Advertisement

এবার বৌদ্ধ বিহারে ইত্যাদি


পলাশ,বিনোদন প্রতিবেদক:
আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদির মূল অনুষ্ঠান ধারণ শুরু হয়েছে দীর্ঘদিন থেকেই। আর এ জন্য ইত্যাদি তার বিশাল বহর নিয়ে ছুটে যায় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯শে ডিসেম্বর ইত্যাদির আগামী পর্ব ধারণ করা হয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে। বর্ণিল আলোয় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার যেন সেদিন নতুন সাজে
সেজেছিল। অনুষ্ঠান ধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলে বসানো হয়েছিল আলাদা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে লক্ষাধিক দর্শক উপভোগ করেন তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির ধারণ। উল্লেখ্য, দেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ইতিহাসে লক্ষাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে কোন অনুষ্ঠানের ধারণ এই প্রথম। শেকড় সন্ধানী ইত্যাদির এই ধারণ অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। পাহাড়পুর ছাড়াও নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, বদলগাছী থেকে হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে আসে। উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে 'ইত্যাদি' পা রাখবে ২৪ বছরে; অর্থাৎ দুই যুগে। । অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কয়েকশত পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্য। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছেন ইত্যাদির প্রাণপুরুষ হানিফ সংকেতের উপস্থাপনায় একের পর এক নান্দনিক সব আইটেম। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইত্যাদি পা রাখবে ২৪ বছরে। অর্থাৎ দুই যুগে। এই দীর্ঘ সময়ে ইত্যাদির আঙ্গিকের পরিবর্তন ঘটেছে অনেক। তবে বিষয়ের বৈচিত্র্যে লঘুচিত্ত ভাঁড়ামির বিপরীতে সামাজিক অসঙ্গতি-বিসঙ্গতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষের যে ধারা ইত্যাদি সৃষ্টি করেছে তা অক্ষুণ্ন্ন আছে যথারীতি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে সারা দেশের অনেক সৎ-সাহসী, জনকল্যাণকামী, নিভৃতচারী আলোকিত মানুষকে। যাদের অনেকেই পরবর্তীতে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান। করা হয়েছে অনেক সামাজিক, মানবিক ও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেছে ইত্যাদির দর্শক পর্বকে। গিয়েছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। ইত্যাদিকে তথা টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বের করে নিয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এ প্রসঙ্গে হানিফ সংকেত বলেন, এসব সম্ভব হয়েছে দর্শকদের সহযোগিতা, সমর্থন ও ভালবাসার কারণে। অনুষ্ঠানটি আগামী ৩০শে ডিসেম্বর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর একযোগে প্রচার হবে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে। ইত্যাদি রচনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেছেন হানিফ সংকেত।

Post a Comment

0 Comments