Advertisement

বিএনপির গণমিছিলে পুলিশের গুলি: চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে নিহত ৩, আহত কয়েকশ


ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি: রোববার চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বান্দরবান, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কয়েকশ। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বিভিন্ন স্থানে এখনও সংঘর্ষ চলছে।
আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহম্মদ মানিকের আহবানে স্থানীয় হাসান আলী হাইস্কুল মাঠে এক সমাবেশের আহবান করা হয়। পুলিশ সকাল থেকেই সভাস্থলে অবস্থান নেয় এবং সমাবেশ করতে নিষেধ করে।
এ সময় সমাবেশকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সবাবেশ করতে চাইলে শুরু হয় সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় লিমন (২৫) ও আবু মৃধা (৬৫) গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন।
সমাবেশকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার পুড়িয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং বিভিন্ন স্থানে তারা পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। দুপুর ১টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে।
এদিকে আমাদের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে চারদলীয় জোটের গণমিছিলে পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো চারজন। রোববার বেলা ১১টায় শহরের দক্ষিণ তেমুহনীতে চারদলীয় জোটের গণমিছিলে পুলিশ বাধা দিলে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষকালে চারদলীয় জোটের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া পাঁচ পুলিশ ও তিন  সাংবাদিকসহ কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুলিবিদ্ধদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে যুবদল কর্মী রবিউল ইসলাম রকি মারা যান। অন্যান্যদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, রোববার দেশব্যাপী বিএনপির গণমিছিল ছিল। শনিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

Post a Comment

0 Comments