হুমায়ুন ছিদ্দিকি
Human শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে। We are human বলতে বুঝায় আমরা দুর্বল ও পাপি এবং যখন বলা হয় Let us be human এটা এমন একটা আবেদন হিশেবে উচ্চারিত হয় যা মানুষকে উচ্চমার্গিয় ভালোত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা স্মরন করিয়ে দেয়। য়ুরোপিয় জ্ঞানতাতি্বক ড. আলিয়া আলি ইজ্জত বেগোভিচ বহু গোত্র সমপ্রদায়ে বিভক্ত মানবজাতির মধ্যে নু্যনতম ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পৃথিবিকে সমৃদ্ধি ও সম্পৃতির মধ্যে বসবাসযোগ্য রাখতে মানুষকে মানবিক হওয়ার অবিকল্প শর্তের কথাই উচ্চারন করেছেন মাত্র। জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট বলেছেন "মানুষের যাবতিয় সিদ্ধির উতকর্ষ অপকর্ষ মানবতার মুল ভুমিতেই নির্নয় করে নিতে হবে।" কালো-ধলো, লম্বা-খাটো, পরিপুর্ন-প্রতিবন্ধি, ধনি-গরিব, শ্রমিক-মালিক, আশরাফ-আতরাফ জ্ঞানি-মুর্খ, পাপি-সুফি, ধর্মহিন-ধর্মপ্রান সকলেই 'মানুষ' নামের অবিভাজ্য বিস্ময়কর প্রপঞ্চের মধ্যে নি:শেষে নিমিলিত। এ নিরেট সত্য নির্বিশেষে সব মানুষেরই স্মরন রাখা কর্তব্য। সমঝদার মানুষের ক্ষেত্রে এটি দায় হিশেবে প্রযোজ্য।
মনোদৈহিক ততপরতায় মানুষ মুলত নারি ও পুরুষে বিভক্ত। তবে ক্রোমোজমের ত্রুটির কারনে নারি ও পুরুষের পাশাপাশি উভয় লিঙ্গের মানুষও নারি পুরুষের সমসাময়িক। শারিরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধির মতো এদেরকে যৌনপ্রতিবন্ধি হিশেবেও সনাক্ত করা যায়। এই যৌনপ্রতিবন্ধি মানুষদেরই বলা হয় হিজড়া বা তৃতিয়লিঙ্গ। নারি ও পুরুষের মতোই হিজড়াও প্রকৃতির স্বাভাবিক উপজাত।
মানব সমাজে নানা অনৈতিক বৃত্তি আবহমান কাল থেকেই বিদ্যমান। সমাজে এমন
মানুষও রয়েছে যারা বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে সমলিঙ্গ অথবা উভয় লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন বোধ করে। আবার এমন মানুষও রয়েছে যারা কারো প্রতিই আকর্ষন বোধ করেনা। এতে বিকৃতির প্রশ্ন তোলা অবান্তর। এই বৈচিত্র নিয়েই বিশ্বপ্রকৃতির তাবত লিলাযজ্ঞ। আমরা যতই এর ভুল ব্যাখ্যা করি, অস্বিকার করি অথবা বিচু্যত করি তাতে করে প্রকৃতি থেকে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবেনা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নবি লুত এর সমপ্রদায়কে সমকামিতার শাস্তি হিশেবে আল্লাহ তাআলা তাদের ভুখন্ড উল্টে দিয়ে ধংস করে দিয়েছিলেন। তথাপি আজ পর্যন্তও মানব সমাজ থেকে এ প্রবৃত্তি নিমর্ুল করা যায়নি। মানুষের মধ্যে পশুত্ব আছে কিন্তু তা মানুষের একটি দিকমাত্র। একটি বিকৃত দিকের জন্য পুরো মানুষটাকে প্রত্যাখ্যান করা যায়না। সমাজে এসব ততপরতার সংক্রমন রোধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গমনাগমনের গোপন পথ সংকুচিত করতে হবে। আর সেটা করতে গেলে সমাজে তাদের সম্মানজনক মুক্ত গমনাগমন, পুনর্বাসন এবং তাদের সাভাবিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা দরকার, আবিষকৃত এবং আবিষকৃতব্য সমস্ত বিজ্ঞান আর ধর্ম মিলে যা মানুষ তার চেয়েও বেশি কিছু। কবির ভাষায় "মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই নহে কিছু মহিয়ান।"
মানুষও রয়েছে যারা বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে সমলিঙ্গ অথবা উভয় লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন বোধ করে। আবার এমন মানুষও রয়েছে যারা কারো প্রতিই আকর্ষন বোধ করেনা। এতে বিকৃতির প্রশ্ন তোলা অবান্তর। এই বৈচিত্র নিয়েই বিশ্বপ্রকৃতির তাবত লিলাযজ্ঞ। আমরা যতই এর ভুল ব্যাখ্যা করি, অস্বিকার করি অথবা বিচু্যত করি তাতে করে প্রকৃতি থেকে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবেনা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নবি লুত এর সমপ্রদায়কে সমকামিতার শাস্তি হিশেবে আল্লাহ তাআলা তাদের ভুখন্ড উল্টে দিয়ে ধংস করে দিয়েছিলেন। তথাপি আজ পর্যন্তও মানব সমাজ থেকে এ প্রবৃত্তি নিমর্ুল করা যায়নি। মানুষের মধ্যে পশুত্ব আছে কিন্তু তা মানুষের একটি দিকমাত্র। একটি বিকৃত দিকের জন্য পুরো মানুষটাকে প্রত্যাখ্যান করা যায়না। সমাজে এসব ততপরতার সংক্রমন রোধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গমনাগমনের গোপন পথ সংকুচিত করতে হবে। আর সেটা করতে গেলে সমাজে তাদের সম্মানজনক মুক্ত গমনাগমন, পুনর্বাসন এবং তাদের সাভাবিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা দরকার, আবিষকৃত এবং আবিষকৃতব্য সমস্ত বিজ্ঞান আর ধর্ম মিলে যা মানুষ তার চেয়েও বেশি কিছু। কবির ভাষায় "মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই নহে কিছু মহিয়ান।"
নামায়ন
আরবি 'হিজর' শব্দের অর্থ নিজ গোত্র ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া। হিজড়ারা নিজ সমাজ সংসার ত্যাগ করে আলাদাভাবে সমাজ গঠন করে বসবাস করে বলে এদের বলা হয় হিজড়া। হিজরা শব্দটি উদর্ু হিন্দি ও বাংলায় হিজড়া হিশেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হিজড়ার বাংলা প্রতিশব্দ খোজা. হোজ্জা, ক্লিব, বৃহন্নলা, কিন্নর, নপুংশক ইত্যাদি। ইংরেজিতে বলা হয়Eunuch, Hermaphrodite ইত্যাদি। আরবিতে খুনসা, তেলেগু ভাষায় ম্যাদা, কোজা, নাপুনসাকুডু ইত্যাদি। কলকাতায় দুরানি, কোচিনে মেনকা, তামিলনাড়ুতে থিরু নানগাই, গুজরাটে পাভাইয়া, পাঞ্জাবে খুচরা, খাচড়া, ঝাংখা এবং ভারতের অন্যান্য এলাকায় এরা অরুভানি নামে পরিচিত। পাকিস্তানে এদের বলা হয় জেনানা এবং নেপালে মোতি। রাষ্টৃয় পরিভাষায় তাদের পরিচিতি তৃতিয় প্রকৃতি, তৃতিয় লিঙ্গ, যৌন প্রতিবন্ধি এবং ইংরেজিতে Hidden Sex, Third Sex ইত্যাদি।
হিজড়া পুরান
গৃক ও ভারতিয় পুরানে হিজড়াদের নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন কল্পকাহিনি। খৃস্টপুর্ব ৩২৩ অব্দের দিকে হেলেনিক যুগের গৃক পুরানে বর্ননা করা হয়েছে, Hermes এবং Aphrodite দম্পতির সুদর্শন পুত্র Hermaphroditas কে দেখে প্রেমান্ধ হন এক উপদেবি। এই উপদেবি দেবতার কাছে প্রার্থনা করেন, হার্মাফ্রোদিতাসের সঙ্গে চিরতরে একিভুত হওয়ার। দেবতা এই প্রার্থনা মনজুর করেন। ফলে এই উপদেবি এবং হামর্াফ্রোদিতাসের সংমিশ্রনে সৃষ্টি হয় অর্ধেক নারি অর্ধেক পুরুষ বৈশিষ্টের একজন মানব। এ কারনে হিজড়ার ইংরেজি প্রতিশব্দ Hermaphrodite যার অর্থ উভয়লিঙ্গ। ইংরেজি Eunuch শব্দ দিয়েও বুঝানো হয় যাদের জননাঙ্গ স্বাভাবিক নয়।
ভারতিয় পুরানে রামায়নের কাহিনিতে বলা হয়েছে, রানির চক্রান্তে চৌদ্দ বছরের নির্বাসনদন্ড মাথায় নিয়ে রাজা রামচন্দ্র অযোধ্যা ছেড়ে যাওয়ার সময় শোকাতুর নাগরিকরা বিদায় জানাতে নগরির প্রান্ত পর্যন্ত আসে। রামচন্দ্র সকল নারি এবং সকল পুরুষকে বাড়ি ফিরে যেতে বললে তারা বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু না নারি না পুরুষ প্রকৃতির কিছু মানুষ বাড়ি ফিরে না গিয়ে চৌদ্দবছর পর্যন্ত রামের অপেক্ষায় থাকেন । রাম ফিরে এসে তাদের ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে বর দিলেন "সংসার জিবন থেকে বিচু্যত হলেও মানুষের জন্ম বিবাহাদিতে চিরকাল তারা আশির্বাদ করতে পারবে। সেই থেকে হিজড়ারা নবজাতক আর বিয়েবাড়িতে নেচেগেয়ে বেড়ায় সামান্য সেলামির আশায়।"
মহাভারতের মহাবির অজর্ুনের আরেক নাম বৃহন্নলা বা নিস্ফলা। বিরযোদ্ধা অর্জুনকেও দেবতার অভিশাপে নির্বাসনের শেষ পাঁচবছর কাটাতে হয় বিরাট রাজার প্রাসাদে বৃহন্নলা বা হিজড়ার বেশে। সেখানে তিনি পুরনারিদের নৃত্যগিত পরিবেশন করে আনন্দ দিতেন এবং তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষন দিতেন।
পৃথিবির অধিকাংশ হিজড়ার সবচেয়ে বড় দেবির নাম বহুছাড়ামাতা। ভারতের গুজরাটে অবস্থিত এর মন্দিরই হিজড়াদের তির্থস্থান। তাদের বিশ্বাস, বহুছাড়ামাতা দেবির কারনেই তাদের সৃষ্টি। এই দেবিই তাদের পালনকর্তা। এই দেবিকে নিয়ে প্রচলিত বহু কাহিনির একটি হলো - একবার দেবি তার বাসনা পুরনার্থে রুপসি রাজকন্যা রুপে ধরাধামে আসেন। এখানে তার বিয়ে হয় সুদর্শন এক রাজপুত্রের সঙ্গে। কিন্তু স্ত্রির সঙ্গে মিলনের সময় রাজপুত্রকে খুজে পাওয়া যায়না। রেগেমেগে দেবি তাকে খোজা করে দেন এবং শাপ দেন যাতে তার দিন কাটাতে হয় বনে জঙ্গলে এবং আচার আচরন হয় মেয়েদের মতো। তখন থেকেই হিজড়ারা সমাজচু্যত এবং চালচলনে মেয়েদের মতো।
দক্ষিন ভারতের আরেক কাহিনিতে দেখা যায়, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগেই দেবতার বর নিয়ে পান্ডব পক্ষের জয় নিশ্চিত করতে নিজের জিবন উতসর্গ করার মনস্থ করেন পঞ্চপান্ডবের অন্যতম মহাবির অরুভানি। দেবি কালি তার এই প্রার্থনা মনজুর করেন। কিন্তু মৃতু্যর আগে অরুভানি এমন একজনকে বিয়ে করতে চান বিয়ের এক ঘন্টার মধ্যেই যার মরন লেখা হয়ে আছে। এরকম কোন মেয়েকেই পাওয়া গেলনা। উপায় না দেখে অরুভানির এই বর রক্ষার্থে ভগবান কৃষ্ণ নিজেই নেমে এলেন মর্তে। কৃষ্ণ ধারন করলেন মোহিনি নামের এক অপরুপ নারির রুপ। এই মোহিনি রুপি কৃষ্ণের সঙ্গে মহা ধুমধামে বিয়ে হয় অরুভানির। দক্ষিন ভারতে এই অরুভানিই হিজড়াদের আরাধ্য দেবতা। বাইবেলে (ম্যাথূ ৯.১২) যিশু বলেছেন "তোমাদের মাঝে এমন অনেকে আছে যারা জন্ম থেকেই খোজা, আবার এমন অনেকে আছে যাদের উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে খোজা বানানো হয়েছে, আবার এমনও অনেকে আছে পবিত্র ইশ্বরের প্রতি প্রেমে নিবেদিত হয়ে যারা নিজেরাই খোজা করেছে নিজেদের।
