Advertisement

অব্যবস্থাপনার কারনে উপজেলার পোলট্রি শিল্প হুমকির মূখে

জি.এম ইদ্রিস মিয়া, উখিয়া
উখিয়া উপজেলার প্রত্যনত্দ অঞ্চলের অধিকাংশ বেকার যুবকেরা বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের একমাত্র সহায়ক পথ হিসাবে বেছে নিয়েছে পোলট্রি খামার। বর্তমানে উপজেলার সবত্রে

পোলট্রি খামারগুলোতে নানা সমস্যার কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামারগুলো। অব্যবস্থাপনার কারনে উপজেলার পোলট্রি শিল্প হুমকির মূখে পড়ার আশংকা রয়েছে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়ে দিন দিন নানান সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোলট্রি ফিডের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি ও পশুসম্পদ কর্মকর্তা - কর্মচারীদের অসহযোগীতায় এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৪ শতাধিক ছোট-বড় খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২ শতাধিক খামার এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, বাকী খামারগুলোর অধিকাংশই খামারিরা লোকশানের ব্যয়ভার বহন করা সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ার কারনে সেখানথেকেও অধিকাংশ খামার বন্ধের পথে বসতে শুরম্ন হয়েছে। এসব খামারে সাধারণত লেয়ার ও ব্রয়লার দুই জাতীয় মুরগি পালন করা হয়। লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির ভ্যাকসিনের দাম আগের তুলনায় তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয় পোলট্রি খামারের মালিকরা জানান, আগে এক দিনের একটি লেয়ার মুরগির বাচ্ছার দাম ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা। বর্তমানে এর দাম সাদা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, লাল ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা। এক দিনের একটি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। বর্তমানে এর দাম হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এসব বাচ্চা ঢাকা, গাজীপুর, শ্রীপুর ও রাজাবাড়ী থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন খরচও অনেক বেশি পড়ে। দামের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে মৃতু্যর ঝুঁকি। ফলে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। জানা যায়, বাজারে যে ওষুধ পাওয়া যায় তার দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। একটি ডি-৭৮ ভ্যাকসিনের দাম আগে ছিল সাড়ে ৬০০ টাকা। বর্তমানে এর দাম হয়েছে ৮২০ টাকা। উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রম্নমখাঁ বড় বিল গ্রামের খামারি মোঃ ইসমাইল জানান, আমার খামারে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্রয়লার মুরগি আছে অপরদিকে রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়াপালং গ্রামের খামারি সাহাব উদ্দিন জানান, আমার খামারে ২ হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খাদ্য, ওষুধ ও খামার সামগ্রীর বর্তমান বাজার দাম আকাশ চুম্বি হওয়ায় ব্যবসায়িরা রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার দায়িত্বরত সরকারী পশু কর্মকর্তার কোনো সহযোগিতায় না পাওয়ায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে পোলট্র্রি খামার থেকে সরকার প্রতিবছর প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য পোলট্রি খামারের প্রতি সু-দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলার খামার ব্যবসায়িরা।

Post a Comment

0 Comments