Advertisement

আশানুরূপ পর্যটক আসেনি কক্সবাজারে

ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নামার আশা করা হলেও গত ৩ দিনে আশানুরূপ পর্যটক আসেনি কক্সবাজারে। ফলে হোটেল-রেস্তোরাসহ পর্যটন সংশি¬ষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। আশানুরূপ পর্যটক না আসার জন্য হোটেল মালিকরা রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা এবং যানজটকে দূষছেন।
জানা যায়, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। চারিদিকে সৃষ্টি হয় মারাত্মক ভীড়। লাইন ধরে খাবার থেতে হয় হোটেল থেকে। হোটেলে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সৈকতে কিংবা রাস্তায় বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কিন্তু এবছরের পরিস্থিতি ভীন্ন। এবছর ঈদের ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক না আসায় হতাশ পর্যটন সংশি¬ষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার সী-বীচ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম চৌধুরী শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, এখনও বিভিন্ন হোটেলে অসংখ্য কক্ষ পর্যটকের অভাবে খালি রয়েছে।
তিনি মনে করেন, রাস্তাঘাট খারাপ হওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
একই কথা জানান কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার।
তিনি জানান, বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় সাড়ে ৩শ হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। এসব হোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রায় ৫০ হাজার অতিথি থাকতে পারে। কিন্তু এবছর ঈদের ছুটিতে পর্যটক কম আসায় প্রায় ২০ ভাগ কক্ষ এখনও খালি রয়েছে।
তার মতে, শুক্রবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ৪০ হাজারের বেশি পর্যটক আসেনি।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এসএম কিবরিয়া খানের এর মতে, রাস্তাঘাটের অবস্থা নাজুক থাকায় এবং যানজটের অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় ভোগান্তির ভয়ে মানুষ কক্সবাজারে আসছে কম।
কক্সবাজারের হোটেল ও রেস্তোরা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা উপচে পড়া পর্যটকের ভীড় আশা করেছিলেন এবার। সে অনুযায়ী খাবারও প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। কিন্তু আশানরূপ পর্যটক না আসায় অনেক খাবার নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে আশানুরূপ পর্যটক না আসায় কক্সবাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরে কমভাড়ায় থাকতে পেরেছেন বলে জানান ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মহিম কবির এবং চট্টগ্রাম থেকে আসা পারভেজ ইমতিয়াজ।
তারা জানান, আগেও ঈদের সময় তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। কিন্তু এত কম পর্যটক দেখেননি।
তাদের মতে, পর্যটক বেশি আসলে হোটেল মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার হোটেল ব্যবসায়ীদের গলাকাটা ব্যবসায় ছেদ পড়েছে।

Post a Comment

0 Comments