Advertisement

কক্সবাজারে গৃহবধু সহ ৩ নারীকে গণধর্ষন


এম,শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার: 
কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়াস্থ একটি কটেজে ২গৃহ বধু সহ ৩ নারী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৮ লম্পট কর্তৃক ধর্ষণের শিকার এ ঘটনায় দু’সহোদরাও রয়েছে। চাঞ্চল্যকর অথচ লোমহর্ষক এ ঘটনায় কক্সবাজার ব্যাপী তোলপাড় চলছে। ধর্ষিতাদের মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনও এনিয়ে চরম বেকায় পড়ে গেছে। ধর্ষিতাদের মধ্যে এক নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করলেও এখনো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে পুলিশ  কর্মকর্তারা জানান। ফলে ধর্ষিতাদের বিচারের বাণী নিরবে নিবৃত্তে কাঁদছে।
স্থানীয় এলাকাবাসি ও থানায় দায়েরকৃত এজাহার সুত্রে জানা যায়,কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ডুলা ফকির মাজার এলাকার জনৈক আলী আহম্মদ নামের ব্যক্তি ( নাম পরিচয় গোপন রাখা হলো ) তার স্ত্রী (২৫) ও শ্যালিকা (১৮) কে নিয়ে ২৩ ফেব্র“য়ারী কক্সবাজার হস্ত কুঠির শিল্প বিক্রয় ও প্রর্দশনী  মেলা দেখতে আসেন। রাতের বেলায় যাতায়তের জন্য কোন গাড়ী না পেয়ে তারা উঠেন কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়াস্থ ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আবছারের মালিকানাধীন ( এডিবি হ্যাচারীর পশ্চিম পার্শ্বে) কটেজে। তারা ওই কটেজের ৩ নং কক্ষে দু’সহোদরা ও দুলাভাই আলী আহম্মদ অবস্থান নেন।
সুত্রে আরো জানা যায়,একই দিন একই সময় উখিয়া জালিয়া পালং এলাকার জনৈক ফিশিং বোট মাঝি তার স্ত্রী সহ রুম নেয় একই কটেজে। ওই মাঝি সাগরে মাছ ধরা শেষে ২৩ ফেব্র“য়ারী সন্ধ্যায় নাজিরার টেক ঘাটে ফিরে আসলে সেখানে স্ত্রী তার সাথে দেখা করতে যান। রাত হওয়ায় বাড়ী না গিয়েই উক্ত কটেজে রাত্রি যাপনের জন্য রুম ভাড়া নিয়ে ছিল। 
কটেজ উপভাড়াটিয়া মোঃ বাবুল মিয়া জানান,২৩ ফেব্র“য়ারী দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে,স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কটেজের বিভিন্ন কক্ষের দরজায় গিয়ে বর্ডারদের ডাকাডাকি করে। এক পর্যায়ে বর্ডাররা আতংকিত হয়ে স্ব-স্ব রুমের দরজা খুললেই ঘটে স্পর্শ কাতর ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ষিতা গৃহবধু (৩৮) জানান,অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন তার স্বামীকে বেদম মারধর করে রুম থেকে বের করে দিয়ে তার সম্ভ্রম হানি করেছে। বয়স্ক নারী হয়ে পাষন্ডদের আকুতি মিনতি করেও ইজ্জ্বত তার বাচেনি বলে ধর্ষিতা গৃহবধু জানান। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন,নরপশু এমন হিংস্র হয়ে নরপিচাসের কাজ করেছেন।
অপর ধর্ষিতারা থানা কমপাউন্ডে সাংবাদিকদের জানান, বয়স্ক নারীকে ধর্ষণের পর তারা আতংকিত হয়ে পড়ে। এপর পরই অপর কক্ষে একই কায়দায় স্বামী আলী আহম্মদকে রুম থেকে মারধর করে বের করে দিয়ে দুই বোন কে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পাষন্ডরা। নরপশুরা এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ভোর রাতে ওই ৩ নারীকে অপহরণ করে সমিতি পাড়াস্থ একটি বাড়ীতে আটক রেখে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করে। ২৪ ফেব্র“য়ারী বেলা ১২টার দিকে ধর্ষিতাদের মোবাইল সেট,নগদ টাকা লুটে নিয়ে ছেড়ে দেয়। ২৪ ফেব্র“য়ারী বিকালে ধর্ষিতারা ঘটনাটি লিখিত এজাহার দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশকে জানান।
লিখিত এজাহারে সমিতি পাড়ার একজনের নাম উল্লেখ পূবর্ক আরো ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধর্ষণ,মারধর,অপহরণ ও নগদ টাকা সহ মোবাইল সেট লুটের অভিযোগ আনা হয়।
ধর্ষিতাদের মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। ধর্ষকরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং একটি রাজনৈতিক দলের শেল্টারে থাকায় ন্যায় বিচার পাচ্ছে না বলে ধর্ষিতারা জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম তালুকদার জানান,৩ নারী ধর্ষণের শিকারের ঘটনা একটি এজাহার থানায় দায়ের করেছে ধর্ষিতাদের মধ্যে এক নারী বাদী হয়ে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাংগীর বলেন,এ ধরনের ঘটনা তিনি শুনেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।
এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

Post a Comment

0 Comments