Advertisement

তিস্তা চুক্তি করতে হাসিনা কলকাতা আসতেও রাজি: আনন্দবাজার

কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর: কলকাতা গিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিস্তা জলবণ্টন
 চুক্তি করতে রাজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ এই খবর দিয়েছে ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা।
‘তিস্তা চুক্তি করতে হাসিনা কলকাতা আসতেও রাজি’ এই শিরোনামে প্রকাশিত আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,“ হাসিনার দফতর এ ব্যাপারে অতি সক্রিয় হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে। তিস্তা চুক্তি কত তাড়াতাড়ি এবং কী ভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে তা নিয়ে হাসিনার প্রধান উপদেষ্টা গওহর রিজভি এখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। হাসিনার দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব হল দিল্লি যদি রাজি হয় তা হলে তিনি কলকাতা গিয়ে এখনই এই চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে সে ক্ষেত্রে মনমোহন সিংহকেও কলকাতা আসতে হবে।”

আনন্দবাজার লিখেছে, “চুক্তি করার ক্ষেত্রে কলকাতা প্রথম পছন্দ হলেও কেন্দ্রের সঙ্গে মমতার আলোচনায় যদি ঠিক হয় যে চুক্তি দিল্লিতে হবে, তা হলে দিল্লি আসতেও হাসিনার আপত্তি নেই। ঢাকায় তার দফতর বলছে, চুক্তি কোথায় হবে তা ঠিক করা ভারতের এক্তিয়ার। তবে কলকাতায় চুক্তি হলে তার তাৎপর্য অবশ্যই আলাদা।”
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, “হাসিনার ভারতে যাওয়া নিয়ে এখন কূটনৈতিক কোনও বাধা নেই বলেও তার দফতর সূত্রে জানানো হচ্ছে। কারণ, গত বছর হাসিনার ভারত সফরের পরে মনমোহন বাংলাদেশে এসেছেন।”

আনন্দবাজার লিখছে, “রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার বৈঠকে যোগ দিতে হাসিনা শনিবার রাতে নিউ ইয়র্ক পাড়ি দিলেন। মনমোহন যাচ্ছেন ২১ তারিখ। তার আগে বিদেশমন্ত্রী দীপু মণি, বিদেশসচিব মিজারুল কায়েশ এবং গওহর রিজভির সঙ্গেও এক প্রস্ত আলোচনা সারেন হাসিনা। ভারত যদি রাজি থাকে, তা হলে নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার পথে কলকাতা এসে তিস্তা চুক্তি করতে রাজি আছেন তিনি। আবার ২৭ তারিখের পর হাসিনার ত্রিপুরা আসার কথা। তাকে সাম্মানিক ডি লিট দেবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়।”

আনন্দবাজার জানায়, “শনিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে, সেখান থেকে কলকাতা গিয়েও তিনি চুক্তি করে আসতে পারেন। তিস্তা চুক্তি করার ব্যাপারে এই আগ্রহ ও উদ্যোগের কথা অবশ্য কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ রাখছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিক কারণেই তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে না। যেমন নিউ ইয়র্ক রওনা হওয়ার আগে হাসিনা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘হতাশ হবেন না। আল্লা যা করেন, ভালর জন্যই। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত তিস্তার জট ছাড়ানোর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী’।”
 
“কিন্তু হাসিনার প্রস্তাব নিয়ে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া কী? মনমোহন ২১ তারিখ নিউ ইয়র্ক গিয়ে ফিরবেন ২৭শে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশসচিব রঞ্জন মাথাই ও শিবশঙ্কর মেননের যাওয়ার কথা। আগামী তিন দিনের মধ্যে মমতার সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তার বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ফেলার মতো ক্ষিপ্রতা মনমোহন সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, ২৫ তারিখ মমতার ভোটপর্ব (বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী মমতা) তিস্তা চুক্তি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হবে।” জানায় আনন্দবাজার।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আজ আরও বলেছে, প্রথমত, তাদের পক্ষ থেকে ভারত তথা মমতার কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, তিস্তা চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ কোনও ভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না। দ্বিতীয়ত, এই চুক্তি করার আগে খসড়া প্রস্তাবে কী আছে সেটা যদি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার, তা হলেও বাংলাদেশ সরকারের কোনও আপত্তি নেই। গওহর রিজভি শনিবার বলেন,‘তিস্তা চুক্তির মাধ্যমে আমারা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই বটে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে নয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একটি রাজ্যের অঙ্গহানি হলে এই চুক্তি সফল হতে পারে না’। রিজভি বলেন, ‘হাসিনার সঙ্গে মমতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এবং সেই সম্পর্ক অটুট। সুতরাং তিস্তা চুক্তি নিয়ে যা-ই হোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়নি’।”

আনন্দবাজার লিখেছে, “বাংলাদেশ সরকার এ-ও জানাচ্ছে যে তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে খসড়া প্রস্তাবে কে কত কিউসেক হারে জল পাবে, সে কথা লেখা থাকবে না। থাকবে না কোনও শতকরা হারের কথাও। এমনকী নদীতে বাস্তবে জল কতটা আছে তার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে জল দেওয়ার যে কথা মমতা বলছেন, ঢাকা সেটাও মেনে নিতে রাজি। ঢাকার বক্তব্য, শুখা মরসুমে বাংলাদেশে খরা হয়, আবার বর্ষাকালে তিস্তায় বেশি জল ছাড়লে বন্যা হয়। তাই হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কোন সময়ে কতটা জল আছে আর কতটা জল ছাড়া উচিত তা বিচার করেই জল দেওয়ার শর্ত ঠিক হবে।”
 
আনন্দবাজার বলছে, “হাসিনা সরকারের আড়াই বছর অতিবাহিত। তিস্তা চুক্তি না হওয়াকে বিরোধী দল বিএনপি রাজনৈতিক প্রচারের বিষয় করছে। সরকারের দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যে ভাবে ভারতে ইউপিএ সরকারের বিরোধিতা হচ্ছে, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের রাজনীতিও সরগরম। এ অবস্থায় হাসিনা যত দ্রুত তিস্তা চুক্তি করতে পারবেন ততই তার সরকারের রাজনৈতিক স্থিরতা বাড়বে। মিজারুল কায়েশ বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী চিঠি দিয়ে মমতাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মমতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে না আসায় সেই আমন্ত্রণ এখনও বহাল। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মমতাকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে তিনি ঢাকা আসবেন’।”
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, “শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনমোহনের সাম্প্রতিক সফরের পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের ভবিষ্যত নিয়ে দু’দিনের একটি আলোচনাসভা শুরু হল। অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজক জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান এবং ঢাকার প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিটার, মিজারুল কায়েশ, গওহর রিজভি-সহ বহু কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। রজিত মিটার বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ বারের সফরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু জলবণ্টন নিয়ে সর্বসম্মত সমাধান করতে মনমোহন সিংহ নির্দেশ দিয়েছেন। মীমাংসার চেষ্টা চলছে’।”

বার্তা২৪ ডটনেট

Post a Comment

0 Comments