হিজড়া : লিঙ্গের জটিলতা
হিজড়াদের পরিচয় সম্পর্কে লিসানুল আরব ৪র্থ খন্ডে বলা হয়েছে, যাদের একইসাথে একটি পুরম্নষাঙ্গ ও একটি নারি যৌনাঙ্গ রয়েছে তারাই হিজড়া। আলমুগনি ৬ষ্ঠ খন্ডে বলা হয়েছে, যাদের পুর্ন পুরম্নষ লিঙ্গের সহিত অপুর্ন নারি যৌনাঙ্গ এবং অপুর্ন পুরম্নষাঙ্গের সহিত পুর্ন নারি যৌনাঙ্গ অথবা শুধু অপুর্ন পুরম্নষাঙ্গ বা অপুর্ন নারি যৌনাঙ্গ রয়েছে তারাই হিজড়া। একই গ্রন্থে বিসত্দারিতভাবে চার ধরনের জটিল হিজড়ার কথা বলা হয়েছে। (১) যাদের নারি পুরম্নষ উভয় যৌনাঙ্গ রয়েছে এবং প্রস্রাব করে উভয়টি দিয়ে। (২) যাদের নারি পুরম্নষ উভয় যৌনাঙ্গ রয়েছে কিন্তু কোনটির বাহ্যিক প্রভাব নেই। (৩) যাদের পুরম্নষাঙ্গের স্থানে সামান্য মাংসপিন্ড ও নারি অঙ্গের স্থানে ছিদ্র বিশেষ রয়েছে। (৪) যাদের সম্মুখভাগে কোন অঙ্গই নেই এবং পায়ুপথ দিয়েই প্রস্রাব পায়খানা উভয় কর্ম সম্পাদন করে।
আচরণগত দিক থেকে বলা যায়, হিজড়ারা পুরম্নষ হিসেবে জন্মায় কিন্তু বেঁচে থাকে নারির মত, পোশাক পরে নারির, আচার আচরনেও নারি।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্য
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের লিঙ্গ জটিলতার কারন সানাক্ত করতে পেরেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানিদের মতে মানুষের শরিরে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে এরমধ্যে ২টি ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে। স্ত্রি দেহকোষের লিঙ্গ নির্ধারক দুটিই x ক্রোমোজোম। আর পুরম্নষের একটিx অপরটিy। যদি বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকে একটিx অর্থাৎ xx যৌথ ক্রোমোজোম পায় তবে শিশুটি মেয়ে হবে এবং মায়ের কাছ থেকে y এবং বাবার কাছ থেকে x অর্থাৎ xy ক্রোমোজোম পেলে ছেলে হবে। তবে অনেক সময় ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিক মিলনের ফলে লিঙ্গ নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। অনির্ধারিত লিঙ্গের এই শিশুটিকেই বলা হয়ে থাকে হিজড়া।
২০০৩ সালে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত সার্ক পিপলস ফোরামের তৃতিয় সভায় মালয়েশিয়ার পেস্টিসাইডস এ্যাকশন নেটওয়ার্ক এশিয়া প্যাসিফিকের পরিচালক সরোজিনি এক তথ্যে জানান, ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক কিটনাশক এন্ড্রো সালফেইন মারাত্মক ৰতি করছে মানুষের প্রজনন অঙ্গের। এ কারণে শিশুদের প্রজনন অঙ্গ পূর্ণ বিকাশ হতে পারছেনা। ফলে ক্লিব বা হিজড়া শিশু জন্ম নিচ্ছে।
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরম্নষাঙ্গ অপসারণ করে হিজড়া হওয়া যায় এবং কৃতৃম পুরম্নষাঙ্গ প্রতিস্থাপন করে পুরম্নষ হওয়া যায়। জরায়ু না থাকায় এ পদ্ধতির মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করা গেলেও প্রজনন ৰমতা রহিত হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবির বিভিন্ন দেশে লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় নারি পুরম্নষের ভারসাম্য এমনকি মানুষের অসত্দিত্ব বিপন্নতামুখি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন পরিসংখ্যানবিদরা। পুরান ঢাকার হিজড়াদের গুরম্ন দিপালি জানান, ৯-১০ বছর বয়সে কেরানিগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। কয়েকদিন পর হিজড়াদের গুরম্ন মা হিসেবে পরিচিত মনু হিজড়া তাকে ভারতের কলকাতায় নিয়ে যায় এবং হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে হিজড়ায় পরিণত করা হয়। এরপর কয়েকদিন তাকে লুকিয়ে রেখে হিজড়া হিশেবে নিজেদের দলভুক্ত করে নেয়। যাত্রাবাড়ি এলাকার হিজড়া নেতা আবুল হোসেন জানান, ১৯৮৪ সালে হিজড়া নেতা মনু বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে বালিয়া এলাকার একটি হাসপাতালে তাকে জোরপূর্বক ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশন করে হিজড়ায় পরিণত করা হয় এবং পরে হিজড়া দলভুক্ত করা হয়।
অজয় মজুমদার ও নিলয় বসু সম্পাদিত 'ভারতের হিজড়া সমাজ' গ্রন্থে সর্ব ভারতিয় হিজড়াকল্যান সভায় সমিৰা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবছর ছয় থেকে পচিশ বছরে আশি হাজার পুরম্নষ অবৈজ্ঞানিক পন্থায় অন্ডকোষসহ পুরম্নষাঙ্গ কেটে হিজড়া হচ্ছে। এদের প্রায় অর্ধেকই চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। ভারতিয় সাংবাদিক আর নুরম্নলস্নাহর লেখা একটি গ্রন্থে উলেস্নখ করা হয়েছে, ভারতে মোট এগার লৰ হিজড়া রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ জন্মগত হিজড়া।
অপরদিকে ২০১১ সালের ২৯ জুন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডট কম পরিবেশিত এক সংবাদে দেখা যায়, বাবা মায়ের ছেলে সনত্দানের প্রতি অধিক আগ্রহের কারণে ভারতে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে যুবতি মেয়েদের লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলেতে রূপানত্দর করা হচ্ছে। দ্য টেলিগ্রাফর সংবাদ সংস্থা আরো জানায়, শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে তিনশ মেয়েকে বালকে রম্নপানত্দরের জন্য দেশটির কর্তৃপৰ ইনদোর এবং মধ্যপ্রদেশের চিকিৎসকদের অভিযুক্ত করেছে। এরকম প্রতিটি অপারেশনের জন্য তারা নিচ্ছেন তিনহাজার দুইশ ডলার করে। ইন্দোরে ভারতের শিশু একাডেমির প্রধান ড. ভিপি গোস্বামি বলেন, কৃতৃমভাবে যৌনাঙ্গ প্রতিস্থাপনের কারনে সনত্দান জন্মদানের ৰমতা লুপ্ত হয়ে যায় এবং শিশুদের চরিত্রে সামাজিক ও মনসত্দাতি্বকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভারতে ইতোমধ্যে লিঙ্গগত অসমতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ছয়বছর বয়সি মেয়ে শিশুর তুলনায় ছেলে শিশুর সংখ্যা সত্তর লাখেরও বেশি। তবে খোজা করনের পৰে বাংলাদেশে সামাজিক ও আইনি কোন স্বিকৃতি নেই। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় লিঙ্গছেদনকে Grievous Hurt হিশেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
হিজড়াদের কর্মপ্রবাহ
প্রাচিনকাল থেকেই হিজড়াদের ছিল নিজস্ব কর্মপ্রবাহ। চারহাজার বছর পূর্বে সুমেরিয় সভ্যতায় রাজ্যের গরিব পরিবারগুলো বড় চাকুরির আশায় তাদের একটি ছেলেকে রাজদরবারে পাঠাতো। এসব ছেলেকে খোজা করে প্রশিৰণের মাধ্যমে দৰ কর্মিতে পরিনত করা হতো। লিঙ্গ অপসারনের কারনে জৈবিক কামনা বাসনা বিলুপ্ত হতো তাদের। ফলে এরা হতো সহজে বশ্য এবং বিশ্বসত্দ। রোমান সাম্রাজ্যের প্রায় সব সম্রাটের আমলেই স্নান, প্রাতকৃত্যসহ ব্যক্তিগত কার্যাদি সম্পাদনে সার্বৰনিক সাহায্যকারি হিশেবে নিয়োগ পেতো খোজারা। বাইজান্টইন আর চিনের রাজদরবারেও খোজা বা হিজড়াদের ছিল বিশেষ কদর। ভারতবর্ষেও হিন্দু সমাজে বছরানত্দে মুখমেহন নামে এক ধরণের আচার পালন করা হতো।
এ উৎসবে সুনির্নিত নারি ও পুরম্নষসত্ত্বা বিহিন মানুষরা অভ্যাগত অতিথিদের মুখমেহন করে স্খলন ঘটাতো। রাজা বাদশাহদের অন্দরমহলের পাহারাদার হিশেবেও তারা কাজ করতো। রাজ পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে এদের অনেকেই হয়ে উঠতো অসাধারণ ৰমতার অধিকারি। ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমল থেকেই এদের প্রভাব ও প্রচলন কমতে থাকে।
নবজাতক ও বিয়ে বাড়িতে নাচগান করে সেলামি আদায়ই হিজড়াদের প্রচলিত প্রধান পেশা। কিন্তু আধুনিক যুগে জন্ম নিয়ন্ত্রন এবং সংস্কার মুক্তির কারণে এ পেশায় হিজড়াদের আয়ের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশে শিৰা ও চাকুরি ৰেত্রে ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাদের। কিন্তু বাংলাদেশে হিজড়ারা সম্পূর্ণ অবহেলিত থাকায় বর্তমানে যৌনতাই তাদের প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে হিজড়ারা ছিনতাই, ডাকাতি, চোরাচালান ও হত্যাসহ বিভিন্ন গর্হিত পেশায় লিপ্ত হচ্ছে।
হিজড়াদের মানবাধিকার
পাশ্চাত্যে এবং মধ্যপ্রচ্যে হিজড়ারা তাদের পরিবারের সাথেই বসবাস করে। ভোগ করে সবরকম নাগরিক সুযোগ সুবিধা। বাংলাদেশ ভারত এবং পাকিসত্দানে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় একতাবদ্ধ হয়ে একজন গুরম্নমার অধিনে বসবাস করে। গুরম্নমা ই তাদের আয়ের পথ নির্ধারন করে দেয়। তবে যে যা ই আয় করম্নক গুরম্নমার কাছে সব জম্ দিতে হয়। গুরম্নমা তাদের প্রয়োজন মতো খরচ পরিবহন করে। কিন্তু এতে করে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ে তাদের ব্যক্তি বাক ও মানবিক স্বাধিনতার সিমানা। অথচ মানবতা হলো মানুষ এবং তার স্বাধিনতার স্বিকৃতি অর্থাত মানুষ হিশেবে তার মুল্য প্রদান।
অজ্ঞতা প্রসুত সংস্কার থেকে প্রাচ্যের দেশগুলোতে হিজড়াদের ব্যাপারে কঠোর ও ঘৃনাত্মক মনোভাব পোষন করা হয়। প্রাচিনকাল থেকে চিনের রাজদরবারে হিজড়ারা যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো ১৯১২ সালে চিন সরকার আইন পাশ করে তা রহিত করে। বৃটিশ আমলে ভারতবর্ষে 'হিজড়ারা শিশুদের ধরে নিয়ে খোজা করে দেয়' এমোন অপপ্রচারের সুত্র ধরে তাদের প্রতি রম্নঢ় আচরন করতো। ১৮৭১ সালের কৃমিনাল ট্রাইব এ্যাক্টের আওতায় হিজড়াদের সনাক্ত করা হয় অপরাধি গোত্র হিশেবে। তাদের জন্য সরকারি খাতায় নাম নিবন্ধন বাধ্যতামুলক করা হয়। তারা কোথায় যায়, কাদের সাথে মিশে- এসব বিষয়ে প্রতিদিন থানায় গিয়ে বিবরন জানিয়ে আসার নিয়ম চালু করা হয়। স্বাধিনতার পর ১৯৫২ সালে এক আইনের মাধ্যমে এ নিপিড়ন মুলক প্রথা রহিত করা হয়। তবে ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডে হিজড়া ও সমকামিদের নাগরিক অধিকার এমনকি পুরম্নষ-এবং নারি-নারির মধ্যে আইনগত বিয়ে ও নিবন্ধন করনের বিধান ঘোষনা করা হয়। ২০১১ সালের ২৪ জুলাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা পরবর্তি ২০ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনিতে প্রকাশ্যে সমকামিতার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষনা দেন। এ ঘোষনার পরদিনই ৮২৩ জুটি সমকামি দাম্পত্য জিবন যাপনের জন্য নিবন্ধনের আবেদন করে।
২০০৯ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের পিপল এ্যান্ড পেস্নইসেস প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতে ১০ লৰাধিক হিজড়ার অধিবাস। সেখানে লোকসভায় ও কয়েকটি পৌরসভায় হিজড়াদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছে। রয়েছে স্বতন্ত্র শিৰা প্রতিষ্ঠান।
পাকিসত্দানে মাত্র কয়েক বছর আগে স্বিকৃত হয়েছে তাদের আইনগত অধিকার। এর পেছনে রযেছে স্মরনযোগ্য ২০০৯ সালের একটি ঘটনা। রাজধানি ইসলামাবাদের অদুরে প্রাচিন নগরি তৰশিলা। আটজন হিজড়ার ছোট একটি দল কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলো। পথিমধ্যে চৌকিতে প্রহরারত পুলিশ তাদের উপর আক্রমন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। বিকৃত রম্নচির পুলিশ দলের হাতে ধর্ষনের শিকার হয় প্রত্যেক হিজড়া। পরের দিন সংবাদপত্রে খবরটি পড়ে চমকে উঠেন ইসলামাবাদের ডাকসাইটে ব্যারিস্টার আসলাম খাকি। ইসলামি আইনের সুপন্ডিত হিশেবে তার রয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। স্বপ্রনোদিত হয়ে হিজড়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আইনি লড়াইয়ে নামলেন তিনি। ফলে পাকিসত্দান সুপৃম কোর্টের সুবাদে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় হিজড়াদের পুর্ন নাগরিক অধিকার। সরকারি নিবন্ধন খাতায় মহিলা এবং পুরম্নষ কলামের পাশে নতুন কলাম চালু করা হয় তৃতিয় প্রকৃতি বা Third Sex শিরোনামে। পাকিসত্দানে কারাবন্দি কয়েদিদের সাথে সাৰাতকালে তাদের সত্দৃরা স্বামির সঙ্গে শারিরিক মিলিত হওয়ার আইন পাশেও রয়েছে ব্যারিস্টার আসলাম খাকির যুগানত্দকারি কৃতিত্ব।
বাংলাদেশে হিজড়াদের ব্যাপারে লিখিত কোন নিতিমালা প্রনয়ন করা হয়নি। সাবেক প্রধান বিচারপতি একেএম নুরম্নল ইসলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকাকালে (১৯৭৭-৮৫) হিজড়াদের পুরম্নষ হিশেবে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো। মহিলারা যেহেতু হিজড়াদের সঙ্গে একলাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেনা তাই হিজড়াদের জন্য পুরম্নষ লাইন নির্ধারন করা হয়। ২০০০ সালে ভোটার তালিকা প্রনয়নের সময় দেশিবিদেশি কিছু হিজড়া সংগঠনের নেতা নির্বাচন কমিশনে যোগাযোগ করে হিজড়া পরিচয়ে ভোট দেয়ার অধিকার দাবি করেন। সে সময় কমিশন থেকে তাদের আশ্বসত্দ করা হয় - হিজড়ারা তাদের ইচ্ছামতো লিঙ্গ পছন্দ করে ভোট দিতে পারবে। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নমুনা শুমারিতে প্রথম বারের মতো পুরম্নষ ও মহিলার পাশপাশি হিজড়া সংযুক্ত করা হয়। ২০০৩ সালের ২৭ অকটোবর 'বাঁধন হিজড়া সংঘ' সেচ্ছাসেবি সংগঠন হিশেবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন পায়। বাংলাদেশে এটিই হিজড়াদের প্রথম রাষ্টৃয় স্বিকৃতি। পাকিসত্দান আমলে বাংলাদেশে হিজড়ারা ৫০ থেকে ১শ টাকা মাসিক ভাতা পেতো। স্বাধনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটি ৬৫ টাকায় উনি্নত করেন। এ ধারা অব্যাহত থাকে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের সময়কাল পর্যনত্দ। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ি বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ১ লৰ ৫০ হাজার। বাঁধন হিজড়া সংঘের তথ্য অনুযায়ি বৃহত্তর ঢাকায় ১০ হাজারের বেশি হিজড়া রয়েছে। বন্ধু ওয়েফেয়ার সোসাইটি ককসবাজার সদর ম্যানেজার জসিম উদ্দিন জানান, পর্যটন জেলা ককসবাজারে আমরা ৫৪ জন হিজড়াকে সামগৃক সেবা দিচ্ছি। ১১ জন হিজড়া আমাদের অফিসে চাকুরি করছে। এখানে তাদের প্রধান গুরম্ন হিজড়া শুক্কুর ফকির।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ৩১২, ৩২৬, ৩৩৭ ধারায় সকল নাগরিকের অধিকার ও সুষ্ঠু জিবন যাপনের বিধান থাকলেও লৰাধিক হিজড়া শিৰা চাকুরি স্বাস্থ্য ও আবাসনসহ সকল মৌলিক মানবাধিকার থেকে আৰরিক অর্থেই বঞ্চিত।
হিজড়াদের অধিকার : ধর্মিয় দৃষ্টিভঙ্গি
প্রায় প্রত্যেক ধর্মই হিজড়াদের অধিকারের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করেছে। মুহাম্মদ (স) এর একটি হাদিসের সুত্র ধরে ফিকাহবিদগন হিজড়াদের অধিকার সুনিশ্চিত করেছেন। নবি বলেছেন : তোমরা তাকে সে অঙ্গ অনুযায়ি সম্পদ দাও যে অঙ্গ দিয়ে সে প্রথম প্রস্রাব করে। আর উভয় অঙ্গ দিয়ে যদি একসাথেই বের হয় তবে যে অঙ্গ দিয়ে বেশি পরিমানে বের হয় সেটাই ধর্তব্য (আল মুগনি ৬ষ্ঠ খন্ড)। আর বাহ্যিক লৰনহিনদের ব্যাপারে সিদ্ধানত্দ হলো : তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে নারি আর পুরম্নষের মধ্যে কার প্রতি সে আকর্ষন বা প্রয়োজন অনুভব করে। সে যার কথা উলেস্নখ করবে, বুঝতে হবে সে তার বিপরিত। সে অনুযায়িই তারা সম্পদ প্রাপ্ত হবে। আর বিবাহের ৰেত্রে, কোন হিজড়ার পুরম্নষাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করার সাথে ঐ অঙ্গের বাহ্যিক বৈশিষ্টাবলি থাকলে সে পুরম্নষ হিশেবে বিয়ে করতে পারবে এবং তার প্রতি পুরম্নষের সব বিধান প্রযোজ্য হবে। ২০০৪ সালে ঢাকায় সাংবাদিক নজরম্নল ইসলামের সাথে এক সাৰাতকারে জাতিয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক বলেন : ইসলামে হিজড়াদের বিরম্নদ্ধে কিছুই নেই। তারাও নামাজ পড়তে পারবে। জামাতে হিজড়ারা পুরম্নষের পেছনে ও মহিলাদের সামনে দাড়াবে। তিনি আরো বলেন : রোজা জাকাত হজসহ সব বিধিবিধান তারা প্রতিপালন করবে। উলেস্নখ্য কলকাতার হিজড়া সম্প্রদায়ের সবের্াচ্চ বিচারক বিজলি ও রেশমা হিজড়া দুজনই হজ করেছেন।
হিন্দুধর্মে হিজড়াদের ব্যাপারে সম্মানজনক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। তাদের অধিকারও দেয়া হয়েছে যথাযথ। গবেষক এসএএম হুসাইন এর সাথে সাৰাতকালে ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামি ভবেশাত্মানন্দ মহারাজ হিন্দুধর্মে হিজড়াদের সম্পত্তি বন্টন বিষয়ে বলেন, অবিবাহিত সনত্দানরা হিন্দু আইনে যেভাবে পিতার সম্পত্তি পান হিজড়ারা সে আইন অনুসারেই সম্পত্তি পাবে। যিনি নিজেকে যে লিঙ্গের মনে করেন তাকে সে লিঙ্গের প্রাপ্য অনুযায়ি সম্পত্তি দিতে হবে। তবে যারা পরিবার ছেড়ে চলে যান তাদের ৰেত্রে সম্পত্তির বন্টন অন্যভাবে হতে পারে।
খৃস্ট ধর্মে হিজড়াদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকলেও তাদের প্রতি উচ্চতর সহানুভুতি ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। ইসাইয়া কিতাবের ৫৬ রম্নকুর ৩, ৪, ৫, ৬ আয়াতে বলা হয়েছে, কোন খোজা লোক না বলুক, আমি কেবল একটি শুকনা গাছ। কারন মাবুদ এই কথা বলেছেন, খোজারা যদি আমার বিশ্রামবার পালন করে , আমি যাই পছন্দ করি তাই বেছে নেয়, আর আমার ব্যবস্থা শক্ত করে ধরে রাখে, তবে তাদের ছেলেমেয়ে থাকলে যে নাম থাকত তার চেয়ে বেশি আমার ঘর ও দেয়ালের ভেতর তাদের নাম স্থাপন করে আমি স্মরনিয় করে রাখব। আমি তাদের এমন চিরস্থায়ি নাম দেবো যা মুছে ফেলা হবেনা। ইঞ্জিল শরিফের পঞ্চম পারার ২৬ থেকে ৪০ আয়াতে বর্নিত আছে, মাবুদ তাঁর ফেরেশতা ফিলিপকে দিয়ে ইথিওপিয়ার এক খোজা রাজকর্মচারিকে তরিকাবন্দি করেন ঐ খোজা ব্যক্তির উপর মাবুদ অপার করম্ননা বর্ষন করেন।
বিখ্যাত হিজড়া ব্যক্তিত্ব
শুধুমাত্র লৈঙ্গিক জটিলতা ছাড়া হিজড়ারা সমপুর্নতই সুস্থ মানুষ। তাদের প্রতি নেতি মানসিকতা আমাদের সামাজিক বিকৃতি ছাড়া কিছুই নয়। যথাযথ শিৰা সহযোগিতা ও প্রনোদনা পেলে হিজড়ারাও কির্তির স্বাৰর রাখতে পারেন- ইতিহাসে এমোন নজির রয়েছে যথেষ্ট। ভারতিয় পুরানের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম মহাবির অর্জুন ও মহাবির অরম্নভানি যে হিজড়া ছিলেন তা ইতোপুর্বে উলেস্নখ করা হয়েছে।
খৃস্টিয় প্রথম শতকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অত্যনত্দ প্রভাবশালি ব্যক্তি ছিলেন স্পোরাস। এই প্রতিভাবান ও অসাধারন শারিরিক সৌন্দর্যের অধিকারি তরম্ননের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন সম্রাট নিরো- যিনি ৬৮ খৃস্টাব্দে আত্মহত্যা করেন। নিরো বিয়ে করার উদ্দেশ্যে স্পোরাসকে খোজা করেন। এমনকি এ ব্যাপারে বাধ সাধলে নিরো তার অনত্দসত্বা রানি সাবিনাকে ৬৫ সালে হত্যা করেন। স্পোরাসকে বিয়ে করে নিরো গৃসে বর্নাঢ্য হানিমুন যাপন করেন। নিরোর আত্মহত্যার পর স্পোরাস পরবির্ত সম্রাট ওথো ও ভিটেলিয়াস এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে রাজকার্যে তার প্রভাব অব্যাহত রাখেন। নৃশংস ও বিকৃত রম্নচির সম্রাট ভিটেলিয়াস স্পোরাসকে সুন্দরি রমনির সাজে সজ্জিত করে জনসমৰে ধর্ষনের পরিকল্পনা করেন। এই অমানবিকতা থেকে নিজেকে বাচাতে স্পোরাস ৭৩ খৃস্টাব্দে আত্মহত্যা করেন।
