Advertisement

২০১৩ সালের মধ্যে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হবে

বিরোধীদলের কোনও সহযোগিতা পাইনি, তবুও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ 
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে জনগণকে দেওয়া নির্বাচনি ওয়াদা পূরণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। শতভাগ সফল হয়েছি দাবি করব না। তবে একথা বলতে পারি, দায়িত্ব পালনে মহাজোট সরকার কখনোই গাফিলতি করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক অন্ধকার সময়ে আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আব্লর্জাতিক

অর্থনীতির চরম সংকট, বিশ্বমন্দা, সারাবিশ্বে খাদ্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকার থেকে পাওয়া পর্বতসমান বোঝা নিয়ে আমরা সাহস, সততা ও আব্লরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে টেলিভিশন ও বেতার ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, জেলখানায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টে নিহত, ২১ আগস্ট নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দল ও আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশ ও মানুষের স্বার্থকে সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত ৩ বছর দেশ পরিচালনায় বিরোধীদলের কোনও সহযোগিতা পাইনি। অনেক সময় সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে বিরোধীদল অবস্থান নিয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই তারা সংসদ বর্জন করে চলেছে। বিরোধীদলের নেতা তিন বছরে মাত্র ৬ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বাধাহীনভাবে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তব্য রেখেছেন। তার পরেও তারা সংসদ বর্জন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ পুনঃপতিষ্ঠা করেছি। নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি।
যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ওয়াদা অনুযায়ী আমরা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছি, তখনই তাদের রক্ষায় মাঠে নেমেছেন বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়া। জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল ও মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। যতই বাধা আসুক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করবই করব। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের তারা রক্ষা করতে পারেনি, যুদ্ধাপরাধীদেরও রক্ষা করা যাবে না।
দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনাটাই ছিল আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। যেদিন সরকার গঠন করি সেদিন চালের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আব্লর্জাতিক বাজারে অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি স্বত্ত্বেও আমরা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে এনেছি। পাশাপাশি জনগণের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আত্দকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ৬৬০ ডলার থেকে ৮২৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ানো হয়েছে। চাকরির বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের নূ্যনতম বেতন ১৬০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রামের ক্ষেতমজুররা ১০০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ৩শ থেকে ৫ শ টাকা পাচ্ছে। আগে তারা চাল কিনতে পারত আড়াই থেকে তিন কেজি। বর্তমানে ১০ থেকে ১২ কেজি কিনতে পারছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্ব্বমন্দা সত্ত্বেও আমরা দেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ ভিক্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি। দেশে বিনিয়োগ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়েছে। রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। সরকার গঠনের সময় রেমিট্যান্স আয় ছিল ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি চাকরি পেয়েছে প্রায় চার লাখ নারী-পুরুষ। গত অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি বছর ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদু্যৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোটের ৫ বছর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছরে এক মেগাওয়ার্ট বিদু্যৎ উৎপাদন বাড়েনি। গত তিন বছরে মহাজোট সরকার ২৯০০ মেগাওয়ার্ট বিদু্যৎ উপাদন করেছে। গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বেসরকারী খাতে ৩ টি কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎ কেন্দ্র নির্মানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পারমাণবিক বিদু্যৎ নির্মাণকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত, মিয়ানমার ও ভুটান থেকে বিদু্যৎ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামভিত্তিক কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করতে সুন্দরবন গ্যাস ডিস্টিভিউশন কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছি।
জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে একই সময়ে ৫ শ স্থানে বোমা হামলা হয় না। বিরোধীদলের এমপিরা হত্যার শিকার হন না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে না। বাংলাদেশ এখন অতীতের নেতিবাচক পরিচয় ঘুচিয়ে উজ্জ্বল ভাবমূর্তির পরিচয় পেয়েছে। বাংলাদেশকে আমরা ফিরিয়ে এনেছি শাবি্ল , উন্নয়ন ও প্রগতির ধারায়। দারিদ্র্য বিমোচন, পল্লী উন্নয়ন, খাদ্যে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।
দেশ ও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।ফংধ

Post a Comment

0 Comments