বেলাল আজাদ
কক্সবাজারর কোর্ট বির্ল্ডিং এলাকায় মামলার দালালের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতি ও কোর্ট কর্মকর্তাগণ বারবার সর্তকবাণী জারী এবং দালাল নিমর্ূল অভিযান চালালেও এসব দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে করে মামলার বাদী-বিবাদী সহ বিচার প্রাথর্ীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। সুনামক্ষুন্ন হচ্ছে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী ও কার্ডধারী এডভোকেট ক্লার্কগণের।
অনুসন্ধানে জানা যায়,কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীনস্থ আদালত সমূহে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর মামলার দালাল গ্রাম-গঞ্জের সহজ সরল বিচার প্রাথর্ীদের বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে টাকা আদায় করে প্রতারণা ও হয়রানী করে যাচ্ছে। এসব টাউন-বাটপার ও দালালেরা নিজেদের কখনো আইনজীবী, কখনো এডভোকেট ক্লার্ক (মুন্সী), রাজনৈতিক
নেতা, প্রশাসন বা পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিচার প্রাথর্ীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আত্মগোপন করে। এসব দালালের দৌরাত্ম্যে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী ও এডভোকেট ক্লার্কগণের সুনামক্ষুন্ন হচ্ছে। এডভোকেট ক্লার্ক পরিচয় দিয়ে একটি বৈদেশিক নাগরিক আইনের মামলার একজন আসামীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে কক্সবাজার শহরের বাদশা ঘোনার একজন মহিলার নিকট থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৭০ হাজার টাকা আত্মাসাতের ঘটনায় গত ২১ ডিসেম্বর আবছার নামের এক দালালকে এলাকা থেকে ভুক্তভোগী বিচার প্রাথর্ীরা আটক করে গণপিঠুনী দিয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় সোপর্দ করে। নিজেকে এডভোকেট ক্লার্ক পরিচয় দিয়ে একই ধরণের প্রতারণা ও হয়রানী করে যাচ্ছে সাইফুল নামের আরেক দালাল। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম মঈন উদ্দিন জানান, বছরের পর বছর ধরে এসব দালালেরা নিজেদের বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এদের বিরম্নদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতি কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এদের বিরম্নদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতির পৰ থেকে আদালত অঙ্গনে বেশ কয়েকবার সর্তকবাণী জারী করা হয়েছে। এছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সিমিতি কোর্ট বিল্ডিং এলাকার টাউট-বাটপার ও দালাল নিমর্ূলে দফায় দফায় আদালত এলাকায় অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযান চলাকালে টাউট-বাটপার ও দালালেরা নিমর্ূলে দফায় দাফায় আদালত এলাকায় অভিযান চালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, কোর্ট বিল্ডিং এলাকার টাউট-বাটপার ও দালাল নিমর্ূলে জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতি আর কোর্ট কর্মকর্তাগণের অভিযান ও সর্তকবাণী ছাড়াও সংশিস্নষ্ট প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান জরম্নরী। কোর্ট বিল্ডিং এলাকার টাউট-বাটপার ও দালালের দৌরাত্ম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কোর্ট ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান, এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির কার্ডধারী সদস্যদের আদালত চলাকালীন সময়ে গলায় পরিচয় পত্র ঝুলানোর নিয়ম থাকলেও অনেক কার্ডধারী এডভোকেট ক্লার্ক তাদের গলায় পরিচয় পত্র না ঝুলানোর কারণে টাউট-বাটপার ও দালাল চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। তাই কোর্ট পুলিশ টাউট-বাটপার ও দালাল নিমর্ূলে কোন পদৰেপ নিতে পারে না। ১৯৮৭ সনে প্রতিষ্ঠিত জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতিতে বর্তমানে প্রায় ৬৭৩ জন কার্ডধারী সদস্য রয়েছে। তৎমধ্যে চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কর্মরত দেড় শতাধিক কার্ডধারী এডভোকেট ক্লার্কসহ কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪শতাধিক এডভোকেট ক্লার্ক পেশাগত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যান্যরা কেউ অবসরে, কেউ মৃত ও কেউ কেউ বিভিন্ন পেশায় আছেন। কিন্তু বর্তমানে আদালত এলাকায় প্রায় ২/৩শতাধিক মামলার দালাল নিজেদের এডভোকেট ক্লার্ক (মুন্সী) পরিচয় দিয়ে অনেক মামলার বাদী-বিবাদী আর তদ্বীরকারীদের নিকট থেকে লৰ লৰ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা ও হয়রানী করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার আদালত এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে চুরি, ছিনতাই ও পকেটমারসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচেছ। কোর্ট বিল্ডিং এলাকার টাউট বাটপার ও দালালের উপদ্রব প্রসঙ্গে জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তুহিন, নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আদালত এলাকায় আমরা টাউট-বাটপার ও দালাল নিমর্ূলে অনেক বার অভিযান ও প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু এসব টাউট-বাটপার ও দালালের পেছনে কোন অশুভ শক্তির হাত থাকায় তারা বারবার পার পেয়ে যায়। আমাদের অভিযানের সময় তারা আত্মগোপন করে অথবা কেউ আমাদের অভিযানে ধৃত হলে তার পৰে অনেকেই সুপারিশ করে থাকেন। প্রকৃত এডভোকেট ক্লার্কগণ আদালত চলাকালীণ সময়ে তাদের গলায় পরিচয় পত্র ঝুলিয়ে রাখলে টাউট-বাটপার ও দালালেরা আদালত অঙ্গনে অতপৎপরতা চালাতে সাহস করবে না এবং বিচার প্রাথর্ীরা প্রতারণা ও হয়রানীর শিকার হবেন না। জেলা এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির নেতৃবৃন্দ আদালত এলাকার টাউট-বাটপার ও দালাল নিমর্ূলে প্রশাসনের আশু হসত্দৰেপ কামনা করেছেন।

0 Comments