মোবারক উদ্দিন নয়ন
ইংরেজী নববর্ষকে স্বাগত ও বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে পর্যটকের মহামিলন ঘটেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। ৩১ ডিসেম্বর বিকেলের পর থেকে মহাকালের গর্ভে বিলীন হতে যাওয়া ২০১১ সালের সূর্যাস্তকে স্বচক্ষে অবলোকনের মাধ্যমে স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় করে রাখতে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা। পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি আর ঝাউবাগান।
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা, উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও জনতার উচ্ছ্বাসে বছরের শেষ সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কানায় কানায় ভরে উঠেছিল দেশী-বিদেশী পর্যটকে। প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারী ও নিরাপত্তা বেষ্টনিতে কক্সবাজার শহরকে নিরাপত্তার ছাদরে ঢেকে ফেলে পুলিশ প্রশাসন। অতীতের যে কোন সময়ে চেয়ে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে এবং থার্টি ফাস্ট নাইট উদ্যাপনে কক্সবাজারে প্রচুর লোকের আগমন ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের ১০ টি পয়েন্টে বসানো হয় অনুসন্ধান টিম। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কমিনিউটি পুলিশ, ডিবি, ডিএসবি, সেনা গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল শহরজুড়ে।
আনন্দ উল্লাস, চিত্রবিনোদন এবং ২০১১ সালকে বিদায় ও ২০১২ সালকে স্বাগত জানানোর জন্য এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়। এদিকে ডিস্কো, হট ড্যান্স, ডিজে, সাম্বা, ফায়ার ওয়ার্ক আর লেজার শো অনুষ্ঠিত হয় তারকা মানের হোটেল গুলোতে। এমন কি কোন কোন হোটেলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিয়ে এসেছে আইডলরা। নতুন ইংরেজী বর্ষ বরণ ও পুরনো বর্ষকে বিদায় জানাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্ণিল অনুষ্টানমালার আয়োজন করেছিল টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান। হোটেল মোটেল জোনের তারকা মানের হোটেল গুলোতেও চলে ডিজে পার্টি, ফ্যাশন শো ও পপ নৃত্য সহ হরেক বকমের পশ্চিমা ধাচের অনুষ্টান মালা ।
জানা গেছে, থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে দেশী-বিদেশীপর্যটকদের ভ্রমণ ছড়িয়ে পড়ে দেশের পাথুরে বীচ ইনানী, পাহাড়ী ঝর্না সমৃদ্ধ হিমছড়ি, পাহাড়ঘেরা দরিয়া নগর, ইতিহাস সমৃদ্ধ আদিনাথ মন্দির, রামুর রামকোর্ট, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক এমনকি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনেও। তবে প্রতি বছর পর্যটকদের একটি বিশাল অংশ প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে খাবার হোটেল, রিক্সাচালক, টমটম চালক, সমুদ্র সৈকতের ছাতা, ক্যামরা ওয়ালা, পর্যটন স্পট হিমছড়ি পিকনিক স্পট, হিমছড়ি যাদুঘর আর সমুদ্র সৈকতের গলফ্ মাঠের পিকনিক স্পটে ইজারাদার কর্তৃক। সেসব জায়গায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নিলেও প্রশাসন তা প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


0 Comments