Advertisement

জেলায় শীতের পিঠা তৈরির ধুম


কামাল শিশির ঈদগড়:
ককসবাজার শহর সহ ৮ উপজেলার ফুটপাত গুলোতে চলছে ভাপা,চিতৈ সহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি ও খাওয়ার ধুম। একদিকে নতুন ধান কেটে ঘরের তুলার আনন্দ,অন্যদিকে নতুন ধানের মিষ্টি পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত গৃহীনিরা। তবে সব আনন্দকেই হার মানিয়ে দিচ্ছে শহরের ফুটপাতে বসা দোকানীদের বাহারী রঙ্গের পিঠা। আর পুলি পিঠা খাওয়ার মজাটা যেন সবাই এসে ভাগ করে নেয় এসব ফুটপাতের দোকান গুলোতেই। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে ফুটপাতে গড়ে তুলা পিঠাপুলির দোকানী এসে পাড়ি জমায় বিভিন্ন শ্রেণীর ক্রেতারা। ক্রেতাদের জন্য দোকানের দু’পাশে রাখা হয়েছে লম্বা বেঞ্চ। পিঠা খেতে আসা ক্রেতারা বেঞ্চে বসে জমিয়ে আড্ডায় মগ্ন হয়ে পড়ে। সব মিলে জমে উঠে পিঠা পুলির দোকান গুলোতে বেচাকেনার আসর। দোকানী ঈদগাঁও তেলী পাড়া এলাকার লাল মিয়া জানান, ৫বছর ধরে তিনি ভাপা পিঠা তৈরি করছেন। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি তিনি এই পেশা ধরে রেখেছেন। সীমিত খরচে ভাল লাভের আশায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা বেচাকেনা করেন। দৈনিক ৪/৫শ টাকা বিক্রি করেন। এ ব্যবসা করে তিনি মোটামুটি ভালোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। গোমাতলী এলাকার মোহাম্মদ কাসিম জানান অভাবের সংসার তার সামান্য জমির উপর ভর করে বেচে আছেন। শীতের দিনে পুটপাতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় তাকে। কার্তিকের শুরু থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে পিঠা তৈরি ও বেচাকেনা। খেতে ভারী মজা লাগে। তবে খরচ বাদ দিয়ে ২৫০/৩০০টাকা লাভ হয় দৈনিক। পিঠা তৈরি আমার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাপা পিঠা তৈরিতে খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। তাই অল্প সময়ে বেশি আয় বলে পিঠা তৈরিকে পেশা হিসাবে বেচে নিয়েছি। সব সময় ভিড় থাকে আমার ফুটপাতের দোকানে। ক্রেতা ককসবাজার সহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকার মুন্না জানান,সারা দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় পিঠার দোকানে বসে পিঠা খাই আর গল্প গোজব করে সময় কাটায়। দিনের শেষে সব ব্যবস্থতা বাদদিয়ে সন্ধ্যায় এক কাপ চা ও ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য শহরের মানুষ ফুটপাতের দোকান গুলোতে ভীড় জময়। জেলার চকরিয়া,ডুলাহাজারা,বদরখালী,মহেশখালী,ঈদগাঁও,ঈদগড়,রামু,পানির ছড়া,টেকনাফ,কক্সবাজার শহর সহ আরো বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সর্বস্তরের জনতা ফুটপাতের তৈরি ভাপা পিঠা সহ নানা রঙ্গিন পিঠা ক্রয় করে ফুটপাতে বসে খাচ্ছে এবং বাড়ীর অন্যান্য সদস্যদের জন্য পলিথিন ব্যাগ অথবা কাগজের মুড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments