ঢাকা, ৮ অক্টোবর: দেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের সীমান্ত এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর এই প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে এমন তথ্য
বের হয়ে এসেছে। তবে তদন্তে অগ্রগতির স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
বের হয়ে এসেছে। তবে তদন্তে অগ্রগতির স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকার একাধিক এমপির ছত্রছায়ায় অনায়াসে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। রয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন এসেছে মাদকের ধরণ, চাহিদা, এমনকি সেবন ও বিস্তারে। আশির দশকের শুরুতে হেরোইন। একই দশকের শেষদিকে আসে ফেনসিডিল। আর ফেনসিডিলের মূল্যবৃদ্ধি কারণে নব্বই দশকের শেষদিকে আসে এই মারণনেশা ইয়াবা।
প্রথমদিকে ইয়াবার বিষয়ে ততটা গুরুত্ব না দেয়ায় এর ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে গোটা দেশে। সময়ের ব্যবধানে এ রাজকীয় নেশা বর্তমানে মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তকেও পেয়ে বসেছে। শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গড়ে তোলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
এদিকে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে বিক্রেতারা। তবে এদের বেশিদিন জেলে থাকতে হয় না। স্বল্পসময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠে। ব্যবসার জাল আরো বিস্তৃত করে। কিন্তু এই ইয়াবা নেটওয়ার্কের মূল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সূত্র মতে, দেশে মারণনেশা ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ লাখেরও বেশি। দেশের প্রায় ৪৬ লাখ মাদকসেবীর অধিকাংশই এখন ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফেসসিডিলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দিনে দিনে এই ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা বাড়ছে-এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং মডেল ও নাট্যকর্মী এমনকি গৃহবধূরাও ক্রমান্বয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে ইয়াবার জালে। এ সুযোগে মাদকব্যবসায়ীরা নকল ও ভেজাল ইয়াবা বিক্রি করছে দেদারছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।
এদিকে বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর মগবাজারস্থ থ্রিস্টার হোটেলের সামনের থেকে ও গুলবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত চার মাদক ব্যবসায়ী হলেন- টেকনাফের জাকির হোসেন ওরফে বার্মিজ জাকির (৩৬), চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সাবেক ইউপি মেম্বার জহিরুল ইসলাম (৪৮), মামুন (৩২) ও গুলবাগের ইসমাইল হোসেন (৩২)।
তবে ইয়াবা সম্রাটখ্যাত বার্মিজ জাকির গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করতে চাইচে না মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যাদিও তার দেয়া তথ্যে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। শুধু তাই নয় চট্ট্রগ্রামের সাতকানিয়ার সাবেক ইউপি মেম্বার জহিরুল ইসলামও বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে।
সূত্র মতে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক হারে আসছে ইয়াবার চালান। নতুন করে খাগড়াছড়ির গহিন এলাকায় ইয়াবার রুট তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে টেকনাফ সীমান্তে ১২টি ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আমাদের দেশে মাদক অনুপ্রবেশ করে। দেশটি ব্যবহৃত হচ্ছে মাদকের ট্রানজিট রুট হিসেবে। এসব মাদকের কিছু অংশ পাচার হয় বিভিন্ন দেশে গেলেও, কিছু অংশ দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ট্রানজিট দেশটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে মাদকের একটি মার্কেটে।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হয় আরো ক্ষমতাধর। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সমস্যায় ভারত, মিয়ানমারও আক্রান্ত।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ভারত মাদক দমন ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সহযোগী হতে চায়। আর বাংলাদেশ মনে করে, এ কাজে মিয়ানমারকে সহযোগী করা প্রয়োজন। তিনটি দেশ একটি অভিন্ন সমস্যা নিয়ে অভিন্ন চেতনায় কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবেই। পাশাপাশি দেশে মাদকের এই ভয়াল আগ্রাসন ঠেকাতে নাগরিক সমাজ ও সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার প্রয়োজন।
বার্তা২৪ ডটনেট/


0 Comments