তৃতিয় শতাব্দিতে গৃস দেশিয় প্রভবশালি খৃস্টান ধর্মযাজক বুদ্ধিজিবি ও পন্ডিত ছিলেন ওরিগান (১৮৫-২৫৪)। সমকালিন অনেক শির্ষ ধর্মযাজকের মতো তিনিও বাইবেলের সেই বানির প্রতি গভির বিশ্বাস পোষন করতেন, যেখানে খোজাদের প্রতি ইশ্বরের বিশেষ করম্ননা ও স্বর্গ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বর্ননা করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত খৃস্টানদের স্বর্গ প্রাপ্তির জন্য কৌমার্যব্রত গ্রহণ বাঞ্ছনিয়। এই বিশ্বাস থেকে তিনি নিজেকে খোজা কেরে নেন। ওরিগান সবরকম প্রলোভন মোহ ও মুগ্ধতার ভয় মুক্ত থেকে চার্চের ছাতৃদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে তাদের শিৰা দিতেন। মৃতু্য পর্যনত্দ তিনি জৈবিক লালসা থেকে মুক্ত শিৰক ও ধর্মতাতি্বক হিশেবে জিবন যাপন করেন। কাইজার ইলাগাবেলাস ছিলেন রোমের কিশোর সম্রাট। তিনি ছিলেন হিজড়া। ২১৮-২২ সালে তিনি ৪ বছর দায়িত্ব পালন করে মাত্র ১৮ বছর বয়সে মৃতু্য বরন করেন। রোমের সম্মানিত নারি পোপ ছিলেন অষ্টম জোয়ান (৮৫৩-৫৫)। তিনিই একমাত্র হিজড়া পোপ।
সপ্তম শতাব্দিতে ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর সময় তার সাহাবিদের মধ্যে কয়েকজন হিজড়াও ছিলেন। বুখারি মুসলিম ও মিশকাত শরিফে হা'ইত ও মা'তে নামে দুজন হিজড়ার কথা বর্ননা করা হয়েছে। যারা মহানবির উপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রি উম্মে সালমার ঘরে এসেছিলেন। সেখানে উপস্থিত সাহাবি আবদুলস্নাহর সাথে তাদের কথোপকথনের বর্ননা পাওয়া যায়।
মধ্যযুগে ফ্রান্সের অত্যনত্দ মেধাবি ধর্মতাতি্বক দার্শনিক এবং প্যারিস নটরডমের ধ্যানি ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন পিটার এ্যাবেলার্ড (১০৭৯-১১৪২)। সেখানে চার্চের ১৭ বছরের সুন্দরি এবং বুদ্ধিমান ধর্মযাজক ছিলেন হেলোয়েস, যিনি ছিলেন সম্পর্কে এ্যাবেলার্ডের ভাইঝি- তার দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তাদের বয়সের ব্যবধান ছিলো ২০ বছরের। এ্যাবেলার্ড হেলোয়েসকে তার সাথে কাজ করার প্রসত্দাব দেন। কাজ করতে গিয়ে হেলোয়েস শিঘ্রই অনত্দসত্বা হয়ে পড়েন। চার্চের যাজকরা শাসত্দি স্বরূপ এ্যাবেলার্ডকে খোজা করে দেন এবং অন্যত্র বদলি করেন। সেখানে এ্যাবেলার্ড তার ভ্রানত্দিবিলাসের স্মৃতিকথা নিয়ে রচনা করেন History of My Misfortunes. এতদসত্বেও দুজনের মধ্যে ভারোবাসার সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। মৃতু্যর পর প্যারিসে দুজনকে পাশপাশি সমাধিস্থ করা হয়।
দিলিস্নর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি (১২৯৬-১৩১৬) বিজেতা হিশেবে ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছেন। তার বিজয়ের মুলে ছিলেন প্রধান সেনাপতি মালিক কাফুর। নিষ্ঠুর প্রকৃতির মালিক কাফুর ছিলেন একজন কির্তিমান হিজড়া। আলাউদ্দিন খিলজির মৃতু্যর পর মালিক কাফুর কিছু দিনের জন্য ভারতবর্ষের ৰমতা গ্রহণ করেছিলেন। ভারত মহাসাগরিয় অঞ্চলের প্রখ্যাত চিনা নৌ সেনাপতি এডমিরাল হাজি মাহমুদ শামসুদ্দিন(১৩৭১-১৪৩৩)। তার চিনা নাম ঝেং হি। এশিয়ায় তার পরিচিতি ছিলো 'এডমিরাল অভ দ্য ওশান সি ' । এই হিজড়া নৌ সেনাপতির প্রতিমুর্তি সংরৰিত আছে মালয়েশিয়ার জাতিয় যাদুঘরে। স্পেনের সুলতান আল মনসুর সাদির সেনাপতি ছিলেন জুডার পাশা (মৃতু্য ১৬০৬)। তিনি ছিলেন অসাধারন প্রতিভা সম্পন্ন সেনানায়ক ও বিজেতা। ইরানের শাহানশাহ মুহাম্মদ খান কাজার (১৭৯৪-৯৭) ছিলেন একজন হিজড়া। বিশ্ববিশ্রম্নত ফরাসি সেনাপতি ও সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৯৯-১৮১৫) শেষ জিবনে পুরম্নষাঙ্গ হ্রাস পেতে পেতে হিজড়ায় পরিণত হয়েছিলেন এমোন তথ্য পাওয়া যায়। অষ্টাদশ শতাব্দির আফগান রসগল্পের নায়ক মোলস্না নাসির উদ্দিনও ছিলেন হিজড়া। তার আরেক নাম খোজা বা হোজ্জা নাসির উদ্দিন। বিশ্বখ্যাত ইতালিয়ান সংগিতজ্ঞ ডুমেনিকো মুসটাফা (১৮২৯-১৯১২) ও আলেসান্দ্রো মরেশ্চি (১৮৫৮-১৯২২) এবং অপেরা শিল্পি আলেঙ্ান্দার ভ্যান হেইকেন (অষ্টাদশ শতাব্দি) ছিলেন হিজড়া।
বিশ্বের প্রতিভাবান হিজড়ারা
