রোডমার্চের সমাবেশে খালেদা জিয়া
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চের প্রথম দিন শেষ করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নিজ জেলা ফেনীতে দিনের সর্বশেষ জনসভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এখন মুখ্য বিষয় নয়। তত্ত্বাবধায়কব্যবস'া পুনর্বহালের আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়টি একটি ভাঁওতাবাজি। তাই আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছি। আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। নিজেদের অধীনে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগ মস্তবড় ভুল করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া ওই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেবে না।
এর আগে দিনের তিনটি পথসভায় একই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।
চান্দিনার ছয়ঘড়িয়ার তুলাতলি মাঠে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চের দ্বিতীয় পথসভায় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা নই, নিজেদের অধীনে নির্বাচন করলে আপনারাই মস্তবড় ভুল করবেন। এতে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। এর জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন।’
রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই এখন যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা হচ্ছে- এটা ভাঁওতাবাজি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না।’
দেশের বর্তমান অবস'াকে সঙ্কটজনক অভিহিতি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ভালো নেই। দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছেন না। শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এ অবস'া থেকে উত্তরণে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বেলা পৌনে ৩টায় চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজ মাঠে প্রথম পথসভায় বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সরকার হটানো ছাড়া মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে না। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ ও চান্দিনার ছয়ঘড়িয়ার তুলাতলি মাঠে জেলা উত্তরের সভাপতি খোরশেদ আলম সভাপতিত্ব করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকারের ব্যর্থতা ও দেশের বর্তমান দুরবস'া তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রোডমার্চ শুরু করেন খালেদা জিয়া।
ঢাকা থেকে চান্দিনা পর্যন্ত আসার পথে সায়েদাবাদ, ডেমরা, কাঁচপুর, সোনারগাঁও মোড়, মদনপুর, মেঘনা ব্রিজ, ভবেরচর, দাউদকান্দি সেতু পাড়, গৌরীপুর , ইলিয়েটগঞ্জ, নিমসার বাজার প্রভৃতি স'ানে হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক বিশেষ করে নারী-শিশুরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান।
এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও মুন্সীগঞ্জের ভবেরচরে অনির্ধারিত দু’টি পথসভায় গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকে বক্তৃতা দেন খালেদা জিয়া।
নিমসার বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ব্রাক্ষণপাড়ার কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
এ সময়ে গাড়ি থেকে খালেদা জিয়া সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য প্রস'তি নিতে হবে। এই সরকারকে হটালে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।’
এ দিকে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লা শহর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় পাঁচ শতাধিক তোরণ। এসব তোরণের আশপাশে হাজার হাজার লোক দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান।
ব্যতিক্রম ছিল কুমিল্লার মুরাদনগর। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে অসংখ্য বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় দুই কিলোমিটার পথ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুরাদনগরের সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের হাজার হাজার সমর্থক খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ফেনীতে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন। সার্কিট হাউজে বিশ্রাম শেষে সোয়া ৭টায় স'ানীয় পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রোডমার্চের প্রথম জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।
ফেনীর লাখো মানুষের সমাবেশ থেকে আজ চট্টগ্রামে সরকার পতনে নতুন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই। চট্টগ্রামের জনসভা থেকে সরকার বিদায় করতে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি নয়, আমরা শানি-পূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে হটাতে কর্মসূচি দেবো।’
সোয়া ৭টায় জনসভার মঞ্চে উঠলে তুমুল করতালি দিয়ে নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীকে অভিনন্দন জানায়।
‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’- এ স্লোগানে মাঠ প্রাঙ্গণ ছিল সরব।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে জনসভায় দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, রেহানা আক্তার রানু, শাহানা আখতার সানু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ফেনী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুপুর থেকে মানুষজন খালেদা জিয়ার অপেক্ষায় ছিল। এই জনসভায় ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ পাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
