নুর মোহাম্মদ:
কক্সবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে কোলের শিশু পর্যন্ত নিখোঁজ হবার ঘটনা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে চলেছে। কেউ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা,বাজার ও আত্মীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়ার পথে অবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। একশ্রেণীর পেশাদার পাচার ও অপহরণকারী বিভিন্ন প্রকার লোভে দেখিয়ে ও এক প্রকার নাকে বিষাক্ত রোমাল শুঁকে দিয়ে এবং বন্ধুবেশে নেশা জাতীয় সিগেরেট, পান, বিস্কুল ও লজেন্স দিয়ে করে তাদের গাড়িতে তুলে নিজ গন্তব্য স্থানে নিয়ে যায়।
জানা যায়, জেলার টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ জেলার সহজসরল নারী-পুরুষ ও স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট করে পাচারকারীরা। অপহরণকারী টার্গের করে সচ্চল লোকজনদের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়য়া ছাত্র-ছাত্রীদের। অপহরণ করে তাদের নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অপহরণ হওয়া ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমে মুঠোফোনে তাদের মা-বাবার কাছে দাকীকৃত চাঁদা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। না দিলে তাদের ছেলে-মেয়েদের জীবনে খুন করার হুমকি ধমকি দেয়। তাদের দাবীকৃত চাঁদা আদায় করলে অপহরণকারীরা তাদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেয়। দাবীকৃত চাঁদা না দিয়ে যারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিলে অহপরণকারীরা তাদের ছেলে-মেয়েদের খুন করতে দ্বিধাবোধ করেনা। এর প্রমান স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা খুললে চোঁখে পড়ে। কিছু দিনে আগে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার মাইক্রোবাস সমিতির কর্মকর্তা বাপ্পীর সন্তান তার কাছের আত্মীর নিজ ঘরের গৃহ শিক্ষিকা তার ছেলে বন্দুদের মাধ্যমে অপহরণ করে। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতার কারণে নাইক্ষ্যংছড়ির এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২৪ মধ্যে তাকে তার সন্তানকে উদ্ধার করে।
কক্সবাজার-জেলার সহজসরল শিক্ষিত ছেলে-মেয়ের সাথে বন্ধুসুলভ ভাব জমিয়ে গার্মেন্টস ও বিদেশী ভাল চাকুরী দেয়ার নামে অপহরণকারীরা টাকার বিনিময়ে দালালদের হাতে তুলে দেয়। পরে তারা বেশি ভাগ বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা যশোর জেলার বেনাপোলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে। আর যারা নিরাপদে পাচার হয়ে গেলেও বিভিন্ন সময় ভারতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। আর যারা নিরাপদে গন্তব্য স্থানে চলে যায়, তাদেরকে দালালরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় বিভিন্ন পতিতালয়ে। ভারতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়লে ৪/৫ বছর জেল কাটার পর বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ ছাপানো হলে বাংলাদেশ-ভারতের দূতাবাস পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এগিয়ে গেলেই তারা জেলা থেকে বন্দি অবস্থায় মুক্তি পায়। যারা পতিতালয়ে বিক্রি হয়ে যায়, তারা জীবনে কোন দিন দেশে ফিরে আসার আশা করেন না।
জেলার হাটবাজার, আদালত,মার্কেটসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন এ পেশার লোকজন। বন্ধুবেশে যারা ধুমপান করতে অভ্যন্ত তাদের বিষাক্ত সিগারেট। যারা অভ্যস্ত নয় তাদের বিস্কুল, লজেন্স ও বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত খাবার। বিষাক্ত খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ তিনি নিজে নিজে মাটিতে লুঠি পড়লে তাদের সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। উল্লেখ্য যে, রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের মধ্যম উমখালী আজিম উদ্দন সিকদার পাড়ার মাওলানা হাফেজ আইয়ুবের পুত্র হাফেজ শহিদুল্লাহ (১৫), রামু ধলিরছড়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার যাওয়ার পথে ৩ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা-খুজির পর সন্ধান না পেয়ে তার বড় ভাই চট্টগ্রাম পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ আবদুল্লাহ (২৫) ১০ ডিসেম্বর রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। ডায়েরি নং- ৫০৪। কোন ব্যক্তি তার সন্ধান পেলে ০১৮৪০০৮৮৫৪২ মুঠোফোনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর মধ্যম মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার আহমদ হোছন (৬৫) কে তার ছেলে হেলাল উদ্দিন ২৯ নভেম্বর সকাল ১১ টায় চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ডিসেম্বর রাত ৩টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এব্যাপারে তার ছেলে হেলাল উদ্দিন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৩ ডিসেম্বর সাধারণ ডায়েরী করেন। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

0 Comments