Advertisement

সেন্টমার্টিনে মালয়েশিয়াগামী দেড় শতাধিক যাত্রী বোঝাই ট্রলার ডুবি : অর্ধ শত নিখোঁজ


রমজান উদ্দিন পটল, টেকনাফ:
টেকনাফের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ১৪ ডিসেম্বর ভোররাতে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিনস্থ বঙ্গোপসাগরের অদূরে দেড় শতাধিক যাত্রী বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রলারে থাকা বিভিন্ন লোকজন ফিশিং ট্রলারের সহযোগিতায় কূলে ফিরে আসলেও প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিঁখোজ রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সাগরে সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়- মঙ্গলবার রাত ৩টায় টেকনাফের উপকূলীয় এলাকা শাহপরীরদ্বীপের আইজ্যাখালী ও পশ্চিম পাড়া সাগরতীর এলাকা দিয়ে একটি ট্রলারে পাচারকারী সদস্যরা প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী বহন করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রলারটি ১ ঘন্টা চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অদুরে নবামষীল এলাকায় পৌছে ফুটো হয়ে গেলে ট্রলারে থাকা যাত্রীরা অজোরে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। এ দৃশ্য আশে-পাশে মাছ শিকাররত ফিশিং ট্রলারের জেলেরা দেখে দ্রুত এগিয়ে এসে বেশ কিছু লোকজনকে উদ্ধার করে কুলে নিয়ে আসে। তবে পানির স্রোতে অনেকে  ভেসে যায় বলে ট্রলারে থাকা লোকজন সূত্রে জানা গেছে। কূলে ফিরে আসা শাহপরীরদ্বীপ কোনা পাড়ার এলাকার নুর আহমদের পুত্র মুহাম্মদ আমিন, আব্দুস শুক্কুরের পুত্র কালা মিয়া, আবদুল খালেকের পুত্র কালু, মুহাম্মদের পুত্র তৈয়ব, জালিয়া পাড়ার আবদুর রহিম, চট্টগ্রাম বোয়ালখালী এলাকার শহীদুল্লাহসহ বিভিন্ন লোকজন জানান- স্থানীয় দালাল সিন্ডিকেট সদস্যরা জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে তাদেরকে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাচ্ছিল। ফিরে আসা লোকজন সূত্রে আরো জানা যায়Ñ একটি লক্কর জক্কর পুরোনো কাঠের বোটে ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাত্রী বহন করায় ট্রলারের তলদেশ ফুটু হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়- এ আদম পাচারের ঘটনায় ছলিম উল্লাহ, ফিরোজ, গোলাম হোছন, ইসমইঈল, ইউনুছ, শব্বির, মুহাম্মদ আলম, শরীফ হোছন, আবদুল হাকিমসহ বিভিন্ন দালাল সদস্যরা জড়িত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments