শামসুল আলম শারেক, টেকনাফ ॥
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভূক্ত আদম পাচারকারী মিয়ানমার নাগরিক নবী হোছন মাঝির হাত ধরে টেকনাফের প্রায় ২ শতাধিক লোকজন তাদের সর্বস্ব খুঁইয়ে দিয়ে সাগর পথে স্বপ্নের মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নবী হোছন মাঝি একজন মিয়ানমারের আকিয়াব এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে গত ২ বছর ধরে বিভিন্ন সময় শত শত লোকজনকে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বস্ব লুফে নিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সে গত ১ বছর পূর্বেও মিয়ানমারের আকিয়াব এলাকায় অবস্থান করছিল। সে দেশ থেকে শত শত নাগরিককে মালয়েশিয়া পাচার করেছিল। আদম পাচারের সুবাধে তার সাথে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কিছু চিহ্নিত লোকজনের সখ্যতা গড়ে উঠলে বর্তমানে সে টেকনাফের অলিয়াবাদ এলাকায় বাড়ী ঘর করে বসবাস করছে। সে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার চিহ্নিত তালিকাভূক্ত আদম পাচারকারী হলেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ এলাকার রাহমত উল্লাহ জানান, নবী হোছন মাঝি গত বছরের শুরুর দিকে আকিয়াব থেকে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে শাহপরীরদ্বীপে এসে অবস্থান নেয়। সেখানে বেশ কিছু দিন থাকার পর কয়েক দফা মালয়েশিয়া আদম পাচার করেছি। বর্তমানেও তার মাধ্যমে প্রায় ২ শতাধিক লোকজন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টাকা পয়সা দিয়ে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক সময় মালয়েশিয়া নেয়ার নামে অনেক অসহায় লোকজনের কাছ থেকে সর্বস্ব লুফে নিয়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রামের কতিপয় দালালদের হাতে তুলে দিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে বিপদগ্রস্থ করেছে। এদের অনেকে মিয়ানমারের আকিয়াব, বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন ও ভারতের আন্দামান দ্বীপে গিয়ে আটকা পড়েছে। বর্তমানেও তার বিরুদ্ধে ২ শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে টাকান পয়সা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া না হলে মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপের বেশ কিছু লোকজন সমূহ বিপদের সম্মুখীন হবে আশংকা প্রকাশ করছে সচেতন মহল।

0 Comments