ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী:উখিযা :
উখিয়া উপজেলা সদরসহ বৃহত্তর ইনানী বনভূমিতে অবৈধ রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ী নির্মাণের হিড়িক চলছে। স্ব স্ব বনবিটের বিট কর্মকর্তা ,হেডম্যান ও ভিলেজারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় বর্তমানে উখিয়া ও ইনানীর
প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বনভুমি দখল করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ভূমিগ্রাসী চক্র প্রায় ৬ হাজার অবৈধ বসত বাড়ী নির্মাণ করার সত্যতা স্বীকার করেছে সংশি¬ষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।
সূত্র মতে সোনার পাড়া হতে মনখালী বিটের তত্বাবধানে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর বনভুমি কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা নেই বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ।
জানা গেছে, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুর ছড়া, হরিন মারা ,দুছড়ি,কুতুপালং, উখিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বনবিভাগের কর্তাব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে চলছে বনজ সম্পদ দখল ও বাড়ি নির্মান। উখিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে বনজ সম্পদ বিত্রি করার গুরুতর অভিযোগ। তাদের বন অফিসে চাকুরী করার চেয়ে গাছ চোরদের সাথে আড্ডা দিতেই বেশী দেখা যায়। তাছাড়া জালিয়া পালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের অদূরে প্রায় ২ শত একর বনভুমি গাছপালা সাবাড় করে বিরাণভুমিতে পরিণত করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করা প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ভুমিগ্রাসী চক্র বর্তমানে উখিয়া রেঞ্জ ও ইনানীর বিভিন্ন বনাঞ্চল দখল করে অবৈধ বসত বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইনানী বিট কর্মকর্তা এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসব অবৈধ বসতবাড়ী উচ্ছেদ করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান। অপরদিকে ইনানীর পাহাড় কাটা, অবৈধ বালি উত্তোলন পাথর উত্তোলন, কাঠ পাচার, চোরাই কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরী সবকিছুতে ইনানী রেঞ্জের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তা রয়েছে বলে স্থানীয়ে দর অভিযোগ।
এদিকে উখিয়া রেঞ্জরে ৮ টি বনবিটের আওতায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর এর মধ্যে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার হেক্টর বনভূমির জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে বলে বিদায়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন স্বীকার করেছেন। ২০১০ সালে মিায়নমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে আসা প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা স্থানীয় হেডম্যান ভিলেজারদের ম্যানেজ করে প্রায় ৬ হাজার বসতবাড়ী তৈরী করে বসবাস করছে বলে স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে
জানা গেছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী জবর দখলকারী চক্র ও রোহিঙ্গারা সরকারী বন সম্পদের উপর অবাধ লুটপাট চালিয়ে নির্বিচারে গাছ ও পাহাড় কর্তন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আবারো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি। প্রতিদিনই অনুপ্রবেশ করছে নতুন নতুন রোহিঙ্গা । আর এসব রোহিঙ্গারা বনবিভাগের গাছগাছালী ও ঝাড়জোপ পরিস্কার করে তাতে বসবাস আরম্ভ করে। পরবর্তিতে স্থানীয় প্রভাবশাল দের ম্যানেজ করে উক্ত রোহিঙ্গারা স্থায়ীভাবে এসব বনজ এলাকায় স্থাপনা নির্মান করে বসবাস করে। এভাবে রোহিঙ্গারা বনজসম্পদে বিচরন করায় দিন দিন কুতুপালং সহ এর আশেপাশ্বের এলাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রনে চলে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে এসব বনাঞ্জলে বসবাসের ফলে কেউ কেউ বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তুভূক্ত হয়ে গেছে। এখন অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নাকি বাংলাদেশী। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আল মামুন জানান, অবৈধ স্থাপনার তালিকা করা আছে , অবশ্যই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সরকারী বনজসম্পদ উদ্ধার করা হবে।এটা চলমান প্রত্রিয়ায় আছে।


0 Comments