Advertisement

মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচার রোধ করা যাবে কি?

উখিয়া প্রতিনিধি
পাশর্্ববতর্ী দেশ মিয়ানমারের তৈরি মরণঘাতী ট্যাবলেট ইয়াবার বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বানিজ্যিক এলাকা সহ পাড়া

মহল্ল্লায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ঢুকছে ইয়াবার চালান। শত চেষ্টার পর ও রোধ করা যাচ্ছেনা ইয়াবা পাচার। সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ইয়াবা সিন্ডিকেটের অধিকাংশই রোহিঙ্গা যুবক-যুবতী ইয়াবা পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে। ইতিপূর্বে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেক পোষ্টে দায়িত্বরত বিডিআর কক্সবাজারমুখী একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাসী চালিয়ে ৩ হাজার ইয়াবা সহ ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে থানায় সোর্পদ্দ করার পরও আটককৃতদের মুখ থেকে তার নাম বেরিয়ে আসে। সোনারাপাড়া রেজুর মোহনা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে গোপনে এ অবৈধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রন করছে। উখিয়া টেকনাফ সীমান্তের মাদক ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উখিয়া উলুবনিয়া, ধামনখালী, টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া সাম্পানঘাট, টেকনাফ বন্দর, শাহপরীরদ্বীপ দিয়ে প্রতিদিন ইয়াবার চালান অনায়াসে পাচার হয়ে এসে স্থানীয় সিন্ডিকেটর হাতে চলে যায়। পরে সুযোগ বুঝে রোহিঙ্গা যুবক যুবতীরা এসব ইয়াবার সড়ক পথে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকার বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাতে পৌঁছে দেয়। সূত্রে জানা গেছে, ৯০ দশকে নেশার জগতে প্রবেশ করে ইয়াবা। শুরুতে দুবাই, পাকিস্তান থেকে ল্যাগেজ পার্টির মাধ্যমে এসব ইয়াবা এদেশে প্রবেশ করলেও তা ছিল ব্যয় বহুল ও সীমিত। এসময় এক একটি ইয়াবা টেবলেট ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার সুবাদে ইয়াবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল নগন্য। ২০০৫ সালে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে এসব ইয়াবা টেবলেট তৈরি শুরু হয়। মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নেশা জাতীয় উপকরণ ও কাচাঁমাল দিয়ে স্বল্প ব্যয়ে ইয়াবা তৈরি করে এদেশে পাচার করতে থাকে। মিয়ানমারের তৈরি এক একটি টেবলেট এ সময় ১৩/১৪ টাকায় বিক্রি হত বলে জানা গেছে। এসব ইয়াবা সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে টেকনাফে আসার পর এক একটি ইয়াবার পেছেনে ঘুষ লেনদেন সহ ৭০/৭৫ টাকা মূল্য দাড়াঁলেও এসব ইয়াবা কক্সবাজার চট্টগ্রামে ৩ শত টাকায় অনায়াসে লেনদেন শুরু হয়। ব্যাপক চাহিদা ও অল্প পুঁিজতে বেশী লাভবান হওয়ার সুবাদে ইয়াবা পাচারে ঝুকে পড়ে শিক্ষিত যুব সমাজক বর্তমানে ইয়াবা পাচার ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পাড়ার কারণে রোহিঙ্গা যুবক যুবতী সহ দেশের অভিজাত পরিবারের যুবক যুবতীরাও টু-পাইস ইনকাম করার জন্য ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উখিয়া সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল ছত্রধর ত্রিপুরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেশকিছু রোহিঙ্গা নাগরিক ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হওয়ার খবর আমাদের কাছে এসেছে। এগুলো যাছাই বাছাই করা হচ্ছে। জড়িতদের শ্রীঘ্রই গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।

Post a Comment

0 Comments