Advertisement

লামায় নুনারঝিরি বে:প্রা: বিদ্যালয়টি সমস্যায় জর্জরিত: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

মোঃ নুরুল করিম আরমান, লামা :
বান্দরবানের লামায় নুনারঝিরি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রেরও রয়েছে সংকট। প্রতিবছর সরকারী পাঠ্য বই ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা পায়না এ বিদ্যালয়টি। অবিলম্বে বিদ্যালয়টি সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 
সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, লামা পৌরসভা এলাকার নুনারঝিরি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর ২০০৪ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক বিদ্যালয় ভবনটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় ৪-৫ বছর পর থেকে বিদ্যালয়টির চালের বিভিন্ন স্থানে টিন ছিদ্র হয়ে গ্রীস্ম মৌসুমে রৌদ্র এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি পড়ে। দুটি শ্রেণী  কক্ষে ফ্লোর পাকা না করায় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়ে দেবে গেছে। পর্যাপ্ত আসবাবপত্রের অভাবও রয়েছে এ বিদ্যালয়টিতে। দরজা-জানালার অবস্থা ভালো নয়, বিধায় বিদ্যালয় ছুটির পর যে কটি আসবাবপত্র রয়েছে সেগুলো অফিস কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। শুধুমাত্র অফিস কক্ষের বারান্দা নির্মাণ করা হলেও বাকী শ্রেণী কক্ষ দুটির সমনে বারান্দা করা হয়নি। ফলে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের শ্রেণী কক্ষে প্রবেশে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যালয় ভবনের ছালের টিন ছিদ্রসহ দেওয়ালে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় এবং উপরের বীম নষ্ট হওয়াতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাম্মৎ সুমী আক্তার জানায়, বৃষ্টি হলে ক্লাশ বাদ দিয়ে আমাদের সবাইকে  কক্ষের এক কোণে অবস্থান করতে হয়। এছাড়া আমাদের ক্লাশে ব্লাক বোর্ড নাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা শাহনাজ পারভীন জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৫০ জন এবং কর্মরত শিক্ষক ৪ জন। এখান থেকে যে বেতন পাই তা দিয়ে বাড়ী থেকে আসা যাওয়ার খরচও জুটেনা। এলাকার কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের চিন্তা করে কষ্ট হলেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সহকারী শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন ও পারভীন আক্তার বলেন, ভবনটি প্রায় ৮ বছর পুরনো হওয়ায় এখানে পাঠদান হলেও ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অফিস কক্ষের উপরের বীমগুলো পোকায় খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। ফলে যে কোন মুহুর্তে বীম ছুঁড়ে পড়তে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে স্কুুলটি মেরামত প্রয়োজন। ছাত্র অভিভাবক আবদুল খালেক জানিয়েছেন, এ বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান ভালো। তাছাড়া আশপাশে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই। তাই নিজের ছেলেকে এখানে ভর্তি করেছি। 
বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন ও সহ সভাপতি জামাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, আশপাশে কোন স্কুল না থাকায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী গত ২০০১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় বর্তমানে খুবই জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। দরজা জানালা পোকায় খেযে নষ্ট করে ফেলেছে। দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে স্থানীয় ৪ শিক্ষক স্বল্প বেতনে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান করে আসছেন। এ স্বল্প বেতনে শিক্ষকরা চলতে না পরায় তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন একটু সুনজর দিলে বিদ্যালয়ের সব সমস্যার সমাধান করা যেত।

Post a Comment

0 Comments