Advertisement

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চান মোহন লাল


ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী:উখিয়া:
স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে যে তরুণ ঝাঁপিয়ে পড়ছিল মুত্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে। আজ জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে রোগে-শোকে কাতর অসহায় হয়ে পড়া  ৮০ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল বড়ুয়া
মুত্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি চান। দেশ স্বাধীনের ৪০ বছরেও মিলেনি আনুষ্ঠানিক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। তাঁর এখন আকুতি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে যেন পরকালে যেতে পারেন।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বড়ুয়াপাড়া এলাকার জনগন মোহন লালকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আখ্যায়িত করলেও নিজের নামটি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই। নানা দুশ্চিন্তায় স্মৃতিশক্তি অনেকটা লোপ পেতে বসেছে। তিনি বলেন, 'পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের মায়া ত্যাগ করে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করলেও যুদ্ধকালীন সময়ে যাদের বয়স ৬/৭ বছর ছিলো, যাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল আজ তারাই তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।' কক্সবাজারের রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন কমান্ডার ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নায়েক সুবেদার নূর আহাম্মদের নেতৃত্বে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এক পুত্র ও চার কন্যার জনক তিনি।
মোহন লাল বড়ুয়া সম্পর্কে উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরী   জানান, 'তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। নাইক্ষ্যংছড়ির জুমখোলা ক্যাম্প থেকে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্নভাবে রাজাকারদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর নাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করব।উখিয়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নুরুল হক খান বলেন, 'মোহন লাল দেশের একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও তালিকায় নাম না থাকায় শেষ বয়সে মানসিকভাবে নানা যন্ত্রণায় ভুগছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি কোন সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাননি। বর্তমানে বার্ধক্য, নানা দুশ্চিন্তায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। আমরা চাই মৃত্যুর আগে তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হোক।'

Post a Comment

0 Comments