Advertisement

পেকুয়ার টইটং স'মিলে মজুদ লৰ লৰ টাকার চোরাই কাঠ


স্টাফ রিপোটর্ার 
পেকুয়া উপজেলার টইটংয়ের এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন একটি অবৈধ স'মিলে চিরাইয়ের জন্য মজুদ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারী বনাঞ্চলের গাছ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সরেজমিনে দেখা যায়,টইটং ইউনিয়নের টইটং বাজারে অবস্থিত স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: শহীদুল্লাহর মালিকানধীন একটি অবৈধ অনুমোদনহীন স'মিলে পাশ্ববতর্ী সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়ন থেকে কেটে প্রায় তিন লাখ টাকার সমমূল্যের বিপুল পরিমান বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে চিরাইয়ের জন্য মজুদ করা হয়েছে। প্রকাশ্যে ওই সাবেক চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন স'মিলে চিরাইয়ের জন্য এভাবে বনাঞ্চলের গাছ কেটে সংঘবদ্ধ গাছচোর সিন্ডিকেট নিয়ে আসলেও বন বিভাগের কতর্া ব্যক্তিরা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে স্থানীয় পরিবেশ প্রেমী সচেতন মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 
জানা যায়, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০কিলোমিটারের মধ্যে কোন স'মিল বসানোর নিয়ম না থাকলেও টইটং ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বিগত কয়েক বছর পূর্বে চেয়ারম্যান থাকাকালে ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে টইটং বাজারে বনাঞ্চলের এক কিলোমিটারের ভিতরেই সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একটি স'মিল বসায়। আর এ অবৈধ স'মিলে প্রতিদিন চিরাই হচ্ছে বনাঞ্চলের গাছ। এছাড়াও চিরাইয়ের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বন নিধন করে মজুদ করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ গাছ। একাধিক সূত্রে জানা গেছে,টইটং বাজারের পশ্চিম পাশ্বর্ের বদু হাজির পাড়া গ্রামের আজিজুল হকের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩৫) ওই অবৈধ স'মিলের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে গত কিছু দিন ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে টইটং ও বারবাকিয়া বনবিটের আওতায় অবস্থিত সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে স্থানীয় ১০/২০ জন গাছপাচারকারী সিন্ডিকেটের সাথে অাঁতাত করে প্রকাশ্যে বনাঞ্চলের গাছ কেটে এনে স'মিলে মজুদ করেছে। 
টইটং ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল করিম,আবদু সালাম,মাবুদ,আবদু খালেকসহ আরো একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,এ ভাবে অবৈধ সমিলে লাখ লাখ টাকার বনাঞ্চলের গাছ কেটে এনে মজুদ করলেও স্থানীয় টইটং বন বিভাগের কর্মকতর্ারা ওই স'মিলের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। তারা এ অবৈধ স'মিল বন্ধ করে দিয়ে পাশ্ববতর্ী বন রক্ষায় বন বিভাগের উর্দ্ধতন কতর্ৃপক্ষের নিকট জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
এ ব্যাপারে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ওই অবৈধ স'মিলের মালিক মো: শহীদুল্লাহর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে স'মিলের কর্মচারী বেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সরকারী বনের গাছ কেটে এনে স'মিলে চিরাই করলে দোষের কিছুই নেই উল্লেখ করে জানান,আমাদের কাছ থেকে টইটং বনবিট কর্মকতর্া মাসিক মোটা অংকের মাসোয়ারা নেন। তাই বন থেকে গাছ কেটে এনে আমরা স'মিলে চিরাই করি। আপনারা পত্রিকায় লিখেও কিছু করতে পারবেন না! 
ওই স'মিল অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে টইটং বনবিট কর্মকতর্া আবদুল হামিদ বলেন,একটি মহল এসব অবান্তর অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। 
এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো: মাকছুদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এক কিলোমিটারের ভিতরে বসানো ওই স'মিল বন্ধে শিগগিরই বন বিভাগ অভিযান পরিচালনা করবে।

Post a Comment

0 Comments