এছাড়াও বিশ্বব্যাপি বহু হিজড়া ব্যক্তিত্ব নিজনিজ ৰেত্রে রেখে চলেছেন প্রতিভার স্বাৰর। এদের মধ্যে রয়েছেন : আমেরিকার ইম্পেরিয়াল কোর্ট সিস্টেমের প্রতিষ্ঠাতা আইনজিবি জোসে সারিয়া (জন্ম ১৯২২)। অস্ট্রিয়ার বিশ্বখ্যাত বংশিবাদক জিনেট শেমিড (১৯২৪-২০০৫)। আমেরিকান টেনিস তারকা ড. রানি রিচার্ডস (জন্ম ১৯৩৪), কম্পু্যটার বিজ্ঞানি ইঞ্জিনিয়ার ও আইনজিবি লিন কনওয়ে (জন্ম ১৯৩৮), লেখক শিৰাবিদ জেমস গৃন (জন্ম ১৯৪৮), আইনজিবি ও লেখক ড. মার্টিন রথবস্নাট (জন্ম ১৯৫৪)। বৃটিশ লেখক ও চলচ্চিত্র নিমর্াতা মলি ক্যাটার্পাস (জন্ম ১৯৫২), মোস্ট এঙ্েিলন্ট অর্ডার অভ দ্য বৃটিশ এম্পায়ার অধ্যাপক ও আইনজিবি ড. স্টিফেন হুইটল (জন্ম ১৯৫৫)। ১৯৫৭ সালে সুইটজারল্যান্ডে জন্ম নেয়া জর্জিনা বেয়ার ছিলেন রাজনিতিবিদ মেয়র ও এমপি (১৯৯৯-২০০৭)। আমেরিকান লেখক অধ্যাপক জেনিফার বয়লান (জন্ম ১৯৫৮)। কানাডিয়ান লেখক গিতিকার মেরিন ক্যাডেল (জন্ম ১৯৫৯)। আমেরিকান অধ্যাপক শিল্পি অভিনেতৃ ও মডেল তারকা আলেঙ্ান্দ্রা বিলিংস (জন্ম ১৯৬২)। ইতালিয়ান রাজনিতিবিদ এমপি টিভি ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতৃ ভস্নাদিমির লুঙ্িিরয়া (জন্ম ১৯৬৫)। আমেরিকান অভিনেতৃ ফিল্ড কনসালটেন্ট ও স্কৃপ্ট লেখক এন্ডৃ জেমস (জন্ম ১৯৬৭), লেখক বাগ্মি ও শিল্পি ক্যালপারিনা এ্যাডামস (জন্ম ১৯৭১)। ইসরায়েলি গিতিকার ও শিল্পি শ্যারন কোহেন ডানা (জন্ম ১৯৭২)। কানাডিয়ান লেখক কলামিস্ট ও অভিনেতৃ নিনা আরসেনল্ট (জন্ম ১৯৭৪)। দক্ষিন কোরিয়ান মডেল তারকা শিল্পি ও অভিনেতৃ লি কিয়াং ইয়ুন হারিসু (জন্ম ১৯৭৫)। বিখ্যাত বৃটিশ টিভি প্রোগ্রামার নাদিয়া আলমাদা (জন্ম ১৯৭৭)। পাকিসত্দানের জনপৃয় অভিনেতা টিভি ব্যক্তিত্ব ও স্কৃপ্ট লেখক আলি সালিম (জন্ম ১৯৭৯)। বর্তমান সময়ের বহু গুরম্নত্বপুর্ন এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত চায়না অভিনেতৃ চলচ্চিত্র পরিচালক লেখক ও শিল্পি জু হেই সুন (জন্ম ১৯৮৪)। অস্ট্রেলিয়ান পপ গায়ক শেইন জিনেক (জন্ম ১৯৮৫)।
ভারতের মহারাষ্ট্রের সন্ধ্যা হিজড়া এবং মুম্বাইর সানদোল এলাকার হিজড়া শবনম মাসি ভারতিয় লোকসভার জনপৃয় সদস্য। কমলা দেবি এবং আশাজান নামে দুজন হিজড়া উত্তর প্রদেশে নিজনিজ শহরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বখ্যাত ভারতিয় সাংবাদিক খুশবনত্দ সিং তার এক লেখায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রি অটল বিহারি বাজপেয়ি তৃতিয় প্রকৃতির ছিলেন বলে উলেস্নখ করেছেন। এছাড়াও ভাগমতি নামে এক হিজড়ার সাথে তার সম্পর্কের ইতিবৃত্ত নিয়ে খুশবনত্দ সিং রচনা করেছেন ' দিলিস্ন' ও 'হিজড়া বিষয়ক জটিলতা' নামে দুটি মনোজ্ঞ উপন্যাস।
পৃথিবির অন্য দেশে হিজড়ারা স্বাভাবিক জিবন যাপন করলেও বাংলাদেশে তারা কষ্টে সৃষ্টে আছেন। রাষ্টৃয়ভাবে তাদের সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ককসবাজারেও রয়েছেন শতাধিক হিজড়া। তারাও মানব সনত্দান হলেও সামাজিক ভাবে অত্যনত্দ নিগৃহিত। গুরম্ন শুক্কুর ফকির ওরফে শোভা হিজড়ার নেতৃত্বে ককসবাজারের হিজড়ারা সংঘবদ্ধ। শহরে হিজরা কমিটি নামে তাদের একটি সংগঠন রয়েছে। রজনি আকতার এর সভাপতি। শিৰা দিৰা ও কর্ম সংস্থান না থাকায় এখানকার হিজড়ারা মানবেতর জিবন যাপন করছেন। সম্পত্তি ও সামাজিক নিপিড়নের শিকার এখানকার হিজড়ারা জিবিকার দায়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজেও জড়িয়ে পড়েন। বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি বেসরকারি সংস্থা হিজড়াদের শিৰা চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারি উদ্যোগে বাসস্থানসহ তাদের উন্নয়ন মুলক পদৰেপ দাবি করেছেন তারা। রজনি হিজড়ার সাথে আলাপকালে জানা যায়, কঙ্বাজারে সরকারি খাসজমি প্রভাবশালি বিত্তবানরা বরাদ্দ নিচ্ছেন কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবেন না। আমাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই। তাই সরকারিভাবে খাসজমি বরাদ্দ দিয়ে তাদের অননত্দ বসবাসের নিরাপত্তা দেয়া মানবিক দিক থেকে হলেও অত্যনত্দ জরম্নরি।
উত্কলন :
১. তৃতিয় প্রকৃতি : বাংলাদেশের হিজড়াদের আর্থসামাজিক চিত্র - এসএএম হুসাইন।
২. কালের খেয়া, ২৩৭ সংখ্যা, ২০১০।
৩. বাংলাপিডিয়া ১০ম খন্ড।
৪. ভারতের হিজড়া সমাজ - অজয় মজুমদার ও নিলয় বসু।
৫. দৈনিক আজকের কাগজ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪।
৬. বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম।
৭. দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ জুলাই ২০১১।
৮. ইউনাকস্ ইন গুগল ইনফরমেশনস।



0 Comments