এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,৪ জানুয়ারী ॥
কক্সবাজারের কলাতলীতে আরএফ বিল্ডার্সে কর্মরত আনসার বাহিনী ও গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরএফ বিল্ডার্সে সংশি¬ষ্ট অজ্ঞাতনামা সহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে গতকাল (৪ জানুয়ারী)। কলাতলী আর্দশ গ্রাম সমবায় সমিতির সভানেত্রী শানজিদা হক মঞ্জু বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসি বর্তমানে মামলা আতংকে ভোগছেন।
কলাতলী আরএফ বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে অন্যের জমি ও সরকারী খাস জমি দখল,সরকারী কর্মকর্তাদের জমি বখশিস দিয়ে ভূঁয়া নামজারি খতিয়ান সৃষ্টি সহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক এডিসি রাজস্ব ও সাবেক সদর তহসিলদার ও সাবেক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি স্ত্রীরাও ভুঁয়া খতিয়ানের অংশীদার হয়ে আরএফ বিল্ডার্সে জমিদাতা হয়েছেন। খাস জমি ও অন্যের মালিকানার জমির উপর বিভিন্ন লোকজনকে আবাসিক/বাণিজ্যিক এপার্টমেন্ট,হোটেল ,পযৃটন স্পট, রেস্টোরেন্ট,হল রুম,শপিং কমপে¬ক্স,ফ্ল্যাট বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ব্যাপক হারে কাটাও হচ্ছে পাহাড়।
ঘটনার সুত্রপাত হয় যেভাবে :
আরএফ বিল্ডার্স লিমিটেড গত বছর আনসার নিয়োগ করে কলাতলী আর্দশ গ্রামবাসিকে জিম্মি করে চলাচলের রাস্তার ও গ্রামবাসির ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক খুঁটি দখলে নেয় ২০১০ সালে। চারপার্শ্বে টিনের ঘেরা দিয়ে সশস্ত্র পাহারায় রাখে আনসার বাহিনী।
এলাকাবাসি জানায়, এই চলাচলে রাস্তার প্রস্ত ছিল ২০ফুট। দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় অর্ধ কিলোমিটার। সরকারী ভাবে রাস্তাটি ব্রীক সলিংও করা হয়ে ছিল। আর্দশ গ্রামবাসি ৪০ বছর ধরে এই রাস্তা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার করছে। যাহা বর্তমানেও এই আরএফ বিল্ডার্সের জমির ভিতরে স্থিত রয়েছে।
এলাকাবাসি জানান, তারা দাবী করে আসছিল তাদের চলাচলের রাস্তা ফেরত দেয়া হউক। রাস্তা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি উত্তোলণ না করা জন্য কলাতলী আর্দশ গ্রামবাসি আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় খুঁটির উত্তোলণ না করার উপর আদালতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকার পরেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে খুঁটি উত্তোলন এবং রাস্তার পার্শ্বে পুনরায় খুঁটি স্থাপন নিয়ে ৩ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টায় গ্রামবাসি ও ডেভেলপার কোম্পানী আরএফ বিল্ডার্স এ পাহারারত আনসার বাহিনীর সংর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ৩০ জন গ্রামবাসি আহত হয়। আহতদের জেলা সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে। আহততের মধ্যে খতিজা বেগম,নুরুুল আনোয়ার,আনোয়ারা বেগম,নুর আয়েশা,নুরু নেচ্ছা,দিল মোহাম্মদ,আনোয়ার হোসেন,বেবী আকতার,হুমায়ুন কবির,আবছার মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তৎমধ্যে গুলিবিদ্ধ নুরু নেচ্ছা,আনোয়ারা বেগম,রেজিয়া বেগম,শামশুন ন্নাহার,আইনুন নাহার,নিলুফা ইয়াসমিন,নুর বানু,মুন্নি আকতার এর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। কলাতলি আর্দশ গ্রামবাসির উপর হামলার ঘটনায় জড়িত আরএফ বিল্ডার্সে পাহারারত আনসার ও বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী সহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবীতে এলাকাবাসি গতকাল দিনভর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন ।
সুত্রে আরো জানা গেছে, এ ব্যাপারে কলাতলী আর্দশ গ্রাম সমবায় সমিতির সভানেত্রী শানজিদা হক মঞ্জু বাদী হয়ে আর এফ বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান শফিক আহম্মদ,ইসমাইল আনসার ,এরশাদ আনসার,মিজান,পীং- সোলতান আহম্মদ,ভাড়াটে সন্ত্রাসী,রশিদ পীং-আমির আলী । আরএফ বিল্ডার্স এর দারোয়ন সহিদুল¬া,রফিকুল ইসলাম,মাহাবুব আলম মাহাবু ( পরিচালক প্রশাসন,আরএফ বিল্ডার্স) ও রশিদুল¬াহ সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
আরএফ বিল্ডার্সের জমিদাতারা জমির মালিক হন যেভাবে :
প্রকৃত মালিক আরএস বন্দোবস্তি মুলে রায়তি মালিক মোঃ ইলিয়াছ। জমির পরিমাণ ৯০ শতক। রফিক আহম্মদ ও শফিক আহম্মদ পীং- ইলিয়াছ মুন্সি এর অন্যান্য ওয়ারিশগণ এই জমির মালিক হন। এর মধ্যে ৮৩ শতক জমি কলাতলী বাইপাস সড়ক নির্মাণ কালে সরকার অধিগ্রহণ করলে তা মহাসড়কে চলে যায়। মোঃ ইলিয়াছের ওয়ারিশগণ জমি অধিগ্রহণের মুল্য বাবদ ৯১/৯২ সালে সরকারের কাছ থেকে ২লাখ ৪০ হাজার ৭ শত টাকা রশিদ মুলে গ্রহণ করেন (রশিদ নং- এল.মো-নং-১৩/৯১/৯২)। অবশিষ্ট মাত্র ৭ শতক জমি তাদের মালিকানাধীন রয়েছে ।
জমির অবস্থান নিয়ে দুই নাম্বারী কারবার :
রাস্তার জন্য সরকারী ভাবে অধিগ্রহণকৃত জমি কলাতলিতে ভিন্ন মালিকের হলেও এই জমি গুলোর স্থান আরএস মুলে স্থান ৪০০৬ দাগের মধ্যে, লোকেশান কলাতলি বড় ছড়া (যার দুরত্ব দেড় কিলো মিটার) । তবে আরএফ বিল্ডার্সের জমি দাতারা দখল করেছে আরএস দাগ নং-৮০০৪/ ৮৮২২ দাগের জমি। তবে এই জমি গুলো আরএস বন্দোবস্তি মুলে ভিন্ন অন্য এক ব্যক্তি। যার খদিস এখনো অজানা রয়ে গেছে। আরএস খতিয়ানের দাগ সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে জমি চৌদ্দি অন্য স্থানের হলেও কলাতলি বাইপাস সড়কে দেখিয়ে এই ভুঁয়া খতিয়ানের সৃজিত জমির চেয়ে দ্বিগুন জমি । বর্তমানে আরএফ বিল্ডার্স লিঃ আনসার পাহারা দিয়ে দখলে রেখেছে ।
ভুঁয়া নামজারী খতিয়ান সৃজন ও আমলাদের দুর্নীতি :
ভিন্ন নামের জমি ও অবস্থান অন্য জায়গায় দেখিয়ে নামজারি খতিয়া সৃজনের মাধ্যমে ১ একর ৭৬ শতক জমি বন্দোবস্তি করেছেন রফিক আহম্মদ ও শফিক আহম্মদ সহ ১২ জন ব্যক্তি। ৯০ শতক জমিকে ১ একর ৭৬ শতক জমির রেকর্ড সৃষ্টি করতে এই ভুঁয়া নামজারী খতিয়ান সৃজন করার সার্বিক সহযোগীতার জন্য ৪ জন আমলাকে বখশিদ হিসাবে দেয়া হয়েছে ৪০ শতক জমি। এই জমি গুলো ৯/৩/২০১০ সালে কক্সবাজার সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিঃ দলিল নং-১২৩৩ মুলে ১২ জন মালিক হন। এই দলিলে জমির মালিক হিসেবে আমলার