Advertisement

জেলায় হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া : রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


নুর মোহাম্মদ:
কক্সবাজার জেলায় ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা। বিভিন্ন উপজেলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে হুন্ডি ব্যবসার সিন্ডিকেট। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা জেলায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন করে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব কেড়ে নিচ্ছে এ ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে হুন্ডি ব্যাবসায়ী দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়ে সবকিছু হারাচ্ছে প্রবাসীরা। উপজেলার পুলিশ প্রশাসন ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেখেও না দেখার ভান করে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের স্বর্ণের দোকান, কাপড়ের দোকান ও ক্রোকারিজের দোকানকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মূল সিন্ডিকেট। কক্সবাজার শহর থেকে সিন্ডিকেট ও নিদিষ্ট এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় চালাচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, রামু উপজেলার চৌমুহনী ষ্টেশনের রামু ও কক্সলাইন কাউন্টারের পার্শ্ববর্তী মেহেমান ক্রোকারিজের দোকান মালিক লম্বরিপাড়ার ছিদ্দিক আহমদ এব্যবসাকে সাইন বোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে দৈনিক ১০ লক্ষ টাকা হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। ঈদগাঁও বংকিমবাজারের হার্ডওয়ার দোকানের মালিক লরাবাগের মোহাম্মদ ইউসুফ, জনৈক ফার্মেসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিক, কাপড় ব্যবসায়ী নুরুস শরীফ, রামু দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার মৃত আবদুস সুবহান পুত্র বদি আলম, কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার সুইচ গেইট ফাণিচার ব্যবার আড়ালে মোহাম্মদ হোছন, কলেজ গেইটের ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে ছৈয়দ আলম নির্বিঘেœ হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা শহরের একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনেই হুন্ডির মাধ্যমে আসা লাখ লাখ টাকা ব্যাংকগুলোতে জমা হচ্ছে। গ্রাহক ধরে রাখার স্বার্থে ব্যাংকগুলো এ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে কোন ঝামেলা করে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামু উপজেলার, চাকমারকুল, ফতেখারকুল, রাজারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার একাধিক ব্যক্তি ও প্রবাসীর স্ত্রী জানান, সৌদিআরব, আরবআমিরাত ও ওমান থেকে তাদের স্বামী প্রতি মাসে টাকা পাঠান নির্দিষ্ট হুন্ডি মাধ্যমে। হুন্ডি ব্যবসায়ী নিজে অথবা তাদের প্রতিনিধি বাড়িতে এসে টাকা দিয়ে যায়। এতে ব্যাংকে টাকা জমা নিয়ে হয়রানির কোন ঝামেলা নেই। জানা গেছে, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া,পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় ৩টি পৌরসভা এবং ৭২টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এদের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্বজনদের কাছে টাকা পাঠানোর ভরসা রাখেন হুন্ডি ব্যবসায়ীদের ওপর। এসব মানুষের প্রতি মাসে টাকা লেনদেনের হার প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসীদের মহিলা গ্রাহকদের টার্গেট করে হুন্ডির টাকার মাধ্যমে জাল টাকার নোটও ছড়িয়ে দেয় বলে আভিযোগ করেছেন একাধিক মহিলা। এতে করে সাধারণ নীরিহ মানুষ নানান দুর্ভোগের শিকার হয়। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় মোটা অংকের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্যবার। তবে প্রশাসনিক ঝামেলায় জড়ানোর ভয় থেকে পরিত্রাণ পেতে ক্ষতিগ্রস্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং টাকার পাওনাদাররা কারো দ্বারস্থ হয়নি। প্রশাসনিকভাবে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে এ যাবতকালে উল্লেখযোগ্য কোন অভিযানও চোখে পড়েনি। ফলে একপ্রকার স্বাভাবিকভাবেই এ ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। জেলা পুলিশ সুপার সেলিম মোঃ জাহাঙ্গীর জানান, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট কোন আভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নেব।

Post a Comment

0 Comments