Advertisement

বাতিল পস্নটে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেটের ফ্ল্যাট ব্যবসা ঃ গ্রাহক ঠকার আশংকা

ডেস্ক রিপোর্ট

এবার সরকার ও আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া প?টে অফিস নিমর্াণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি বহাল রেখেছে বহুল বিতর্কিত ডেভেলপার কোম্পানি আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। ইতোমধ্যেই তারা সেখানে পরিত্যাক্ত একটি লেবার সেটকে নতুন করে নিমর্াণ করে ৫ কক্ষের বিশাল অফিস ঘর তৈরি করেছেন। সম্প্রতি অফিসটি মহা ধুমধামের সাথে উদ্বোধন করে সেখানে ব্যানার, ফেষ্টুন ও বিভিন্ন প্রচার পত্র ঝুলিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হচ্ছে। 
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে নিয়ম-নীতি লঙ্গন করে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে ৮৭ টি প?ট বরাদ্দ দেয়া হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১ সেপেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রনালয় সভার মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব এ কে এম শামসুল আরেফীন স্বাক্ষরিত ভূঃমঃ/শা-৮/মোটেল/৭৪/৩০০৯/৮৯ তারিখ: ১১-১-২০১০ স্মারক মূলে চুক্তির ১১ নং শর্ত লঙ্ঘন করায় ৫৯ টি প?ট এর বরাদ্দ বাতিল করা হয়। পরে প?টের মালিকরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে সরকারের গৃহিত আদেশ বহাল রেখে প?ট গুলোতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০ নং প?টের মালিক হলেন জনৈক এনায়েতুল বারী। তার প?টটিতেও কোন ধরনের স্থাপনা বা কাজ না করার নির্দেশনা থাকলেও ওই ২০ নং প?টে থাকা একটি লেবার সেটকে নতুন করে নিমর্াণ ও সংস্কার করে সেখানে ৫টি কক্ষের বিশাল অফিস তৈরী করেছেন আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের ডেভেলপার্স কোম্পানি। এ বিষয়ে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আযাদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট এর অফিস ইতোপূর্বে অন্য একটি হোটেলে ভাড়া নিয়ে চলতো। সেখান থেকে আমাদের নিজস্ব জায়গায় অফিস করে এখানে চলে এসেছি। কিন্তু সরকার ও আদালতে চুক্তি বাতিল হওয়া প?টে কিভাবে নতুন করে অফিস নিমর্ান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প?টটিতে তেমন কিছু করা হয়নি। এ বিষয়ে লেখালেখি করার দরকার নেই আপনি অফিসে এসে চা খেয়ে যাবেন। 
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার উন্নয়ন কতর্ৃপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল বারীর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি বলেন, হোটেল-মোটেল জোনের প?ট বাতিল সংক্রান্ত ফাইল দেখে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। 
এদিকে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট নামের উক্ত ডেভেলপার্স কোম্পানিটি বার বার এমন অপরাধ কর্মকান্ডের জন্ম দিয়েও কিভাবে নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পেছনের শক্তির উৎস নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে দীপক শমর্া দিপু ও ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেছেন, আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড কক্সবাজারে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান। শুরুতেই আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট কম্পানির লোকজন কক্সবাজার শহরের নতুন পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় সরকারী জমি দখল করে নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুরু করে। পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে বন বিভাগ সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটিভর্তি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ২ টি পিকআপ জব্দ করে। অভিযোগ ছিল মোটা অংকের উৎকোচের কারণে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি। এমনকি মাটি ভর্তি পিকআপ জব্দ নিয়েও চলে বনবিভাগের নানা লুকোচুরি। অভিযানের ১৭ দিনেও পাহাড়কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করেনি বনবিভাগ। জব্দকৃত পিকআপ ২টির মালিক কক্সবাজার শহরের লারপাড়ার লাল মোহাম্মদ এর পুত্র আবুল কালাম ও দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার শাহজাহান সিরাজ। মাটি সরানোর কাজে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট এর লোকজন পিকআপ ২টি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে বনবিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। পরে জরিমানা আদায় করে পিকআপ দুটি ছেড়ে দেয়া হয়। এর পরও সেখানে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে এসব বিষয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পর সেখানে আবারো অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার সদর ভূমি অফিস থেকে বিএস খতিয়ান নং ০১ ও ৬৭৭১ বিএস দাগ নং- ১৭০৭০ তফশীলের সরকারি খাস ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় শ্রেণীর জমি হতে পাহাড় কাটা, ইমরাত নিমর্াণ আইন, ১৯৫২ এর ৩ (গ) ধারা এবং দি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অর্ডিনেন এ্যাক্ট-১৯৯০ এ অভিযোগ এনে ২০১০ সালের নভেম্বরে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড এর এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে আদালত থেকে জামিনে এসে ফের পাহাড় কাটা শুরু করে তারা। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আবারো প্রকাশিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড এর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে। একই সাথে কেটে ফেলা পাহাড় পুনরায় মাটি দিয়ে পূবের্ঞ্চর অবস্থায় তৈরী করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আইডিয়াল কতর্ৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছে না। বরং সেখানে এখনো কাটা হচ্ছে পাহাড়। এ বিষয়েও সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতেই থেমে থাকেনি আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট কতর্ৃপক্ষের অপকর্ম। তারা প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিপুল পরিমান গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ সময় হাতে-নাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন কোম্পানিটির কক্সবাজার অফিসের জৈষ্ঠ্য নিবাহর্ী কর্মকতর্া (বিক্রয়) মোহাম্মদ মাসুদ ইব্রাহিম সহ ৪ জন। মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। জেল থেকে বের হয়েই চুক্তি বাতিল হওয়া প?টে অফিস করে ফের আরেকটি অপরাধে জড়িয়ে পড়লেন আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট কতর্ৃপক্ষ। এভাবে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড করে কি ভাবে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে তা সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

Post a Comment

0 Comments