মধ্যে যারা রয়েছে,কক্সবাজারের সাবেক এডিসি (রাজস্ব) ওমর ফারুকের স্ত্রী তানিয়া শারমিন,তার ভাই মামুনুর রশিদ সোহেল,সাবেক তহসিলদার কক্সবাজার সদর তহসিলদার আবুল হোছনের স্ত্রী খালেদা বেগম নুরী , সাবেক ৪র্থ শ্রেীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদ আলীর স্ত্রী শাহিদা ইয়াছমিন। সরকারী ৪র্থ শ্রেণীর ৪/৫ জন কর্মচাররি সাথে আতাঁত করে কলাতলীতে প্রায় ৩ একর জমি দখল ও টিনের ঘেরা দিয়ে সশস্ত্র আনসার পাহারা বসানো হয়।
কলাতলি বাইপাস সড়কের পার্শ্বে যে ভাবে জমি গুলো চুক্তি মুলে আরএফ বিল্ডার্সকে দেয়া হয় :
৭ শতক জমিকে ১ একর ৭৬ শতক এবং ভিন্ন দাগ খতিয়ান ও ভিন্ন স্থানের জমি কলাতলি পাইপাস সড়কে বলে দাবীদার ৪ সরকারী আমলার স্ত্রী সহ আতীয় স্বজনদের নামে ও ইলিয়াছ মুন্সির ওয়ারিশ গণের নামে বন্দোবস্তি নেয়া জমি গুলো গত ২৯/৩/২০১১ সালে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্টার আমমোক্তার নামা মুলে আর এফ বিল্ডার্সকে দেয়া হয়। আরএফ বিল্ডার্সের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, হাজী দেলোয়ার হোসেন,সাং-৮১৯/এ মেহেদী বাগ ,রোড- ৩য়তলা থানা কতোয়ালী জেলা-চট্টগ্রাম। যাহার নিবন্ধ নং-সিএইচ-৬৭৫০(৯৬)/০৮। এক একর ৭৬ শতক। মোঃ ইলিয়াছ মুন্সির ওয়ারিশগণ ছাড়াও জমির মালিক হিসেবে আরো যারা স্বাক্ষর করেন,তানিয়া শারমিন স্বামী ওমর ফারুক পীং -আবদুল করিম হাওলাদার,মাতা সামশুন ন্নাহার,সাং-ভান্ডারিয়া,ডাক,উপজেলা-ভান্ডারিয়া,জেলা-ফিরোজপুর।(সাবেক এডিসি),মামুনুর রশিদ সোহেল,পীং মোজাফ্ফর রহমান,মাতা মনোয়ারা বেগম,সাং-সারাই নতুন বাজার,ডাক-হারাগাছা,উপজেলা-কাউনিয়া,রংপুর- (এডিসি ওমর ফারুকের শ্যালক),খালেদা বেগম নুরী পীং- সালা আহম্মদ,মাতা দিলদার বেগম,সাং মধ্যম বাহার ছড়া,পৌর এলাকা-কক্সবাজার (সাবেক কক্সবাজার সদর তহসিলদার আবুল হোছনের স্ত্রী),শাহিদা ইয়াছমিন,পীং-ছলিম উল¬াহ চৌধুরী,মাতা ছালেহা বেগম, সাং-মন্ডল পাড়া,ফতেহারকুল,ডাক-রামু,উপজেলা-রামু জেলা-কক্সবাজার,সাজেদ আলী সাবেক ৪র্থ শ্রেীর কর্মচারী সমিতির সভাপতির স্ত্রী )। তবে খোনে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে জমিদাতার স্বামীরা (আমলা) রেজিষ্টার দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরও করেছেন। জমির ধরন উলে¬খ করা হয় ছনখোলা জমি ও খিলা জমি হিসেবে। তবে এগুলো পাহাড় শ্রেণী যাহা বর্তমানেও বিদ্যমান। তবে ঠিনের ঘেরা দিয়ে আনসার প্রহরায় রাখা হয়েছে । সরকারী আমলাদের দোহায় দিয়ে রাতে দিনে এখানে ব্যাপক হারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। খাস জমি ও ভিন্ন মালিক এবং ভিন্ন স্থানের জমির উপর আবাসিক/বাণিজ্যিক এপার্টমেন্ট,হোটেল ,পযৃটন স্পট, রেস্টোরেন্ট,হল রুম,শপিং কমপে¬ক্স,ফ্ল্যাট বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যাহার ভবিষ্যত নিয়েও শংকা রয়েছে ।
কলাতলি আর্দশ গ্রামবাসির চলাচলে রাস্তা আরএফ বিল্ডার্স দখল করে রাখায় বর্তমানে গ্রামবাসি অন্য ব্যক্তির জমির উপর চলাচল করছে। এই রাস্তাও কোন সময় নিয়ে ফেলে সে আশংয়কায় রযেছে তারা।

0 Comments