আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ (পশু) হাসপাতাল। এ হাসপাতালে ভেটরিনারী মাঠ সহকারী থেকে শুরু করে কর্মকর্তারাও অফিস ফেলে কল(বাড়ীতে গিয়ে চিকিৎসা) নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপরি আয়ে পকেট ভারী হলেও পশু পালনকারী সাধারন কৃষকরা হাসপাতালে এসে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত চিকিৎসা সেবা থেকে। তাদের ভরসা একমাত্র এমএলএসএসরাই। অফিসের একজন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এতে গত এক বছরে ভুল চিকিৎসার কারণে কেবলই হাসপাতালে মারা গেছে অসংখ্য গরু ও ছাগল। এছাড়াও বাড়ীতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পরও পুরো মহেশখালী উপজেলায় গত এক বছরে মারা গেছে আরো অসংখ্য গুরু ছাগল। জানা যায়, উপজেলার প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা,ড্রেসার,ডি.এফ.এ,এমএলএসএস ও পিএলএ পদ খালী রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বাকী ৮ কর্মকর্তার মধ্যে ৩ জন আছেন ডেপুটেশনে। তারা হলেন,আবদুর রাজ্জাক কাজ করে রাজশাহী পশু হাসপাতালে,মো:আরিফুর রহমান থাকেন কুতুবদিয়া পশু হাসপাতালে আর ফরিদুল আজিম থাকেন বাঁশখালী পশু হাসপাতালে আর বেতন নেন এই হাসপাতাল থেকে। ভেটেরিনারী সার্জন ডা:মিজানুর রহমান একসাথে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পদ সহ এক সাথে দুটি দায়িত্ব পালন করছে। ৩ জানুয়ারী দুপুর ১২ টায় পরিদর্শন কালে দেখা যায়, পুরো হাসপাতালে কম্পিউটার অপারেটর বন বিহারী চৌধুরী,ভি.এফ,এ সুকুমার,কম্পাউন্ডার অনিল চন্দ্র দে ও এম.এল.এস.এস খলিলুর রহমানসহ ৪ জন কর্মচারী অফিসে বসে আলাপ করছে। বাকীরা কোথায় জিজ্ঞাস করলে তারা বলেন, ভারপ্রাপ্ত পশু কর্মকর্তা প্রাইভেট কলে হোয়ানক গেছেন। আর বাকীরা ফিল্ডে কাজ করছেন বলে জানান কম্পিউটার অপারেটর বন বিহারী চৌধুরী। সম্প্রতি এই হাসপাতালে পিয়ন থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এসে হাজিরা খাতায় সই করে মোটর সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন প্রাইভেট চিকিৎসায় ফলে দুর দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন কৃষকরা তাদের গৃহপালিত পশুর বিনা চিকিৎসা,কখনো কখনো অপচিকিৎসা কিংবা ভুল চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরেন। এত শত চেষ্টার পরও তাদের স্বপ্নের পশুটিকে আর বাচাঁতে পারে না। অপর দিকে প্রাইভেট চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাদের দাবীকৃত টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে গ্রামের গরীব অসহায় কৃষকরা তাদের পশুর সঠিক চিকিৎসা পান না বলে অভিযোগ করেন।হোয়ানক থেকে আসা করিম উল্লাহ তার গরুকে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে এলে তার কাছ থেকে ২শটাকা ফি নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন এখানে টাকা ছাড়া কিছুই হয়না । যে কোন ধরনের চিকিৎসা ও বিভিন্ন টিকা নিতে তারা মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। এমনকি একটু ভাল ব্যবহারও পাওয়া যায়না। অপরদিকে কম্পাউন্ডার অনিল চন্দ্র দের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। সে প্রতিদিনই মদ পান করে অফিস করেন বলে সুত্রে প্রকাশ। এ ব্যাপারে অনিল চন্দ্র দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাঝে মধ্যে অফিসের বাইরে একটু পান করি তবে তা নিয়মিত নয় বলে তিনি দাবী করেন।
এ দিকে এলাকাবাসী ও ঔষধ বিক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেবল একটি দোকান থেকে ও একটি বিশেষ কোম্পানীর ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন এবং সে সব ঔষধ চিকিৎসকগন নিজেরাই ওই কোম্পানী থেকে সরাসরি সংগ্রহ করে সরবরাহ করেন। ভুক্তভোগীরা জানান,হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলে যাওয়ার সময় সাথে করেই ঔষধ নিয়ে যায়। এতে করে কৃষকদের বেশী দামে ঔষধ কেনার পাশাপাশি ঔষধ বিক্রেতারাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে ভার প্রাপ্ত উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেনারী সার্জন ডা; মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তাপিত অভিযোগ গুলো সত্য নয় বলে দাবী করেন। এলাকাবাসী এই ব্যাপারে সরকারের উর্ধতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করছেন।

0 Comments