রোডমার্চ উপলক্ষে পথে শতাধিক স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়। এসব তোরণে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি টানানো ছিল।
৪০ মিনিট স'ায়ী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা, অপশাসন, দুর্নীতি, নতাজানু পররাষ্ট্রনীতি, গুপ্তহত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার সংবিধান সংশোধন করে একদলীয়ভাবে নির্বাচন করতে চায়। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশ-বিদেশে কেউ সেই নির্বাচন মেনে নেবে না।’
আওয়ামী লীগ জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই আমরা বলে দিতে চাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেও আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অপকর্মের কারণে ’৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। এবার যে অবস'ার সৃষ্টি করেছে, আগামীতে ৪১ বছরেও আর তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’
ফেনীর জনসভায় আসতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠছে। রোডমার্চে পথে পথে জনস্রোত নেমেছে। ওই স্রোত পেরিয়ে আমাকে ফেনীর এই জনসভায় আসতে হয়েছে।’
আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রামকেন্দ্রিক কর্মসংস'ানের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসারসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।
কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পাওয়ার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না। অথচ তারা বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল ক্রয় করছে। উদ্দেশ্য একটাই তাদের দলের লোকজনকে লাভবান করা।’
‘কৃষকদের কোনো সমস্যার সমাধান তিন বছরে সরকার করতে পারেনি।’ খালেদা জিয়া সরকারের দুর্নীতির ফিরিসি- দিয়ে বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। তাদের দুর্নীতির সব কাগজপত্র আমাদের হাতে আছে।’
মহাজোট সরকাকে স্বৈরাচারী সরকার অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে মিছিল-মিটিং করতে দেয়া হয় না। দলের কার্যালয় পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। সমাবেশের জন্য পল্টন ময়দানের অনুমতি দেয় না। এ রকম আচরণ অব্যাহত থাকলে আগামীতে এমন পরিসি'তি সৃষ্টি হবে, জনগণ সরকারের আর কোনো বাধা মানবে না।’
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ আবার শুরু করেন। ১১টায় চট্টগ্রাম পৌঁছান তিনি।
আজ বিকেলে চট্টগ্রাম পলো গ্রাউন্ড মাঠে খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। রোডমার্চে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই সোনারগাঁও অতিক্রম করেছে রোডমার্চ। মেঘনা টোলপ্লাজা অতিক্রমকালে খালেদা জিয়া জনতার উদ্দেশে বলেন, এ জালেম সরকারের হাত থেকে দেশ, দেশের মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। সরকার উৎখাত আন্দোলনে সবাইকে শরিক হতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই প্রতারক সরকার ১০ টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে। এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, চান্দিনায় মাধাইয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছেন, যারা কৃষিকাজ করে মানুষের খাবার জোগায় বর্তমান সরকার তাদের সাথেও প্রতারণা করেছে। তিনি চট্টগ্রাম অভিমুখে দুই দিনের রোডমার্চে যাওয়ার পথে তার প্রথম পথসভায় বক্তৃতাকালে আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও তাঁবেদারির কারণে আমাদের খাল-বিল, নদীনালা পুকুর-ডোবা, সবকিছু শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, তারা বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে, বিনামূল্যে সার দেবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে কিন' কোথায় আজ সেই ওয়াদা। কৃষকরা কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা হতাশায় ভুগছে।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, খালেদা জিয়া বলেছেন, নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস-ান-র করতে হবে। আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না। জনগণ এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চের প্রথম দিনে চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘরিয়া তুলাতলী মাঠে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো: খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস'া নিয়ে আওয়ামী লীগ কোর্টের দোহাই দেয়। কিন' কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারবে। একটি দেশকে খুশি করার জন্য সরকার সবকিছু উজাড় করে দিচ্ছে। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপির স'ায়ী কমিটির সদস্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চের প্রধান সমন্বয়ক এম কে আনোয়ার, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ্ আমান, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আজম খান, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এমপি, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা আবদুর রাকিব, ব্যারিস্টার ড. মারুফ হোসেন খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুন-নবী-খান সোহেল, জাসাসের সভাপতি মেজর (অব:) মেহেবুবুর রহমান, দেবিদ্বারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহ্ মো: আলমগীর খান, যুবদল সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল খায়ের প্রমুখ।
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, রোডমার্চ উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার ট্রাক টার্মিনালে এক পথসভায় খালেদা জিয়া বলেন, তিন বছরে এই সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারেনি। এদের কাজ হচ্ছে লুটপাট আর মানুষ হত্যা। তিনি আরো বলেন, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে এক সময় মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। এখন ক্ষমতায় এসে বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আর প্রয়োজন নেই।
এর আগে দিনের তিনটি পথসভায় একই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।
চান্দিনার ছয়ঘড়িয়ার তুলাতলি মাঠে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চের দ্বিতীয় পথসভায় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা নই, নিজেদের অধীনে নির্বাচন করলে আপনারাই মস্তবড় ভুল করবেন। এতে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। এর জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন।’
রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই এখন যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা হচ্ছে- এটা ভাঁওতাবাজি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না।’
দেশের বর্তমান অবস'াকে সঙ্কটজনক অভিহিতি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ভালো নেই। দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছেন না। শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এ অবস'া থেকে উত্তরণে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বেলা পৌনে ৩টায় চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজ মাঠে প্রথম পথসভায় বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সরকার হটানো ছাড়া মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে না। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ ও চান্দিনার ছয়ঘড়িয়ার তুলাতলি মাঠে জেলা উত্তরের সভাপতি খোরশেদ আলম সভাপতিত্ব করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকারের ব্যর্থতা ও দেশের বর্তমান দুরবস'া তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রোডমার্চ শুরু করেন খালেদা জিয়া।
ঢাকা থেকে চান্দিনা পর্যন্ত আসার পথে সায়েদাবাদ, ডেমরা, কাঁচপুর, সোনারগাঁও মোড়, মদনপুর, মেঘনা ব্রিজ, ভবেরচর, দাউদকান্দি সেতু পাড়, গৌরীপুর , ইলিয়েটগঞ্জ, নিমসার বাজার প্রভৃতি স'ানে হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক বিশেষ করে নারী-শিশুরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান।
এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও মুন্সীগঞ্জের ভবেরচরে অনির্ধারিত দু’টি পথসভায় গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকে বক্তৃতা দেন খালেদা জিয়া।
নিমসার বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ব্রাক্ষণপাড়ার কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
এ সময়ে গাড়ি থেকে খালেদা জিয়া সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য প্রস'তি নিতে হবে। এই সরকারকে হটালে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।’
এ দিকে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লা শহর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় পাঁচ শতাধিক তোরণ। এসব তোরণের আশপাশে হাজার হাজার লোক দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান।
ব্যতিক্রম ছিল কুমিল্লার মুরাদনগর। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে অসংখ্য বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় দুই কিলোমিটার পথ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুরাদনগরের সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের হাজার হাজার সমর্থক খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ফেনীতে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন। সার্কিট হাউজে বিশ্রাম শেষে সোয়া ৭টায় স'ানীয় পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রোডমার্চের প্রথম জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।
ফেনীর লাখো মানুষের সমাবেশ থেকে আজ চট্টগ্রামে সরকার পতনে নতুন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই। চট্টগ্রামের জনসভা থেকে সরকার বিদায় করতে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি নয়, আমরা শানি-পূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে হটাতে কর্মসূচি দেবো।’
সোয়া ৭টায় জনসভার মঞ্চে উঠলে তুমুল করতালি দিয়ে নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীকে অভিনন্দন জানায়।
‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’- এ স্লোগানে মাঠ প্রাঙ্গণ ছিল সরব।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে জনসভায় দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, রেহানা আক্তার রানু, শাহানা আখতার সানু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ফেনী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুপুর থেকে মানুষজন খালেদা জিয়ার অপেক্ষায় ছিল। এই জনসভায় ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ পাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
রোডমার্চ উপলক্ষে পথে শতাধিক স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়। এসব তোরণে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি টানানো ছিল।
৪০ মিনিট স'ায়ী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা, অপশাসন, দুর্নীতি, নতাজানু পররাষ্ট্রনীতি, গুপ্তহত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার সংবিধান সংশোধন করে একদলীয়ভাবে নির্বাচন করতে চায়। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশ-বিদেশে কেউ সেই নির্বাচন মেনে নেবে না।’
