Advertisement

কক্সবাজারে 'জঙ্গী' সন্দেহে গ্রেফতারকৃতদের মুক্ত করতে আওয়ামী আইনজীবীদের তৎপরতা

বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশে ও বিদেশে জঙ্গী কানেকশনে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতারকৃত  ৬ জন ‘জঙ্গী সন্ধিগ্ধ’ ব্যক্তির জামিনের প্রার্থনা নিয়ে লড়ছেন কক্সবাজার জেলার একদল আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী। তারা সবাই জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। গতকাল রবিবার কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের ‘জঙ্গী সন্ধিগ্ধ’ ব্যক্তিদের ‘এ দেশীয় ভাল মানুষ’ হিসাবে দাবী করে দেয়া জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আদালত  মামলার অভিযোগকে অত্যন্ত ষ্পর্শ কাতর বিষয় বলে উল্লেখ করে আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত ‘জঙ্গীদের’ মুক্ত করার জন্য আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের তৎপরতা নিয়ে কক্সবাজারের সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় উর্ধতন নেতৃবৃন্দকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হবে। 
কক্সবাজারের রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজিবুল ইসলাম  জানান, গত ৩০ আগষ্ট সন্ধ্যায় রামুর থোয়াইঙ্গাকাটা আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) মাদ্রাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সেখানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা গোপন ট্রেনিং দিচ্ছিল মর্মে সংবাদ ছিল পুলিশের নিকট। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা যথাক্রমে ইউনুস, রুহুল আমিন, আরমান, লোকমান, ওয়ারেস ও ফয়সাল। ইউনুস ও আরমানের নিকট থেকে ২ টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এসব পাসপোর্টে সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, তুরষ্ক ও সুদানে আসা যাওয়ার তথ্য রয়েছে বলে তিনি জানান। গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগটন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) নেতা এবং আফগান ফেরৎ যোদ্ধা। ওসি   আরো জানান, তাদের গ্রেফতারের পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জঙ্গী কানেকশনে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে নিতে নানা ভাবে ‘চাপ প্রয়োগ’ করে আসছেন। 
কক্সবাজারের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) এ্যাডভোকেট মমতাজ আহমদ   জানান, স্থানীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক   গ্রেফতারকৃতদের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন    এদিকে স্থানীয় গোয়েন্দা সুত্রে জানা গেছে, জামায়াত সাবেক দলীয় এমপি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের এনজিও ‘ওয়ামী’র কার্যক্রম নিয়ে গ্রেফতারকৃতরা গোপনে জড়িত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments