Advertisement

কক্সবাজারে ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণা : হোটেল-মোটেলের কক্ষ খালি নেই : নিরাপত্তা বলয়

মুবারাক উদ্দিন নয়ন:বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে বেড়াতে আসা লাখো পর্যটকদের পদচারণায়
 মুখরিত হয়ে উঠেছে। দেশ বিদেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা এসব দর্শণার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিনসহ উল্লেখযোগ্য দর্শণীয় স্থানে। বুধবার ঈদুল ফিতর থেকে শুক্রবার ও সরকারী ছুটি শনিবার পর্যন্ত পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটকদের পদভারে উদ্বেলিত পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকা। সে সাথে ঈদুল ফিতরের টানা বন্ধ কাটাতে বিপুল ভ্রমন পিপাসুদের আগমনের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান ও যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র‌্যাব, ট্যুরিষ্ট পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা সহ আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী স্তরভেদে গোটা জেলা জুড়ে নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেছে। নির্ঘুম রাতও কাটছে ট্যুরিষ্ট ও ট্রাফিক পুলিশদের। রিক্সা ও লোকাল সার্ভিস চালকদের দৌরাত্ম্যে পর্যটক হয়রানিরোধ ও জনভোগান্তি লাঘব এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। 
সূত্রমতে, ঈদের আগে থেকে অধিকাংশ পর্যটক অগ্রীম আবাসিকের জন্য পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে তিন তারকা মানের সহ বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে বুকিং দিয়ে রাখলেও দীর্ঘ ছুটিতে দিনের পর দিন মানুষের আগমন বেড়ে যাওয়ায় তাদের আবাসিক যাপনে এখন কক্ষ খালি নেই। সূত্রের দাবী, ঈদুল ফিতর দিয়েই পর্যটন মৌসুমের যাত্রা। আর তাই মৌসুমের শুরুতেই এভাবে পর্যটকদের আগমনে হোটেল-মোটেল জোনের পর্যটন বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব। পুরো জেলার বিশেষ করে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সেন্টমার্টিন ও মাথিনের কুপ, রামুর রাবার বাগান ও হিমছড়ি, উখিয়ার ইনানী পাথুরে বীচ, চকরিয়া ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, সু-বিশাল পাহাড় বেষ্টিত উপকূলীয় জনপদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীণতম তীর্থস্থান মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির সহ ডজনাধিক প্রসিদ্ধ পর্যটন স্পট হওয়ায় প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে ছুটে আসছে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে। 
শনিবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো পর্যটকের ভিড়ে স্থানীয়দের পদচারণার কমতি ছিলনা। ঈদুল ফিতর বলেও কথা। সমানতালে সকল ভেদাবেদ ভূলে গিয়ে অনন্য সম্প্রীতির বন্ধণে আবদ্ধ হয়েছিলো সর্বস্তরের মানুষ। সরেজমিন দেখা গেছে, ঝাউবাগান ও বিস্তির্ণ এলাকা বেষ্টিত দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত পরিবারের বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, দম্পতি, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী ও বিপুল শিশু, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ নানান পেশার মানুষের মিলনমেলার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে বড় ও মুরব্বী দর্শণার্থীদের চেয়ে শিশু ও তরুন-তরুণীদের পদচারণা ছিল লক্ষণীয়। কে না প্রকৃতিকে ভালবাসে, পড়ন্ত বিকেলে সমুদ্রের আচড়ে পড়া বিশালাকৃতির ঢেউ ও লাল আভায় ডুবে যাওয়া সুর্যাস্তের এ দৃশ্য দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পর্যটকসহ স্থানীয়রাও। অনেকে ভিডিও ক্যামেরা ও মোবাইল ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধারণের চেষ্টা করছে। আবার অনেকে আনন্দঘন মুহুর্ত জীবনের গতিময় চলার পথও চারকোনার ছবির ফ্রেমে বন্দি করতে নানান ভঙ্গিমায় ফটো সেশনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে পুরো পর্যটন জেলায় দেশী-বিদেশী দর্শণার্থীদের পদভারে চলছে নীল-সবুজের প্রাণচাঞ্চল্য। 
এদিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত থেকে লাখো পর্যটকের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির সময়টা দিয়েই যেহেতু পর্যটন মৌসুমের সূচনা সেহেতু মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে নানামুখী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত হয়রানি রোধে ট্রাফিট বিভাগকে রাখা হয়েছে হার্ড লাইনে। ট্যুরিষ্ট পুলিশ ছাড়াও অতিরিক্ত ২শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এছাড়া টুনকো ত্র“টি নিরসনে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতাও অব্যাহত থাকবে। সর্বোপরী যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ঠেকাতে পর্যটন রাজধানীর জেলা-শহরে একাধিক টহল দল মোতায়েন রয়েছে। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষ ও রেস্তোরা মালিকদের গলাকাটা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানিয়েছেন, পর্যটন শহরে পর্যটকদের ভোগান্তি লাঘবে রিক্সা, টমটম, টেম্পু, সিএনজির ভাড়া নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাড়ার তালিকাও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। হোটেল-মোটেল জোনে হোটেল-রেস্তোরা মালিকদের গলাকাটা ব্যবসার অপতৎপরতা বন্ধে একাধিক পর্যবেক্ষক দল কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শুক্রবার এক কিশোর পর্যটক সাগরে ভেসে গিয়ে নিহতের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে বলেন, পর্যটকদের নিয়মনীতি মানাতে সৈকতে অবস্থানরত লাইফ গার্ড কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেসব পর্যটক নীতিমালা উপেক্ষা করে সাগরে গোসল করতে নামবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বীচ পরিচালনা কমিটিকে আহবান জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments