কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর হোয়ানকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় ২ পক্ষের মধ্যে গত ২ দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় এনাম চেয়ারম্যান বাহিনীর হামলায় নিহত হয় জয়নাল আবেদীন (২৭) নামের এক যুবক। তিনি ২০০৪ সালে একই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নিহত বকসু মেম্বারের পুত্র।জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে গোলাম আযমের সাবেক দেহরক্ষী আখতার হামিদ বাহিনীর সাথে স্থানীয় ফেরদৌস বাহিনীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই বিরোধের জের ধরে গত এক যুগে প্রায় অর্ধ ডজন ব্যক্তি খুন হয়। আখতার হামিদ বাহিনীর হাতে ২০০৪ সালে নিহত হয় বকসু মেম্বার। সম্প্রতি বকসু মেম্বার হত্যা মামলাটি ট্রায়ালে ওঠলে প্রতিপক্ষ তাদেরকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি আখতার হামিদের ছোটভাই জামায়াত সমর্থক এনাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ওই গ্রুপের দাপট বেড়ে যায়। এই গ্রুপের অব্যাহত হুমকীর পরও মামলা তুলে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় সন্ত্রাসী এনাম বাহিনী শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে গুলী করে খুন করে স্থানীয় মৃত বকসু মেম্বারের পুত্র জয়নালকে। এসময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে তাদের গুলীতে আহত হয় স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও নিহতের বড়ভাই আবুল হাশেম। এরআগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেরুণতলী বাজারে স্থানীয় মেহরাজ আহমদের পুত্র আনছার হোসেনের সাথে একই এলাকার হাসান আলীর পুত্র মোহাম্মদ হোসেনের পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনায় দুপক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পরে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে মহেশখালী থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় একপক্ষ বিগত ইউপি নির্বাচনে এনামের কর্মী ওমর আলী (৫৫)কে মারধর করলে ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসীরা শুক্রবার সকালে ওই বাজারে গুলী করে খুন করে জয়নালকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই ঘটনায় আরো অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কাশেমকে সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) তৌহিদ কবির ঘটনাস্থল থেকে ফিরে জানান, স্থানীয় এনাম গ্রুপের সাথে ফেরদৌস গ্রুপের সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
0 Comments