Advertisement

যারা যুদ্ধ ন গরে তারাই সুবিধায়

বীর মুক্তিযোদ্ধার সংসার চলে ডিম বিক্রি করে
মোবারক উদ্দিন নয়ন
স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই এখনো কোন প্রকার স্বীকৃত পায়নি। যুদ্ধাহত অবস্থায় বেঁচে গেলেও কর্মাৰম অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকে। দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা প্রকার সুবিধা দিলেও সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকই তা থেকে
বঞ্চিত। এমন একজন বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা, নেপাল পাল (৬৬)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার কালুরঘাট এলাকার ঘুমদন্ডি ইউনিয়নের পালপাড়ার মৃত পূর্ণচন্দ্র পালের ছেলে।
১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২২ বছর বয়সী টগবগে যুবক নেপাল পাল ১নং সেক্টরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে বিহারীদের সাথে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীদের ভারতের বিভিন্ন শিবিরে পেঁৗছে দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ভারতের হরিণা, বেতেগা, শানত্দি বাজার, বোরা পাহাড় এবং শিবিরে শরণার্থী পেঁৗছে দেন। সর্বশেষ অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখে সীতাকুন্ড উপজেলার বহদ্দারঘাট এলাকার কমলডর দীঘি নামক জায়গা থেকে নেপাল পালসহ ৩ মুক্তিযোদ্ধাকে পাক বাহিনী গ্রেফতার করে। লাইনে দাঁড় করিয়ে সকাল ১০টায় গুলি চালালে সাথে থাকা ২ সৈনিক মুহুর্তের মধ্যে মারা গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দীঘিতে মৃত ভেবে ফেলে দেয় তাকে। বিকাল ৫টায় নিজের জ্ঞান ফিরে এলে দীঘির থেকৈ উঠে লোকালয়ে প্রবেশ করে মেরম্নদন্ডে এবং ঘাড়ে গুলি লাগার কারণে এখনো তিনি সোজা হয়ে দাড়াতে পারেন না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে চলে আসেন নেপাল পাল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ইঞ্জিন মেকানিক হলেও শারিরীক অৰমতার কারণে তিনি কোন কাজ করতে পারেননি বলে জানান। স্ত্রী ও ৫ ছেলে মেয়ের সংসারের ঘানি টানতে বর্তমানে তিনি ডিম বিক্রয় করে শহরের পৌরসভার সামনে। তিনি আৰেপ করে বলেন 'অ বাজি দেশর লাই যুদ্ধ গরি আঁই কিছু ন পাই, যারা যুদ্ধও ন গরে তারা আজিয়া মুক্তিযোদ্ধা'। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নেপাল পাল অনেককেই বললেও সবাই তাকে আশ্বস্থ করেছে কেউ তাকে কোন প্রকার কোন প্রকার সাহায্য করেনি। শহরের ঘোনার পাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকা নেপাল পালের শেষ ইচ্ছা হল তিনি যেন মৃতু্যর আগে হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায় এবং শেষ বয়সটা যেন একটু শানত্দিতে কাটাতে পারেন।
আমরা বাঙালী জাতি আজ স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। কিন্তু যারা এদেশ শত কষ্টের মাধ্যমে স্বাধীন করেছে তারা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা কি সম্মানের দাবি রাখে না? তারা কি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য নয়? শেষ জীবনেও কি তারা মানবেতর জীবন যাপন করবে? কে বা কারা দেবেন এই প্রশ্নের উত্তর?

Post a Comment

0 Comments