Advertisement

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ চকরিয়ার ৬ বীর সেনানীর স্মৃতি নেই জম্মস্থানে


এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া:
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে আতœহুতি দানকারী চকরিয়ার ৬ বীর শহীদের কোন স্মৃতি নেই আপন জম্মস্থানে। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে উপজেলা বাসীর কি পরিমান অবদান ছিল সেই সম্পর্কে কিছুই জানেন না বর্তমান প্রজম্মের তরুন যবুকরা। ওয়াকিবহাল নন এ প্রজম্মের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। প্রসংঙ্গত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আনুষ্টানিক ভাবে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙ্গালী জাতির সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হলে চকরিয়ার ৬ জন কৃতি সন্তান প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় যুদ্ধকালীন সময়ে তারা দেশের জন্য জীবন দেন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে। যাদের রক্তের বিনিময়ে চকরিয়া আজ গৌরব উজ্জল তারা হলেন, বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আবদুল হামিদ, পৌরসভার বাটাখালী গ্রামের শহীদ হাবিলদার আবুল কালাম, কেয়ারবিল ইউনিয়নের শহীদ এনামূল হক, খিলছাদক গ্রামের শহীদ সিপাই আকতার হোসেন, চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামের শহীদ গোলাম কাদের ও হারবাং ইউনিয়নের কালা সিকদার পাড়া গ্রামের শহীদ গোলাস সাত্তার। তবে ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে ৬ বীর সেনানীর স্মৃতি রক্ষার্থে। 
        অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ আবদুল হামিদ যুদ্ধের সময় চট্রগ্রাম সরকারী বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় দেশ মাতৃকার টানে পড়ালেখা গুটিয়ে ভারত থেকে গেরিলা প্রশিক্ষন নিয়ে দেশে এসে লামা আলীকদম ও লোহাগাড়ার পুটিবিলা এলাকায় যুদ্ধ শুরু করেন।৭১ সালের ৪ নভেন্বর বার্মা সীমান্তের ফুরুইক্যা বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে ককসবাজার অবস্থানরত পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন রিজভীর হাতে সোর্পদ্দ করে। প্রায় ১৫ দিন পাক বাহিনী তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ১৯ নভেম্বর টেকনাফে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। শহীদ হাবিলদার আবুল কালাম ছিলেন একজন সৈনিক। তিনিও দেশ মাতৃকার টানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ১ নম্বর সেক্টরে। র্পাবত্য চট্রগ্রামের কেরানী পাড়ায় তিনি পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন।  শহীদ এনামূল হক ছিলেন সেনা বাহিনীর ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সদস্য।তিনি সরকারী চাকুরী ছেড়ে  দেশের টানে অংশ নেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে। ৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক বাহিনী তাকেসহ ১২ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার উদ্যেশে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা গাড়ী চালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর র্পাবত্য চট্রগ্রামের কেরানী পাড়ায় পাক বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পাক বাহিনী আমেরিকা থেকে সমুদ্র পথে সোয়াথ জাহাজ যোগে মুক্তিকামী বাঙ্গালী নিধনের জন্য অস্ত্রের চালান তুলেন চট্রগ্রাম বন্দরে। ওই সময় অস্ত্র নামানো পতিহত করতে চেষ্টাকালে গুলিতে শহীদ হন তিনি।  ২৫ মার্চ যুদ্ধের প্রথম দিকে শহীদ হয়েছেন পালাকাটার গোলাম কাদের ও সিপাই আকতার হোসেন পাক বাহিনীর নিমর্ম নারকীয়তায়।
      চকরিয়ার ৬ বীর শহীদের অবদান স্বরন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাজী আবু মো.বশিরুল আলম ও জেলা সাংগঠনিক কমান্ডার(যুদ্ধকালীন কমান্ডার) আলহাজ আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী বলেন,বাংলাদেশকে শোষনহীন ও  সমৃদ্ধশালী দেশ প্রতিষ্টায় এই বীর শহীদদের আতœত্যাগ বতর্মান প্রজম্মকে অবশ্যই জানানো উচিত। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে প্রথমে উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন এই বীর শহীদদের স্মৃতি প্রতিষ্টা করে তাদের অবদান ও আতœত্যাগের প্রতিচ্ছবি দেশ জাতির কাছে তুলে ধরতে পারে। এতে করে বর্তমান প্রজম্মের তরুন, যবুক, শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারবে। জানা গেছে, স্বাধীনতার ৪০বছর পরও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকরা এই ৬ বীর শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্টায় কিছু করতে না পারলেও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র জাফর আলম একটু হলেও অনুকম্পা দেখিয়েছেন এক বীর শহীদের প্রতি। তার নেতত্বাধীন পৌর পরিষদ২০০৯ সালে চকরিয়ার নবনির্মিত পৌরবাস র্টামিনালকে শহীদ আবদুল হামিদ পৌরবাস র্টামিনাল ঘোষানা করে একটি দায়বদ্ধতা পূরণ করেছেন। এদিকে বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন নাগরিক। তাই প্রথমে শ্রদ্ধা জানাই সকল বীর শহীদ ও  মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। তিনি চকরিয়ার ৬ বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে শহীদ আবদুল হামিদের নামে পৌরবাস র্টামিনাল নামকরন হয়েছে। উপজেলা পরিষদ তার নামে বমুবিলছড়িতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্টায় উদ্যোগ নিয়েছে। শহীদ হাবিলদার আবুল কালামের নামে স্মৃতি পাঠাগার রয়েছে। তার পরিবার সদস্যদের সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এরআগে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসকে সামসুল হুদার নামে সড়ক নামকরন করা হয়েছে। নামকরন করা হয়েছে সুরাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা নজির আহমদের নামে সড়ক। তবে তিনি সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষানা দেন।  

Post a Comment

0 Comments