Advertisement

লামায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা :
বান্দরবানের লামায় রোববার দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে আবহমান বাংলার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন উপলক্ষ্যে উপজেলার সনাতন ধর্মলম্বীদের মধ্যে এখন  সাজ সাজ বর বিরাজ করছে। যথাযথ মর্যদায় এবং ধর্মীয় ভাব গম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে আর্থিক সহযোগিতাও প্রধান করা হয়েছে। এ ছাড়া
 প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের রোববার ছিল মহাষষ্ঠী। দেবী দুর্গার মূল প্রতিমায় পূজা দিয়ে শুরু হয়। উপজেলার সব পূজামণ্ডপ এখন ঢাকের বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনি আর কাঁসার ঘণ্টায় মুখরিত। আলোকসজ্জায় পূজামণ্ডপ আর মঙ্গলপ্রদীপে দেবী দুর্গার পাদপ্রদীপে আলোকিত। বেল গাছ তলায় দেবীর বোধন এর মাধ্যমে ষষ্ঠী তিথিতে মূল প্রতিমায় দেবীকে কল্পনা করে পূজা করা হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবীর ষষ্ঠী পূজাকে বলা হয় অধিবাস। দেবীকে ফুল, সোনা, রুপাসহ আটটি মঙ্গলদ্রব্যে পূজা করা হয়। ষষ্ঠী পূজা শেষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে রয়েছে নানা আয়োজন। আসুরিক শক্তির বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে মা দুর্গার আরাধনা করে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ্বব্যাপী মঙ্গল ধ্বনি দিয়ে মা দুর্গা এ সময় কৈলাশ ছেড়ে লোকালয়ে আসেন। আর ভক্তরা দেবীর পদতলে ভক্তিভরে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মধ্যদিয়ে নানা অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়ায় তাকে বরণ করে নেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক বিজয় কান্তি আইচ জানিয়েছেন, এবার উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ৭টি মন্ডপে পুঁজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ডপ গুলো হলো- লামা বাজার কেন্দ্রীয় হরি মন্দির, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হায়দারনাশী হরিমন্দির, কমিউনিটি সেন্টার হরিমন্দির ও ইয়াংছা রামমন্দির, আজিজনগর হরিমন্দির, লামা পৌর এলাকার চাম্পাতলী লোকনাথ মন্দির এবং মেরাখোলা হরি মন্দির। এবার উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩টি মন্ডপে পুঁজার আয়োজন করা হয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ৭টি পূজা মন্ডপে সুন্দর ভাবে পুজা উদ্যাপনের জন্য সরকারি ভাবে ৭ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সায়ংকালে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ এবং সন্ধ্যায় অধিবাস। এ সময় ঢাকঢোল কাসর ঘন্টা আর শঙ্খের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে সকল পূজামন্ডপ। আজ সোমবার দেবীর সপ্তমী পূজা। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাসপ্তমী বিচিত্র পূজা আরম্ভ এবং বস্ত্র বিতরণ করা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার মহাষ্টমী। এদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা আরম্ভ, মধ্যাহ্ন মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং রাত ১টা ২১ মিনিট থেকে ২টা ৯ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন। পরের দিন ৫ অক্টোবর বুধবার মহানবমী। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা শেষ হবে। ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে দশমী পূজা আরম্ভ। সকাল ৯টা ৪২ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপনী ও অঞ্জলি প্রদান। বিকালে প্রতিমা বিসর্জন এবং  শান্তিজল গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব।
লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইকুল আহমেদ ভুইয়া জানান, চলতি বছর অতিতের ন্যায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে এ উপজেলায় যথাযথ মর্যদায় দূর্গা পূঁজা উদ্যাপিত হবে। তিনি বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ ও আনসার ভিডিপির ১২ জন সদস্য  আগামী শনিবার সন্ধ্যা থেকে আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

Post a Comment

0 Comments