Advertisement

কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় মহিলা সহ নিহত-৩ ॥ আহত-৫


স্পীড ব্রেকারের দাবীতে সড়ক ব্যারিকেট : বাস ভাংচুর
এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন
কক্সবাজার জেলায় পৃথক ঘটনায় মহিলা সহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মাইক্রোবাসের চাপায় মারা গেছে হাসান আহমদ (৬) নামের এক শিশু। সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে
নিহত হয়েছে ফরিদ (২৮) নামের এক যুবক ও রোহিঙ্গা গৃহবধু আজিজা বেগম (৩৫)। আহত হয়েছে ৩ ব্যক্তি। চকরিয়ার খুটাখালি, হারবাং ইউনিয়নে ,উখিয়া ও টেকনাফে এই পৃথক  ঘটনা ঘটেছে। 
সড়কে স্পীড ব্রেকার এর দাবীতে এবং মাইক্রোবাসের চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। এতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বে অর্ধশত যানবাহ আটকা পড়ে এবং এসময় ৫ টি বাস ভাংচুর করা হয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া খুটাখালি কিশলয় আর্দশ শিক্ষা নিকেতন গেইট এলাকায় চকরিয়াগামী যাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের চাপায় মিলিনিয়াম কেজি স্কুলের নাসারী (বি) ছাত্র হাসান আহমদ (৬) ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। নিহত হাসান আহমদ খুটাখালীর পূর্ব পাড়ার নাসির উদ্দীনের এর পুত্র। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন লাশটি নিয়ে ওই স্থানে স্পীড ব্রেকারের দাবীদে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বে অর্ধশত যানবাহ আটকা পড়ে এবং এসময় ৫ টি বাস ভাংচুর করা হয়েছে। 
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জাকির হোসেন, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরহাদ ঘটনাস্থলে যান। তারা তৎক্ষাণিক ৫ টি ¯পীড ব্রেকার তৈরী শুরু করলে  ৪ ঘন্টার পর বেলা সাড়ে ১১ টায় ব্যারিকেট প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় ঘাতক মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসংগত ,গত ৫ ফেব্র“য়ারী খুটাখালী বাজারে গাড়ী চাপায় নিহত হন মেধা কচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কের সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বনপাহারাদার শফি আলম। গত বছর একই স্থানে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। ওই সময়ও খুটাখালী বাজারে স্পীড ব্রেকার স্থাপনের দাবী করে আসছিল। 
অপরদিকে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে ওই এলাকার ওয়াহিদ এর পুত্র ফরিদ (২৮)। চট্টগ্রাম থেকে এসে নিজবাড়িতে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে হামলা চালায়। এতে আহত ফরিদকে চকরিয়া হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরহাদ জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 
এদিকে,টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া পর্যটক জেটি ঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাইক্রোবাসের চাপায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছে।
আহত পর্যটকরা হলেন- চট্টগ্রামের পাচঁলাইশ থানার শুল্কবহর অংকুর ১০৪/১ এর বাসিন্দা আহসান হাবিব (৩৫), স্ত্রী নাজমূল নাহার (৩৩) ও শিশুকন্যা ফারিস্তা হাসান (৪)। তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালক মোহাম্মদ রফিক (১৫) কে  আটক করেছে পুলিশ। আহতরা সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উদ্দেশে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া পর্যটকবাহী জাহাজ ঘাট এলাকায় আসি। এসময় একটি মাইক্রোবাস  (চট্টমেট্টো চ- ১১-৪৫৯০) পেছন থেকে এসে চাপা দিলে তারাা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় ও পযর্টকরা আমাদের উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
টেকনাফ থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) স্বপন কুমার মজুমদার  জানান, খবর পেয়ে টেকনাফ থানা উপ-পরির্দশক (এসআই) বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে যান।
অপরদিকে,উখিয়া থানা পুলিশ সুত্র জানা,উখিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গৃহবধু আজিজা বেগম (৩৫) নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীদের কবল থেকে পুত্র রফিক আহম্মদকে বাচাতে গেলে সন্ত্রাসীরা মা আজিজা বেগমও বাবা মমতাজ আহম্মদকে এলাপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে গৃহবধু আজিজা বেগম ঘটনাস্থলে নিহত হয়। 
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

Post a Comment

0 Comments