এএইচ সেলিম উল্লাহ, উখিয়া (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও পার্বত্য অঞ্চল পাহাড়ী এলাকার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসছে ভারি অস্ত্র। গতকাল বুধবার বাংলাদেশে ঢুকার দেড় ঘন্টার ব্যবধানে র্যাব-৭ এর হাতে একে-৪৭ রাইফেলসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ী আটকা পড়েছে। আটককৃত ওই ব্যবসায়ী রামু উপজেলার ঈদগড় পাইন্যাশিয়া এলাকার ছিদ্দিক আহমদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩২)। হঠাৎ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারি অস্ত্র আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে সীমান্ত এলাকার লোকজন।
সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকার এক শ্রেণীর অস্ত্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের নাসাকার সাথে হাত করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ভারি অস্ত্র এনে বেচা বিক্রি করে আসছিল। গত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে ভারী কয়েকটি অস্ত্র আটক হয়। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে নতুন করে সীমান্তের পয়েন্ট দিয়ে অস্ত্র আসা শুরু হয়। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামস্থ র্যাব-৭ কৌশলে অস্ত্র আটকের জন্য মাঠে নামে।
স্থানীয়দের মতে, উখিয়া-টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির ২০টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এসব অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকে। গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ির লেমুছড়ি সীমান্তের পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসার দেড় ঘন্টার ব্যবধানে অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটকের পর এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামস্থ র্যাব-৭ এর মেজর মোঃ জামাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা চলে আসছিল। গতকাল ক্রেতা সেজে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারস্থ র্যাব-৭ অস্ত্র ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে প্রথমে ঈদগড় বাজার থেকে র্যাবের হেফাজতে আনা হয়। এরপর কৌশলে দরদাম শেষে ওই ব্যক্তি গর্জনিয়া বাজারে নিয়ে গিয়ে র্যাবকে অস্ত্র দেয়ার কথা বলে। এক পর্যায়ে ভারী অস্ত্র র্যাবের হাতে চলে আসলে অস্ত্র ব্যবসায়ী নজরুলকে অস্ত্র ক্রেতারা র্যাব-৭ বলে জানান। আটককৃত নজরুলকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজারস্থ র্যাব-৭ এর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
র্যাবের হাতে আটক নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ক্রেতা পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত লেমুছড়ি এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের জনৈক রাখাইন থেকে সাড়ে ৩লাখ টাকায় এ অস্ত্রটি ক্রয় করে। তিনি বলেন, ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার পর ওইসব ক্রেতা আমাকে র্যাব পরিচয়ে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য ওই অস্ত্রটি র্যাবের কাছে ৪লাখ টাকা দিয়ে বিক্রির কথা ছিল।


0 Comments