Advertisement

রামু হাসপাতালের নির্মিতব্য ভবন অর্ধসমাপ্ত পড়ে আছে এক বছর

ডেন্টাল সার্জন, ডাক্তার, এক্স-রে টেকনেশিয়ানসহ ২১ পদ শূণ্য
রোগীর ওয়ার্ডে স্যাঁতস্যাতে ও দুর্গন্ধ
নীতিশ বড়য়া.রামু:
কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন, এক্স-রে মেশিন টেকনিশিয়ানসহ ২১ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূণ্য থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার গরীব ও সাধারন রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে কার্যক্রম বিহীন মেশিনটি পড়ে থাকায় এর
 বিভিন্ন যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে বিকল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ঠিকাদারের উদাসীনতায় বিগত এক বছর ধরে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫০ শয্যার ভবনের কাজ ঝুঁলে রয়েছে। 
জানা যায়, উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পাহাড় চুড়ায় নির্জন ও মনোরম পরিবেশে প্রায় সাড়ে ছয় একর সরকারী জমিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করে ০১/০৭/১৯৭৭ সাল থেকে সরকার পুরোপুরি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করে। পরবর্তীতে জনসাধারণের চাহিদা মোতাবেক উপজেলার ১১ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করেন স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
প্রথম প্রথম জেলা ব্যাপী রামু হাসপাতালের সুনাম ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে রামু উপজেলার ৩ লক্ষ্যাধিক জনসাধারণ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে তুলনা মূলক পিছিয়ে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ জন ডেন্টাল (ডাক্তার) সার্জন, ১ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ১ জন এক্স-রে টেকনিশিয়ান, ১০ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ২ জন অফিস সহকারী, ১ জন কুক, ৩ জন এম.এল.এস.এস, ১ জন নার্স ও ১ জন ফার্মাসিষ্ট না থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বেসরকারী সংস্থা ট্রান্সমেড লিঃ এর মাধ্যমে একটি উন্নত প্রযুক্তির এক্স-রে মেশিন রামু হাসপাতালে সরবরাহ করেন। সেই এক্স-রে মেশিনের বিভিন্ন ডিভাইস ২ বছর ধরে হাসপাতালের বারান্দায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ২০০৭ সালে একটি কক্ষে এক্স-রে মেশিনটি বসানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে টেকনেশিয়ানের অভাবে এক্স-রে মেশিনের সুফল পাচ্ছেন না এদ্তঞ্চলের সাধারণ জনগণ। ফলে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকার পরও দুর দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অন্যত্র গিয়ে এক্স-রে করতে হচ্ছে। 
সূত্রে আরো জানা যায়, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার ২৮/০২/২০০৮ সালে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে রামু হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করনে ভবন নিশার্ণের কাজ শুরু হয়। ৩১/০৮/২০০৯ ইং কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও শুধুমাত্র অর্ধভাগ কাজ শেষ করে ফেলে চলে যায় সংশ্লীষ্ট ঠিকাদার। অর্ধ নির্মিত ৫০ শয্যার ভবনটি প্রায় ১ বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায়  ৩টি স্টাফ কোয়াটার নির্মিত হলেও তা অত্যন্ত নিুমানের। কাজ বুঝিয়ে দেয়ার আগেই নির্মিত কোয়াটার গুলোর দরজা, জানালা ও দেওয়ালের প্লাষ্টার ঝরে পড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্রতিনিয়ত হাসপাতালে ডিউটি চলাকালে কর্মরত ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তারা কর্মবিরতির নামে দীর্ঘক্ষণ ধরে কক্ষ বন্ধ রেখে টিএইচও বা আরএমও’র কক্ষে খোশ গল্পে মেতে উঠে। এছাড়া অনেকেই পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানে গিয়ে সময় কাটায়। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করে।   
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ছাদের অনেকাংশ প্লাস্টার ঝরে গিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। দ্বিতীয় তলার পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে স্যাঁতস্যাতে অবস্থা ও চরম দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভর্তি হওয়া রোগীর সঙ্গীরাও ওই দুর্গন্ধে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। 
রামু হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রতন চৌধুরী জানান, ডেন্টাল সার্জন,টেকনেশিয়ান ও বিভিন্ন শুন্য পদের জন্য উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ৫০ শয্যায় উন্নিত ভবনের ফেলে রাখা নির্মাণ কাজ জরুরী ভিত্তিতে সম্পন্ন করার আহবান জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments