Advertisement

টেকনাফ স্থল বন্দর শীঘ্রই বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা

সমস্যা :
* ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট
* চোরাচালান 
* লোকসান ও হুন্ডি
ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার:
সীমান্ত বার্ণিজ্য সম্প্রসারনে এলসি ব্যবস্থা চালু এবং বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের দুঃশাসন মুক্ত না হলে টেকনাফ বন্দর শীঘ্রই বন্ধ হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বৈধ ব্যবসায়ীরা ফের চোরাচালানের পাশাপাশি আরও জমজমাট আকার ধারন করবে হুন্ডি ব্যবসা। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় দেশের এই গুরুত্বপূর্ন এলাকা থেকে দেশ বছর প্রতি কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। অবশ্যই বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে চলা এই বন্দর থেকে কাষ্টমস্ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ে সক্ষম হচ্ছে।  অথচ আয়কৃত এই টাকায় সšু‘ষ্ট  না হয়ে সরকার ও কর্তৃপক্ষ যদি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য বন্দরের মত এলসি ব্যবস্থা চালু এবং ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট নামে বে-সরকারী সংস্থা কর্তৃক ব্যবসায়ী হয়রানী বন্ধ করতে পারত, তাহলে টেকনাফ বন্দর হত দেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক পয়েন্ট। কারণ শুধু দেশবাসীর কাছে নয় বিদেশীরাও এক বাক্যে  স্বীকার করেন “টেকনাফ ইজ দ্যা সেকেন্ড সিঙ্গাপুর”। তবে অবিশাস্য হলেও সত্য যে, সেই দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর টেকনাফ আসলেই যেমন নামের তেমন কাজের না। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানকার চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে একটি বন্দর  স্থাপিত করলেও তা পুরোপুরি কাজে আসছে না। 
এখনো দিবা রাতি সমান তালে সেখানকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে জমজমাট চোরাচালন হচ্ছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের কর্মী পরিচয়ে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা চার্জ ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে বন্দর না ছুঁয়ে সবসময় মালামাল আনা নেওয়া করছেন। দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ বন্দর, সীমান্ত বাণিজ্য, হুুন্ডি ও চোরাচালান সম্পর্কে ব্যাপক খোজ খবরে জানা গেছে উল্লেখিত তথ্য।  টেকনাফ বন্দরে আমদানি-রপ্তানী বাণিজ্যিক সংগঠন সিএন্ডএফ এর বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের অনেকেই এই বন্দরে ব্যবসা করতে পারছেন না। তারা আদৌ জানেন না এটি কি স্থল নাকি নৌ বন্দর! 
কারণ বন্দর পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২৫ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া “ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট” নামের একটি সংস্থা আছে। এদের বাণিজ্যিক নীতি “ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী”র চেয়ে ভয়াবহ। সরকারী আইন উপেক্ষা করে তাদের মনগড়া আইনেই চলছে সেখানকার আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য। উক্ত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফ বন্দর ব্যবহকারীদের কাছ থেকে স্থল ও নৌ দুই বন্দর এবং ডে-নাইট সহ মনগড়া চার্জ আদায় করে ক্ষান্ত হয় না। তারা মালামাল লোড-আনলোডে সময় ক্ষেপন করে। এছাড়া উক্ত সংস্থা কোন ব্যবসায়ীকে নিজেদের মালামাল পাহারা দেওয়ার জন্য একজন লোকও রাখতে দেয় না। 
অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, সংস্থাটি মাঝে মধ্যে বন্দর অভ্যন্তর থেকে মালামাল কৌশলে চুরি করে তা নগদ টাকায় আবার ব্যবসায়ীদের বিক্রি করার নজির স্থাপন করেছে। এসব ব্যাপারে অতীতে ইউনাইডেট ল্যান্ড পোর্ট ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে বহু অনাকাংখিত ঘটনা এমনকি স্থানীয় ভাবে শালিশ বিচার পর্যন্ত হয়েছে।  যা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পযার্য় অবগত থাকলেও প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, টেকনাফ বন্দরের দায়িত্বরত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য চাঙ্গা হচ্ছে না।  বাইরের কোন ব্যবসায়ী এখানে আসছেন না। রাজস্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে। চোরাচালানসহ সব ব্যাপারে যাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা। তাদের অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিরব রয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিকারের উদ্যোগ নিলেও শক্তিশালী অসাধুদের কারণে তা বাস্তবায়ন হয় না।  অবশ্য ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট সম্পর্কে প্রাপ্ত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে টেকনাফ বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেছেন, তাদের কারণে নয় চোরাচালান এবং এলসির কারণে বন্দরের এই দুর অবস্থা।

Post a Comment

0 Comments