Advertisement

ফলোআপঃ মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবি ॥ অধিকাংশ যাত্রী কূলে ফিরেছে


মুহাম্মদ ছলাহ উদ্দিন, টেকনাফ ॥
বুধবার গভীররাতে টেকনাফের সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের মৌলভীর শীল পয়েন্টে ১২০ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিগামী ট্রলার ডুবিতে দূর্ঘটনায় পতিত অধিকাংশ যাত্রী ফিরে এসেছে। তবে শাহপরীরদ্বীপে রফিক নামের একজন যাত্রীর এখনো নিখোঁজ রয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন সেন্টমার্টিন ও শাহপরীরদ্বীপের সাগরপাড়ে অসংখ্যা লোকজন স্বজনদের সন্ধ্যানে বসে রয়েছেন। সাগরে কোন মাছধরার ফিশিং দেখলে কিংবা কূলে ফিরলে উৎসুক হয়ে ঘিরে ধরেছে। ‘কি খুঁজছেন এমন করে’ এ জাতীয় প্রশ্নে তাঁরা নিশ্চুপ হয়ে যান। মালয়েশিয়া যাত্রায় স্বজন নিখোঁজ কিংবা ফিরে আসার ব্যাপারে মুখ খুলে না। বেশী প্রশ্ন করতে চেষ্টা করলে সরে গিয়ে অদূরে বসে থাকে কিংবা আড়ালে চলে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, এলাকার প্রভাবশালী কয়েক দালাল সিন্ডিকেট ‘স্বপ্নের মালয়েশিয়ায় চাকুরী’র নামে দেশের ও মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থান হতে লোকজন জড়ো করে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠায়। প্রতিবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেলেও ‘বিজিবি-পুলিশে’র অভিযানের ভয়ে এবং দালালদের কঠোর শাসানিতে তারা মুখ খোলে না। স্থানীয় একজন মেম্বার ও বেশ কয়েকজন জেলে সূত্রে জানা গেছে, এবারের ট্রলার ডুবিতে তেমন কেউ হতাহত হয়নি। জেলেদের নৌকা নিয়ে অধিকাংশই কূলে ফিরে এসেছে। শুধু এখনো রফিকের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অপারেশন অফিসার মেজর আরিফ ট্রলার ডুবি ও অর্ধশতাধিক নিখোঁজ সম্পর্কে শুনেছে স্বীকার জানান, সৈকতে ও সাগরে আমাদের বিশেষ টহল দল মোতায়েন রয়েছে। এখনো পর্যন্ত তারা কোন ধরনের লাশের বা ভেসে যাওয়া লোকের সন্ধ্যান পায়নি। কোস্টগার্ডের  সেন্টমার্টিন ষ্টেশন কমান্ডার সাব-লেফটেন্যান্ট মাসুদ সিকদারও একই ধরণের বক্তব্য দিয়ে ‘উদ্ধার অভিযানে সাগরে টহল দল রয়েছে’ বলে জানান।

Post a Comment

0 Comments