Advertisement

জলদসু্য উৎপাত প্রতিকারের দাবি চলছে জেলে আন্দোলন

মোবারক উদ্দিন নয়ন
কক্সবাজারের জেলে ও ট্রলার মালিকরা ১৫ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতিসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বঙ্গোপসাগরে জলদসু্যদের তাণ্ডব বন্ধ, অপহূত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সাগরে ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৫ জানুয়ারি থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিৰোভ মিছিল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও, নৌ-অবরোধ, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বেচাকেনা বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
 তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারে ডাকাতি ও মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের অপহরণ অব্যাহত রয়েছে। ১০ দিনে ১২টি ট্রলার ও দুই শতাধিক জেলে ডাকাতি ও অপহরণের শিকার হয়েছে।
তিনি জানান, জলদসু্যরা মুক্তিপণ হিসেবে জেলে প্রতি ৫ লাখ টাকা করে দাবি করে আসছে। এ অবস্থায় জলদসু্যদের অব্যাহত ডাকাতি ও অপহরণ বন্ধ এবং বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। কক্সবাজারের ফিশিং বোট মালিক ও শ্রমিকরা জানান, ১০ দিনে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১২টি ফিশিং ট্রলার ও দুই শতাধিক মাঝি-মালস্নাকে অপহরণ করেছে জলদসু্যরা।
এর মধ্যে এফবি ওমর ছাদেক-২, এফবি ছেনোয়ারা-৪, এফবি আল সোলতান, এফবি মোমেনা, এফবি আফসিয়া, এফবি মোসাইবা, এফবি গ্লোব, এফবি ফারদিন ও এফবি জাওয়াদ নামের ট্রলার মালিকরা কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। খুলনার মহিপুর মোহনা থেকে ফিরে আসা করিম মাঝি জানান, যে সব ট্রলার অপহরণ করা হয়েছে, তা শ্রমিকসহ সুন্দরবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জলদসু্যদের সঙ্গে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকার আবদুল গফুর নাগু, জাম্বু, কেরামত আলী, জালাল ও কুতুবদিয়ার রমিজ বাহিনীর যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া মোহনা থেকে ফিশিং ট্রলারসহ শ্রমিকদের অপহরণ করে তা সুন্দরবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই এলাকার জলদসু্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অনেক ট্রলার মালিক গোপনে জলদসু্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দিয়ে ট্রলার ও জেলেদের ছাড়িয়ে আনেন বলেও তিনি জানান।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে ৪ শতাধিক ফিশিং ট্রলারের শ্রমিক সাগ্ররে নিখোঁজ হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপহরণের শিকার হলেও তারা আর ফিরে আসেনি। বঙ্গোপসাগরের মহিপুর, পাথরঘাটা, কুতুবদিয়া ও সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদসু্যরা এ তাণ্ডব চালাচ্ছে। কোনো জেলে জলদসু্যদের ব্যাপারে তীরে এসে কোনো তথ্য দিলে পরবর্তীতে ওই ফিশিং ট্রলারকেই অপহরণের শিকার হতে হয়। ফলে কোনো জেলে তাদের ব্যাপারে মুখ খুলতে চায় না।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, ঘটনাটি তারা জেনেছেন। সাগরে অভিযান চালানোর মতো সাপোর্ট পুলিশের না থাকায় পুলিশ দ্রুত সেখানে পেঁৗছুতে পারে না। তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments