বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার:
পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউজে চলছে জুয়ার জমজমাট আসর। আর এ জুয়ার আসরে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে অর্ধকোটি টাকা। এর পেছনে কাজ করছে শহরের চিহিত একাধিক জুয়াড়ি চক্র। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই এ চক্রের সদস্যরা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এ কাজ। এসব চক্রের সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে থাকে রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীরা। এসব জুয়াড়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে শহরের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী ও ধনার্ঢ্য ব্যক্তি। আর এ জুয়ার আসর থেকে স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে অনেক স্ত্রীর কপালে জুটছে তালাক। পাশাপাশি অনেক জুয়াড়ীদের সুখের সংসারে জ্বলছে অগ্নিশিখা। এদিকে র্যাবের ক্যাম্প কক্সবাজারে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে কিছুটা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে এ আসর বসিয়ে যাচ্ছে জুয়াড়ির দল।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শহরের আবাসিক গোটেল ও গেস্ট হাউসে দিনরাত চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। আর এসব জুয়ার আসরে বসে শহরের নামী দামী অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসের কিছু গোপন কক্ষে চলে এসব জুয়ার আসর। হোটেল ও গেস্ট হাউসের মালিক ও ম্যানেজাররা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এসব জুয়াড়ীদের সুযোগ করে দেয়। আর এর বিনিময়ে জুয়ার আসরে প্রতি গ্রুপের কাছ থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করে। শহরের উপকণ্ঠে এবং শহরতলীর গেস্ট হাউসে পরিচালিত অভিজাত জুয়ার আসরগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকরী নজরদারী না থাকায় জুয়াড়ীরা বার বার পাড় পেয়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত। আর এ জুয়ার আসর বসে বিশেষ করে রাত ৮ টার পর থেকে। প্রধান সড়কের দুপাশে অবস্থিত ছোট-বড় ১০/১৫ হোটেল গেস্ট হাউস ছাড়াও নিরাপদ হিসেবে জুয়ার আসর বসে কালুর দোকান, টেকপাড়া, বইল্ল্যাপাড়া, পাহাড়াতলী, পেশকার পাড়া, বাহারছড়া, চাউল বাজারের ভাড়া বাসায়। বর্তমান সময়ে এ জুয়ার আসর বেড়ে গিয়েছে দ্বিগুন হারে। এ জুয়ার নেশা ছড়িয়ে পড়েছে তরুন ব্যবসায়ী ও যুবকদের মধ্যে। কক্সবাজার শহরের লালদিঘীর পাড়ের সাতকানিয়া বোডির্ং, নজরুল, আহসান, বার্মিজ মার্কেট এলাকার ড্রীমল্যান্ড, বাজারঘাটার শাহরাজ, সী হার্ট, চাউল বাজারের ব্যাচেলার ভাড়া বাসাসহ একাধিক স্থানে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছে সংঘবদ্ধ জুয়াড়ির দল। ইতোমধ্যে র্যাবের কয়েকটি দল কয়েকটি বোডির্ং-এ অভিযানও চালিয়েছে। সচেতন মহলের মনে আশা জেগেছে র্যাবের ক্যাম্প কক্সবাজারে স্থাপিত হওয়ার পর র্যাবের গতিশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে শহরবাসী হয়তো একটু স্বস্তিতে থাকবে। এটাই র্যাবের কাছে কামনা করেন শহরবাসী

0 Comments