Advertisement

সোনালী ব্যাংক পরিচালক কমলের তথ্য: প্রধানমন্ত্রী ভালবাসেন কক্সবাজার- ২০১২ হবে উন্নয়নের বছর

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার:
এমপি হইনি, তবুও ভুলিনি কক্সবাজার সদর, রামুসহ পুরো জেলার মানুষের কথা। তাই মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত শুধুই স্বপ্ন দেখেছি বিপুল সম্ভাবনার জনপদকে এগিয়ে নিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানকার মাটি ও মানুষকে খুবই ভালবাসেন। তাই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এক টাকার দুর্নীতিতে না জড়িয়ে কক্সবাজারকে ঢেলে সাজাবার রাস্তায় ছিলাম। মাননীয়
 প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সদয় ছিলেন, তাই দেশের অন্যান্য স্থানের মত কক্সবাজারেও হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন। আগামি ২০১২ সাল হবে এই অঞ্চলের  উন্নয়নের বছর। কথাগুলো বলেছেন, কক্সবাজার সদর ও রামু আসনের মহাজোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সোনালী ব্যাংক পরিচালক সাইমুম সরওয়ার কমল।
গতকাল তিনি শহরের অভিজাত এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, বাবা মরহুম ওসমান সরওয়ারের মত এই জনপদের মাটি মানুষের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসাসহ নিজের নানা সীমাবদ্ধতা, সমস্যা ও ষড়যন্ত্রের কথা। এ সময় জনাব কমল বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে অন্তত মাটি মানুষের খেদমতের স্বার্থে তার সকল ভাল কাজে সাংবাদিকসহ সর্বশ্রেণীর মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত একটি মহল শুধু তার নিজের বিরুদ্ধে নয়, ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠেছেন এই জনপদ ও কল্যাণের বিরুদ্ধে। তারা সবসময় অপপ্রচারের পাশাপাশি কক্সবাজার-রামুসহ জেলাবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরের বাইরেও রাখতে চান। তাই তিনি এ ব্যাপারে সকলকে সজাগ ভূমিকা পালন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও নেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাইমুম সরওয়ার কমল আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের মাটি মানুষকে ভালবাসেন বলেই প্রয়োজনীয় সীট না পাওয়ার পরও তিনি কখনো এখানকার উন্নয়ন বাদ দেননি। মাতৃ মমতায় ইতোপূর্বে কক্সবাজারে এসে দিয়ে গেছেন হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন।
সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার শহরে ব্যক্তিগত ভাবে নেওয়া সাইমুম সরওয়ার কমলের উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবকলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রহিম উদ্দিনসহ দলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অগণিত নেতাকর্মী। এ সময় সাইমুম সরওয়ার কমল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যে লিখিত বক্তব্যটি পেশ করেছেন তা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হল-

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম
জনেনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের ২ বছর ৮ মাসের মধ্যে দেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

ক) বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সারের জন্য আমার কৃষক ভাইয়েরা লাশ হয়ে ঘরে ফিরেছে। বিএনপির নেতারা কৃষকদের সার না দিয়ে  সমুদ্র পথে মায়ানমারের সার পাচার করেছে। এ সরকারের আমলে সারের জন্য আর কৃষক ভাইদের কষ্ট পেতে হয়নি। সার এখন কৃষকদের বাড়িতে পৌঁছে গেছে। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এ সরকারের আমলে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছে।

খ) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি বিদ্যুৎ। ৪ দলীয় জোট সরকার বিদ্যুৎ উন্নয়নের নামে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র আড়াই বছরের আড়াই হাজার মেগাওয়াট ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

গ) ক্লাশ শুরুর প্রথম দিনে আওয়ামী লীগ সরকার কোটির অধিক ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছে। ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণে দেশের এক হাজার মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা প্রসারের উন্নয়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বেকরাত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানকে আধুনিকায়ন করেছে।

ঘ) প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করে গ্রামের মানুষদের দেশ তথা বিশ্বের সামগ্রিক তথ্য আদান-প্রদান করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েই পৃথিবীর সব প্রান্তের খবরাখবর নিমেষেই সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে।

ঙ) স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

চ) বিগত জোট সরকারের আমলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহে বোমা হামলার মাধ্যমে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সন্ত্রাসীদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেছে। বোমা হামলার ভয়ে আজ কোন মাকে সন্তান হারানো বা কোন স্ত্রীকে স্বামী হারানোর ভয়ে আতংকে থাকতে হচ্ছে না।

ছ) আইন শৃঙ্খলার অবস্থা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সন্তোষজনক না হলেও, গত জোট সরকারের প্রথম আড়াই বছরের চেয়ে ভাল আছে। হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি প্রভৃতি গতবারের চেয়ে অধিকতর কম। আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া, আহসান উল্লাুহ মাস্টার এমপি, সাবেক মেয়র মনজুরুল ইমাম, মমতাজ আহমদ এমপিদের মত বিএনপির কোন নেতার ভাগ্য বরণ করতে হয়নি।

জ) বিগত ২ বছর ধরে বাংলাদেশের হাজীদের পবিত্র হজব্রত পালনের সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ, বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে হাজার হাজার হজযাত্রী টাকা জমা করার পরও হজে যাওয়ার সুযোগ মেলেনি। আর যারা হজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তাদেরকে সহ্য করতে হয়েছে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ
জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমান সরকার কক্সবাজারের উননয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রেল লাইন সম্প্রসারের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে। কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে। কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের মেডিকেল কলেজের যাত্রা হয়েছ্।
শত ষড়যন্ত্রের মাঝেও গভীর সমুদ্র বন্দরের স্থান বাছাইয়ে কক্সবাজারকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামি ২০১২ সাল হবে কক্সবাজার সদর-রামুর উন্নয়নের বছর। আগামি বছরই কক্সবাজার সদর-রামুর অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে-
কক্সবাজার শহরের রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করা হবে।
খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডী সংযোগ সেতুর কাজ সমাপ্ত হবে।
চৌফলদণ্ডী-ঈদগাঁ সড়কের উন্নয়ন করা হবে।
পোকখালীতে রাবার ড্যাম স্থাপন করা হবে।
ইসলামাবাদের বোয়ালখালী ও ইউছুপেরখীল রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
ইসলামাবাদের গজালিয়া সড়কের কাজ শুরু করার পর্যায়ে রয়েছে।
ঈদগাঁ বাজারের উন্নয়নের কাজ শেষ হবে।
ঈদগাঁ ভাদিতলা সড়ক কার্পেটিং এর জন্য ইতোমধ্যে ৪৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ হয়েছে।
ভারুয়াখালী-খুরুস্কুল সংযোগ সেতুর নির্মাণ আগামি বছরের মধ্যে শুরু করার চেষ্টায় আছি। ইনশাআল্লাহ সফল হব।
ঝিলংজা ইউনিয়নের মোক্তারকুলে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পিএমখালী ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তার কাজ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
রামুতে চাকমারকুল-রাজারকুল-দক্ষিণ মিঠাছড়ি সংযোগ সেতু নির্মাণের কাজ সরকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামি অর্থ বছরে এ কাজ শুরু হবে।
রামুর তেচ্ছিপুল-মোহাম্মদপুরা রাস্তার উন্নয়নে কাজ শুরু করা হবে।
রাজারকুল-মিঠাছড়ি সড়কের অসমাপ্ত কাজ শুরু করা হবে।
কক্সবাজার ক্রিড়া ও কারিগরী কলেজের কাজ শুরু হবে।
রশিদনগর, খুনিয়াপালং, কচ্ছপিয়া, জোয়ারিয়ানালা, কাউয়ারখোপ ও ঈদগড়ের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
গর্জনিয়ায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামি অর্থ বছরের মধ্যে সফল হবে।
ফতেখাঁরকুল পৌরসভায় উন্নীতকরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রতিটি ইউনিয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা-
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ ৩ দিন এলাকায় সময় দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে দুঃখ দুদর্শা লাঘবের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছি।
আমার যোগ্যতা ও কর্মে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু মহল আমার সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বিগত সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও মেযর নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করেছিলেন।
আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আমার পিতা মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর আদর্শে অনুগমন করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ।
আমি আপনাদের সার্বিক সহযোগতিার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।

Post a Comment

0 Comments