-বার্তা২৪ ডটনেট
এর আগে, গত ৩১ জুলাই গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে মিজান, জুয়েল সর্দার, রাজিব নামে তিন যুবককে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়। অনেক মানুষজনের সামনে তাদের আটক করে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে সূত্রাপুর থানাধীন ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় ব্যবসায়ী তাবির উদ্দিন আহমেদ রানাকে। বড় ভাইয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান থেকে তাকে তুলে নেয় সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ধারী পাঁচ ব্যক্তি। এখন পর্যন্ত তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ৮ নবেম্বর গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকার করলডাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরম্নল ইসলামকে র্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকের ৭/৮ জন মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশ সদর দফতরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করার জন্য র্যাব, ডিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরিচয়ে অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা করে চলেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দায়ী ও দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
র্যাব বলছে, মাদক, পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যা করে তাদের পরিচয় দিচ্ছে। র্যাব এ ধরনের কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। র্যাবের কাছে অভিযোগ করা হলে অপহৃত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিবি পুলিশ কাউকে আটক করলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তরা এ ধরনের কাজ করে ডিবি পুলিশের নাম দিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব সাদা পোশাকে র্যাব, ডিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে রহস্যজনক নিখোঁজ, অপহরণ, গুপ্তহত্যায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতা তাদের জড়িত থাকার সন্দেহকেই উস্কে দিচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে ঘটনাগুলোর সমাধান করতেই হবে।
ঢাকা, ৪ অক্টোবর: সাদা পোশাকে র্যাব, ডিবি পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুপ্তহত্যা, নিখোঁজের ঘটনায় সারাদেশে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই বছরে সারাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে পঞ্চাশটি।
র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্ত দলের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এটি নিয়ন্ত্রনে না এসে বরং এ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্নতা ক্রমেই বাড়ছে।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মীরহাজিরবাগ এলাকার কাজী আতাউর রহমান লিটু। লিটুর স্ত্রী রাশিদা বেগম যাত্রাবাড়ী থানায় একটি জিডি করেছেন পরের দিন ২৩ সেপ্টেম্বর।
রাশিদা বেগম জিডিতে অভিযোগ করেছেন, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আতাউর রহমান দয়াগঞ্জের দিকে যান। সাদা পোশাকধারী কিছু লোক উঠিয়ে নিয়ে যায় তাকে। ৮৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী আতাউর রহমান লিটুর পরিবারের অভিযোগ, সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ লিটুকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিটু'র মোবাইল ফোনের কললিস্ট খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ কোন এলাকায় তিনি অবস্থান করেছিলেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাজী আতাউর রহমান লিটু গত ১৩ সেপ্টেম্বর মীরহাজিরবাগের ৩৬৪ নম্বর বাড়ি থেকে ৪২টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই মামলার আসামি লিটু। ডিবিও খুঁজছে তাকে। তার কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তাকে আটক করা গেলে আদালতে হাজির করা হবে।
র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, লিটু নামে কাউকে তারা আটক করেনি।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজী আতাউর রহমান লিটুর হদিস মিলেনি।
এর আগে, গত ৩১ জুলাই গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে মিজান, জুয়েল সর্দার, রাজিব নামে তিন যুবককে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়। অনেক মানুষজনের সামনে তাদের আটক করে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার পাঁচদিন পর গত ৫ আগস্টে উদ্ধার হয় তিন যুবকের লাশ। গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে উদ্ধার হয় মিজান ও জুয়েল সর্দারের লাশ এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকার ঢাকা-মাওয়া সড়ক থেকে উদ্ধার হয় রাজিবের লাশ।
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে সূত্রাপুর থানাধীন ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় ব্যবসায়ী তাবির উদ্দিন আহমেদ রানাকে। বড় ভাইয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান থেকে তাকে তুলে নেয় সাদা পোশাকে র্যাব পরিচয়ধারী পাঁচ ব্যক্তি। এখন পর্যন্ত তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রায় দুই বছর আগে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন যুবলীগ নেতা লিয়াকত হোসেনকে নিখোঁজ হন। ২০০৮ সালের ২৬ নবেম্বর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের ৪০৫ নম্বর বাড়ির সাউথ প্রাইড এ্যাপার্টমেন্টের তৃতীয় তলায় এ-৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে র্যাব পরিচয়ে ৫/৬ জনের একটি সশস্ত্র দল ধরে নিয়ে যায় তাকে। দুই বছরেও তার হদিস মিলেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে নাকি তারই প্রতিপক্ষ গ্রুপের অপহরণের শিকার হয়েছেন তিনি? এই প্রশ্নের সুরাহা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
লিয়াকতের স্ত্রী ফারহানা হোসেন দাবি করেছেন, র্যাব পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করে হত্যা করেছে তাকে। র্যাব কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের এ দাবি বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
লিয়াকতের স্ত্রী উচ্চ আদালতে তার স্বামীর খোঁজ জানতে চেয়ে রিট করলে এ বিষয়ে আদালত পুলিশের আইজি ও র্যাব মহাপরিচালককে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন। এই দুই বাহিনীর প্রধান আদালতে জানিয়েছেন যে লিয়াকত নামে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক বা গ্রেফতার করেনি।
প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে নিখোঁজ আছেন ঢাকা মহানগরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম। গত বছর ২৫ জুন রাজধানীর ইন্দিরা রোডের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে প্রাইভেটকারে ধানমন্ডি যাওয়ার সময় তাকে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা হাতে আটক করে অভিযোগ করা হয়। গাড়ি থামিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় পার খোঁজ পাওয়া যায়নি তার।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন নির্মাণ শ্রমিক লীগের আইয়ুব আলী সর্দার, আকবর আলী সর্দার ও আব্দুর রহমান। গত দেড় বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে তারা। পরিবার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে র্যাব সদস্যরা।
২০১০ সালের ১৯ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর থানার সানদার জামে মসজিদের পাশ থেকে আকবর আলী সর্দারকে র্যাব -৫ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এ ঘটনার পর ওই বছরের ১৭ মে রাত ১০টায় খিলগাঁও বনশ্রী প্রজেক্ট এলাকায় আইয়ুব আলী খিলগাঁও থানা নির্মাণ শ্রমিক লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের আটক করে নিয়ে যায় র্যাব পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এরপর থেকে এই দুজনেরও হদিস মিলছে না।
ভাসানটেক পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার শাখাওয়াত হোসেন দুলালকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে র্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকে চারজন অপহরণ করে যায়। তারপর থেকে সে পুলিশের খাতায় নিখোঁজ।
গত বছরের ৮ নবেম্বর গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকার করলডাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরম্নল ইসলামকে র্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকের ৭/৮ জন মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
বরিশালের উজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরকে র্যাব পরিচয়ে একটি প্রাইভেটকারযোগে আটক করে নিয়ে যায়। রাজধানীর শাহজানপুর এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার আর হদিস পায়নি স্বজনরা।
পুলিশ সদর দফতরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করার জন্য র্যাব, ডিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরিচয়ে অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা করে চলেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দায়ী ও দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
র্যাব বলছে, মাদক, পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যা করে তাদের পরিচয় দিচ্ছে। র্যাব এ ধরনের কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। র্যাবের কাছে অভিযোগ করা হলে অপহৃত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিবি পুলিশ কাউকে আটক করলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তরা এ ধরনের কাজ করে ডিবি পুলিশের নাম দিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ধরনের অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব সাদা পোশাকে র্যাব, ডিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে রহস্যজনক নিখোঁজ, অপহরণ, গুপ্তহত্যায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্ষমতা তাদের জড়িত থাকার সন্দেহকেই উস্কে দিচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে ঘটনাগুলোর সমাধান করতেই হবে।


0 Comments