Advertisement

উখিয়া-টেকনাফে মাঠে নেমেছেন আ’লীগ নেতা শাহ আলম : নানা গুঞ্জন


উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেছেন সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদেরকে মারধর, নিজের ঘনিষ্ট নব্য আওয়ামীলীগার দিয়ে দল গঠনসহ নানা কারণে তার উপর চরম ক্ষুব্ধ দলীয় হাই কমান্ড। তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের দুরত্মও দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এসব কারণে তার বিকল্প হিসাবে মাঠে নামানো হয়েছে কক্সবাজার শহরের বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও আরাকানের কাছিম রাজা পুত্র শাহআলম চৌধুরীকে। সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩ বছরে বিভিন্ন সময়ে দেশজুড়ে আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন উখিয়া-টেকনাফের এমপি আবদুর রহমান বদি।তিনি কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র সরকার দলীয় এমপি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনে তার দাপট বেশি। আর এই দাপট ধরে রাখতে গিয়ে নিজের হাতেই তিনি মার দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী, ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যাংকার, প্রধান শিক্ষক, আইনজীবীসহ সমাজের বিশিষ্ট জনকে। তার কর্মকান্ডে সরকারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দূরত্ম তৈরী হয়েছে। আর এসব কারণে চরম ক্ষুব্ধ দলীয় হাই কমান্ড উখিয়া-টেকনাফে তৈরী করছে তার বিকল্প। আর এই বিকল্প ব্যক্তিটি হলেন জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী শাহ আলম চৌধুরী প্রকাশ রাজা শাহ আলম।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহ আলম চৌধুরী প্রকাশ রাজা শাহ আলম প্রায় ৮ বছর আগে জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক মনোনীত হলেও এই পর্যন্ত তিনি কক্সবাজার শহরেই রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে উখিয়া-টেকনাফের রাজনীতিতে হঠাৎ সরব হয়ে ওঠেছেন তিনি। মতবিনিময়সহ নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিয়মিত গণ সংযোগ চালাচ্ছেন, এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসাসহ সমাজসেবা মূলক নানান কাজে দান-ছদকা  করে যাচ্ছেন। এমনকি অজ পাড়া গাঁয়ে গিয়েও তিনি নানা অনুষ্ঠান করছেন। আর তার এই সরব হয়ে ওঠা নিয়ে উখিয়া-টেকনাফে চলছে নানা গুঞ্জন। অনেকেই বলছেন দলীয় হাই কমান্ড এমপি বদির বিকল্প হিসাবে তাকে মাঠে নামিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, দলীয় এমপিকে তার কর্মকান্ড সম্পর্কে সতর্ক করার জন্যই শাহ আলম চৌধুরীকে মাঠে নামানো হয়েছে।
দলের একাংশের সূত্র মতে, আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম চৌধুরী অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক ছাড়াও তার রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। তার পিতা কাছিম রাজা ছিলেন আরাকানের স্বাধীনতাকামীদের অবিসংবাদিত নেতা। এই অঞ্চলে তার পিতার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। এছাড়া কাছিম রাজা ’৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে তার বাহিনী নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এই কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবেও ছিলেন বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলেই তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছিলেন উখিয়ার সোনারপাড়া গ্রামে। আওয়ামীলীগ নেতা শাহআলম চৌধুরীর গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে পিতার এই পরিচিতি উখিয়া-টেকনাফের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রা হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে দলীয় হাই কমান্ড তাকে বিকল্প হিসাবে মাঠে নামিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফে। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সিনিয়র নেতারা কক্সবাজারে এসে তার সাথে বৈঠকও করেছেন। তবে তার এই সরব হয়ে ওঠার ঘটনাকে অনেকে সন্দেহের চোখেও দেখছেন।
এদের মতে, শাহ আলম চৌধুরী এমপি বদির শ্বশুড় পর্যায়ের আত্মীয়। মূলত এমপি বদির ভঙ্গুর জনপ্রিয়তা মেরামতেই তাকে মাঠে নামানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি বদির পক্ষেই থাকবেন।
তবে শাহ আলম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বদির জন্য নয়; দলের জন্যই কাজ করছেন তিনি।
তিনি এমপি বদির সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ম সৃষ্টি এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে উখিয়া আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের সমালোচনার জবাবে এমপি বদি তার বিকল্প প্রার্থী সন্ধান করতে বলেছেন। তাই দলীয় নেতাকর্মীরাও বিকল্প হিসাবে আমাকে বেছে নিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনের ২ বছর আগেই তার মাঠে নামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমপি বদি কাজ করছেন নিজের জন্য, আর আমি কাজ করছি শেখ হাসিনার জন্য, দলের জন্য। তাই দুই জনের কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তাকে উখিয়া-টেকনাফে সংগঠন মজবুত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।
সম্প্রতি এমপি বদি একটি মিডিয়ার সাথে সাক্ষাতকারে তার (এমপি) ব্যক্তিগত তহবিল থেকে উখিয়া-টেকনাফে ১শ কোটি টাকা খরচ করা এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দাবী সম্পর্কে শাহ আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় হলফনামায় তার কত সম্পদ ছিল আর এখন এত টাকা তিনি পেলেন কোথায়?
শাহ আলম চৌধুরী জানান, গত ৩ বছরে এমপির বিতর্কিত কর্মকান্ডে উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামীলীগে যে ক্ষত তৈরী হয়েছে এবং জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তিরও যে ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতেই তিনি কাজ কারছেন। আর তার এসব কাজের মূল্যায়ন হিসাবে তাকে যদি আগামী নির্বাচনে দল মনোনয়ন দেয়, তাহলেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানান।
এদিকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী করার লক্ষে উখিয়া-টেকনাফে শাহ আলম চৌধুরীকে দলীয় হাইকমান্ড কর্তৃক দায়িত্ব প্রদান প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ (সিআইপি) বলেন, শাহ আলম চৌধুরী জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা। তার বাড়ী উখিয়ায়। তাই উখিয়া-টেকনাফের রাজনীতিতে এককভাবে না হলেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনেও মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে।
তবে দলীয় হাই কমান্ড কর্তৃক কোন ‘গ্রিণ সিগনেল’ দেওয়ার কথা তার জানা নেই বলে জানান।
জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোসেনও দলীয় হাই কমান্ড কর্তৃক এমপি বদির বিকল্প হিসাবে শাহ আলম চৌধুরীকে মাঠে নামানোর কথা অস্বীকার করেন।
তবে তার মতে, আওয়ামীলীগ একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। এই দলের মনোনয়ন চাওয়া এবং মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষে মাঠে কাজ করার অধিকার যে কারো রয়েছে। গত নির্বাচনেও ওই আসন থেকে ১২ জন মনোয়ন চেয়েছিলেন। সুতরাং আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাহ আলম চৌধুরীও কাজ করছেন। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত নয়, আরো লাভবান হবে।

Post a Comment

0 Comments