Advertisement

রাতের আঁধারে চেয়ারম্যান নিজেই কেটে দিলেন বেড়িবাঁধ

রামুতে স্বেচ্ছাশ্রমের নামে চাঁদাবাজি
বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মানের নামে  চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত জুলাই মাসে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়াসহ আশপাশের দশটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে নষ্ট হয়ে যায় ওই এলাকার প্রায় দেড়শ একর আমন ক্ষেত। হুমকির মুখে রয়েছে আরও প্রায় পাঁচশ একর আমন চাষাবাদ। বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী মিস্ত্রিপাড়া-লম্বরীপাড়া বেড়িবাঁধটি গত ১৭ জুলাই রাতে  শতাধিক লোকজন নিয়ে চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম নিজেই লোকজন দিয়ে মিস্ত্রিপাড়ার দু’টি বেঁড়িবাঁধ কেটে দেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাশ্রমে ওই বেঁড়িবাঁধ নির্মাণের নামে এলাকার ইটভাটা মালিকসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা তোলছেন ও দাবি করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরির নামে চেয়ারম্যান সঠিক সময়ে বাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করায় বর্ষা মৌসুমে আশ পাশের প্রায় এক হাজার পরিবার এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়বার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, ১৭ জুলাই রাতে বেড়িবাঁধ কাটার সময় এলাকাবাসী বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলে তিনি সাথে সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেন। কিন্তু ইউএনও কোন ব্যবস্থা নেননি। পরদিন ইউএনও’র কার্যালয়ে এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও’র সাথে তাঁর বাকবিতন্ডাও হয়।
 তিনি বলেন, বর্তমানে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরির নামে চেয়ারম্যান ইটভাটা মালিকসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, বেড়ি বাঁধ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে রাতেই তিনি কয়েকজন নিয়ে মিস্ত্রি পাড়ায় গিয়ে দেখেন, চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম নিজেই শতাধিক লোকজন নিয়ে বাঁধ কাটছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ বাঁধ কাটার কারনে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল-লম্বরীপাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত হয়। এলাকাবাসী বিভিন্ন ইট ভাটা থেকে ইটের গুঁড়া সংগ্রহ করে ভাঙ্গা অংশ সংস্কার করলেও তা কয়েকবারের বন্যার পানিতে ভেঙ্গে যায়। সর্বশেষ গত শুক্রবার এ সড়ক যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
 চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম বেড়িবাঁধ কেটে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাঁকখালী নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার  কারনে বন্যার পানি সরাসরি প্রবেশ করায় বেড়িবাঁধ দু’টি ভেঙ্গে যায়। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করা হলেও  পরে এলাকাবাসী সহযোগিতা না করায় প্রায় ছয়লাখ টাকা খরচ করে বাঁধ তৈরি করা হয়। কিন্তু বন্যার পানিতে আবারও বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যায়। 
বাঁধ নির্মাণের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করে  তিনি বলেন, এ বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন ইটভাটা মালিক স্ব-ইচ্ছায় তাঁকে ওই বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য লাখ খানেক টাকা দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত  বাঁধ নির্মাণে তাঁর প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়। এখনও পরিষদের সদস্যরা ৫৩ হাজার টাকা পাওনা আছে। বাকি টাকা তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করা হয়।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক বলেন, পরদিন (১৮ জুলাই) সকালে চাকমারকুলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বেড়িবাঁধ কেটে দেয়ার বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন। কিন্তু ওই সময় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। চেয়ারম্যান এটি করে থাকলে মারাত্বক অন্যায় করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

Post a Comment

0 Comments