Advertisement

চকরিয়ায় জাতীয় টিকা দিবসের টাকা আত্মসাত

সংবাদদাতা
চকরিয়া উপজেলায় ২০ তম জাতীয় টিকা দিবসের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লি্লষ্টরা পরস্পর যোগসাজস করে পলিও'র জন্য বরাদ্দ দেয়া টাকার অর্ধেক ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এ্যাডভোকেসি অনুষ্টান না করেই উপস্থিতির ভূয়া দস্তখত বানিয়ে কাগজপত্র তৈরী করা হয়েছে। এনিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

জানা যায়, গতকাল ৭ জানুয়ারী প্রথম রাউন্ডে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়নে ৫ বছরের কম শিশুদের পলিও ও ভিটামিন টিকা খাওয়ানো হয়েছে। টিকা খাওয়াননোর সময় স্বাস্থ্যসহকারী মাঠকর্মীদের সঙ্গে প্রতি ওয়ার্ডে ৩২ জন করে স্বেচ্ছা সেবক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে এসব স্বেচ্ছা সেবকদের জন্য নাস্তা খরচ, টিকা দিবসের জন্য মাইকিং, উদ্বুদ্ধ করণের এ্যাডভোকেসি অনুষ্টান, মাঠকর্মীদের ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রতি ইউনিয়নে সাড়ে ৮হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এবার কোন ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে কোন এ্যাডভোকেসি অনুষ্টান করা হয়নি। প্রত্যেক ইউনিয়নে এ্যাডভোকেসি অনুষ্টান করা হয়েছে বলে গত ৪ জানুয়ারী ১৮ ইউনিয়নের মাঠকর্মীদের দিয়ে ভুয়া দস্তখত করে কাগজপত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তপক্ষ জমা নিয়ে নিয়েছে। ওই কাগজপত্রের উপস্থিতির স্বাক্ষরের সবগুলোই ভূয়া। এ তথ্য মাঠকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে। জানা যায়, কর্তৃপক্ষই মাঠকর্মীদের এই ভুয়া কাগজপত্র জমা দিতে বাধ্য করেছে। আগে এ রকম টিকা দিবসের পুর্বে এলাকায় সাড়া পড়ে যেতো। এখন তা করা হয়েছে একেবারে নিরবে। সংশ্লিষ্ট নির্ভযোগ্য সুত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৫৪ জন স্বাস্থসহকারী মাঠকর্মীদের টিকা দিবসের এ্যাডভোকেসি, মাইকিং, স্বেচ্ছা সেবকদের নাস্তা খরচ সব মিলিয়ে প্রতিজনকে ১৬শত টাকা করে দেয়া হয়েছে। অথচ ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রতিজন স্বাস্থ্যসহকারী মাঠকর্মীকে দেয়ার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৫শত টাকা করে। এই টাকা দেয়ার সময় সংশ্লিষ্টরা তাদের কাছ থেকে ৩টি জায়গায় দস্তখত নিয়ে নিয়েছে। মাঠকর্মীরা জানায়, অনেককে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা হয়েছে মাত্র। এতে প্রথম রাউন্ডে যথাযথ ভাবে পলিও ও ভিটামিন টিকা খাওয়াতে তাদের অমানুষিক কষ্ট করতে হয়েছে বলে মাঠকর্মীরা জানান। সংশ্লি্লষ্ট সুত্র জানায়, এসব ব্যাপারে আগে থেকে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় লিখালেখি হওয়ায় ওই সংবাদগুলো মিথ্যা বলার জন্যও মাঠকর্মীদের কাছ থেকে একটি খালি কাগজে দস্তখত নিয়ে নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারী মাঠকর্মীরা জনায়, ইউ.এইচ এন্ড এফ.পি.ও আনোয়ার আহমেদ ও এ হাসপাতালের হেড়ক্লার্ক ইখতিয়ার উদ্দিন টিকা দিবসের জন্য এ্যাডভোকেসি অনুষ্টান না করে তাদের কাছ থেকে ভুয়া দস্তখত দিতে বাধ্য করেছে। এ ব্যাপারে আনোয়ার আহমেদের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, টিকা দিবসের সব দায়ীত্ব স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল আমিনকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এসবের কিছুই বলতে পারবো না। নুরুল আমিনকে ফোন করলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় কথা বলা যায়নি। এভাবে টিকা দিবসের টাকা অর্ধেক করে কেটে রাখায় স্বাস্থ্য সহাকারীদের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, যারা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। এতে কেউ সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারছে না। এই আত্মসাতের ঘটনায় সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে জানা যায়।

Post a Comment

0 Comments