আওয়ামী লীগ জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই আমরা বলে দিতে চাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেও আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অপকর্মের কারণে ’৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। এবার যে অবস'ার সৃষ্টি করেছে, আগামীতে ৪১ বছরেও আর তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’
ফেনীর জনসভায় আসতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠছে। রোডমার্চে পথে পথে জনস্রোত নেমেছে। ওই স্রোত পেরিয়ে আমাকে ফেনীর এই জনসভায় আসতে হয়েছে।’
আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রামকেন্দ্রিক কর্মসংস'ানের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসারসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।
কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পাওয়ার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না। অথচ তারা বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল ক্রয় করছে। উদ্দেশ্য একটাই তাদের দলের লোকজনকে লাভবান করা।’
‘কৃষকদের কোনো সমস্যার সমাধান তিন বছরে সরকার করতে পারেনি।’ খালেদা জিয়া সরকারের দুর্নীতির ফিরিসি- দিয়ে বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। তাদের দুর্নীতির সব কাগজপত্র আমাদের হাতে আছে।’
মহাজোট সরকাকে স্বৈরাচারী সরকার অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে মিছিল-মিটিং করতে দেয়া হয় না। দলের কার্যালয় পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। সমাবেশের জন্য পল্টন ময়দানের অনুমতি দেয় না। এ রকম আচরণ অব্যাহত থাকলে আগামীতে এমন পরিসি'তি সৃষ্টি হবে, জনগণ সরকারের আর কোনো বাধা মানবে না।’
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ আবার শুরু করেন। ১১টায় চট্টগ্রাম পৌঁছান তিনি।
আজ বিকেলে চট্টগ্রাম পলো গ্রাউন্ড মাঠে খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। রোডমার্চে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই সোনারগাঁও অতিক্রম করেছে রোডমার্চ। মেঘনা টোলপ্লাজা অতিক্রমকালে খালেদা জিয়া জনতার উদ্দেশে বলেন, এ জালেম সরকারের হাত থেকে দেশ, দেশের মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। সরকার উৎখাত আন্দোলনে সবাইকে শরিক হতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই প্রতারক সরকার ১০ টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে। এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, চান্দিনায় মাধাইয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছেন, যারা কৃষিকাজ করে মানুষের খাবার জোগায় বর্তমান সরকার তাদের সাথেও প্রতারণা করেছে। তিনি চট্টগ্রাম অভিমুখে দুই দিনের রোডমার্চে যাওয়ার পথে তার প্রথম পথসভায় বক্তৃতাকালে আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও তাঁবেদারির কারণে আমাদের খাল-বিল, নদীনালা পুকুর-ডোবা, সবকিছু শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, তারা বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে, বিনামূল্যে সার দেবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে কিন' কোথায় আজ সেই ওয়াদা। কৃষকরা কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা হতাশায় ভুগছে।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, খালেদা জিয়া বলেছেন, নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস-ান-র করতে হবে। আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না। জনগণ এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চের প্রথম দিনে চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘরিয়া তুলাতলী মাঠে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো: খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস'া নিয়ে আওয়ামী লীগ কোর্টের দোহাই দেয়। কিন' কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারবে। একটি দেশকে খুশি করার জন্য সরকার সবকিছু উজাড় করে দিচ্ছে। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপির স'ায়ী কমিটির সদস্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চের প্রধান সমন্বয়ক এম কে আনোয়ার, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ্ আমান, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আজম খান, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এমপি, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা আবদুর রাকিব, ব্যারিস্টার ড. মারুফ হোসেন খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুন-নবী-খান সোহেল, জাসাসের সভাপতি মেজর (অব:) মেহেবুবুর রহমান, দেবিদ্বারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহ্ মো: আলমগীর খান, যুবদল সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল খায়ের প্রমুখ।
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, রোডমার্চ উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার ট্রাক টার্মিনালে এক পথসভায় খালেদা জিয়া বলেন, তিন বছরে এই সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারেনি। এদের কাজ হচ্ছে লুটপাট আর মানুষ হত্যা। তিনি আরো বলেন, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে এক সময় মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। এখন ক্ষমতায় এসে বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আর প্রয়োজন নেই।


0 Comments