Advertisement

টেকনাফের এক হাফেজ কক্সবাজারে ঈদবাজার করতে গিয়ে বন্ধুর হাতে অপহৃত

বেদম প্রহার ও ছুরিকাঘাতের পর সর্বস্ব লুট: মুচলেখা দিয়ে মুক্ত
হুমায়ুন রশিদ, টেকনাফ:
টেকনাফের এক হাফেজে কুরআন কক্সবাজার সদরে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে অপর মাদরাসা ছাত্র বন্ধুর খপ্পরে পড়ে অপহরণের শিকার হয়েছে। উক্ত হাফেজকে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার অজুহাতে ঘোনার পাড়া কবরস্থানে নিয়ে বেদম প্রহার ও ছুরিকাঘাতের পর ১ লাখ টাকা পাবে মর্মে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মুক্তি দেয়। এরপর মোবাইলে টাকা দাবী করে না হলে কক্সবাজার শহরে আরেকবার পেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর ফলে অপহৃত মাদরাসার ছাত্র কোন আইনী পদক্ষেপ নিতে পারছে না। 
অপহৃত ছাত্রের অভিযোগে জানা যায়- ২৮ আগষ্ট টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলের ডেইলের মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র ও সাবেক নৌ বাহিনীর এলআরওজি, র‌্যাবের গোয়েন্দা এবং বর্তমান মাই টিভি ও আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীর ডাইরেক্টর মুহাম্মদ আলমগীরের ছোট ভাই মুহাম্মদ তারেক আবেদীন (২২) ঈদের কেনাকাটা করার জন্য সকাল সাড়ে ৮টায় কক্সবাজারে যায়। এর ১৫ মিনিট পর বায়তুশ শরফ গেইটে হাশেমিয়া মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র জাবেদের সাথে দেখা হয়। এক বছর আগে থেকে উক্ত মাদরাসার জনৈক ছাত্র খায়রুল আমিনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। ছুটির ফাঁদে মার্কেট খুলতে দেরী হবে বলে তারেককে জাবেদ সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে গোলদীঘির পাড়ের স্কুলে নিয়ে গল্প করতে থাকে। ৫/১০ মিনিট পর হঠাৎ ১০/১২ জনের একটি দল এসে স্কুলের গেইট বন্ধ করে তারেককে বেদম প্রহার করে অজ্ঞান করে ফেলে দেয়। এরপর তাকে কাঁধে করে স্থানীয় ঘোনার পাড়া গোরস্থানে নিয়ে তেতুঁল গাছের সাথে বেঁধে রাখে। জুহুরের আযান হলে নামায পড়ার জন্য ছেড়ে দেয়। তারেক তয়ম্মুম করে নামায আদায় শেষে মোনাজাত কালে কপালে লাথি মেরে ফেলে দেয়। আবারও গাছে বেঁধে রেখে পকেটে যা আছে তা লুটে নিয়ে আরও ১ লাখ টাকা দাবী করে। টাকা না পাওয়ায় তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানষিক নির্যাতন করে। তার বড় ভাই র‌্যাবের সাবেক গোয়েন্দা হওয়ায় বন্ধু-বান্ধবের কাছে টাকা নিয়ে যেতে ফোন করায়। নিরূপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৫টায় ১৫০ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ১ লাখ টাকা পাবে মর্মে লিখিয়ে নেয়। তারেক প্রাণ রক্ষার্থে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বাড়ী ফিরে আসে। তার মা ছেলের উপর নির্যাতনের ও ছুরিকাঘাত এবং বেঁধে রাখার চিহ্ন দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা মোবাইলে টাকা দাবী করে। তারেক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললে দম্ভকন্ঠে বলে আমরাই কক্সবাজারের ‘ডন’, আমাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারো নেই। তারেক আরো জানান- বন্ধু পরিচয়দারী জাবেদ পিটি স্কুলের পাহাড়িকা এলাকার বাসিন্দা ও হাশেমিয়া মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। কক্সবাজার দক্ষিণ ঘোনা পাড়ার জনৈক ইট ব্যবসায়ী এবং হাসিনা খাতুনের পুত্র  মুহাম্মদ আবদুল হাকিম গং এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অপহৃত তারেক এ ঘটনার সুবিচারের জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও কক্সবাজারের সচেতন মহলের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments