মিয়া (২০), মিলন মিয়া (১৪), মাসুদ (১৮), রাশেদুল ২০), সুজন মিয়া (১৭), রবিউল (২২), রফিকুল ইসলাম (১০), শাকিল (৯), মনোয়ার (১২), রুবেল (১০) ও আরিফ (১৩)।
আটককৃত হচ্ছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মৃত আবুল হাশিমের পুত্র ইটভাটা মাীরক হাজী আবদু শুক্কুর (৬৫),রামু উপজেলা তেচ্ছিপুল এলাকার বাসিন্দা ও ইটভাটার ম্যানেজার বজল আহমদের পুত্র শুমশুল আলম(৪২) ও জামালপুর জেলার চমন নগরী এলাকার সবর উদ্দিনের পুত্র জয়নাল আবেদীন (৩০)।
র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার আরো জানান, সরকারি আইন লংঘন করে শিশুদের জোরপুর্বক ঝুঁকিপূর্ন শ্রি“ শ্রমকাজে বাধ্যকরা এবং ভাটার একটি কক্ষে বন্দি করে নির্যাতনে অভিযোগে  ইটভাটা মালিক ও পিএমখালী গ্রামের বাসিন্দা হাজি হুন্ডি আবদুল শুক্কুর ও ইটভাটার ম্যানেজার শামসুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। 
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প ইনচার্জ  ক্যাপ্টেন সিরাজুল ইসলাম জানান, ইটভাটার পাশে ছোট্ট একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় শিশুদের পড়ে থাকতে দেখা যায়। তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করার পর শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। অনেকে নির্যাতন ও মানববেতন জীবন যাপনের ঘটনা তুলে ধরে। 
উদ্ধার শিশু লাল মিয়া (১২) ও শাকিল (৯) জানায়,  ভাটা মালিকের নির্দেশে শ্রমিকরা তাদের ওই ঘরে আটকে রাখতো। ঠিকমত খেতে দেওয়া হতনা। সকাল আটটা থেকে সন্ধা পর্যন্ত ইটভাটায় হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হত। কান্নাকাটি করলে ম্যানেজার লোকজনকে দিয়ে বেদম মারপিঠ করাতেন। সারাদিন তাদের নজরদারীতে রাখা হত-কেউ যেন বাইরে যেতে নাপারে। তারপরও একদিন কৌশলে একজন মুঠোফোনে বাড়িতে খবর পাঠালে তারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পায়। 
প্রসংগত,গত বছরের মার্চ মাসে রামু উপজেলার দক্ষিন খুনিয়াপালং এলাকার আরেকটি ইটভাটা থেকে একই অবস্থায় ৩০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছিল। 

Post a Comment

0 Comments