বি,এম হাবিব উল্লাহ,চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সীমানা বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলা, বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৩ পরিবারের শিশু কিশোর ও মহিলা সহ ১৫ ব্যাক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেেছ। তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আহতরা হলো চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটা গ্রামেরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কাদেরর পরিবারের মৃত আমিরুজ্জামার পুত্র কফিল উদ্দিন (৩০), কামাল উদ্দিন(৪০), জসিম উদ্দিন(৩৫), জয়নালের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩৫), জামাল উদ্দিন এর স্ত্রী মাইমুনা বেগম (৪০) জামাল উদ্দিন এর পুত্র আমিরুল মোস্তফা(২২), মেয়ে রাশেদা বেগম(১৮), কামাল উদ্দিন এর পুত্র মিনহাজ উদ্দিন (১২), মেয়ে জিসান বেগম(১২), কামাল উদ্দিন এর স্ত্রী জনুয়ারা বেগম(৩৬), কামাল উদ্দিন এর পুত্র জালাল উদ্দিন(১৮) ও ৫/৭ বছরের আরো ৪ শিশু।
সরজমিন গিয়ে এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ঈদের পুর্বদিন সকাল বেলায় দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের জের ধরে এ ঘটনার সুত্রপাত হয়। ওই দিন এলাকার প্রতিপক্ষ আব্দুল কাদের এর পুত্র সফিউল আলম গংদের মধ্যে সিরাজ উদ্দিন এর পুত্র নুরুল আবছার, ফরিদুল আলম, জাফর আলম, মৃত আমজাদ আলীর পুত্র আব্দুল কাদের, সিরাজ উদ্দিন ও তার পুত্র সাদ্দাম, নেজাম ও আবু সৈয়দ সহ অন্তত ২৫/৩০ জন লোক বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার পরও জোর করে বসতভিটার জমি জবর করে বেড়া দেয়ার চেষ্টা করলে বাধাঁ দেয়ায় এ সন্ত্রাসী হামলা হয়। ভোক্তভোগিরা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা তাদের ৩টি বসত ঘর ভাংচুর, মুল্যবান আসবাব পত্র ভাংচুর, স্বর্ণ ও নগদ টাকা সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা লোহার রড ও রামদা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অন্তত ১৫ ব্যাক্তিকে কুপিয়েছে। গত ঈদের পুর্বদিন এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ৩টি পরিবারের প্রায় ৫০ জন সদস্য ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানায়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো ফরহাদের নির্দেশে, থানার এসআই মোঃ ইয়াছিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আলাপকালে পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা জানান। সরজমিন পরিদর্শনকালে চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাফর আলম (বিএ অনার্স) এম,এ সাংবাদিকদের জানান, মারামারির বিষয়টি ২ পক্ষের মধ্যে সৃষ্ঠ বসতভিটার সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত। তবে তিনি ২ পক্ষকে আপস করে দেয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনার মামলার প্রস্ততি চলছে।
এদিকে আহতদের পরিবারের লোকজন ঈদের পুর্বদিন থেকে এখনো পর্যন্ত বাড়ী যেথে পারছেনা বলে জানিয়েছে। ভুক্তভোগি জামাল উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসীরা মোবাইলে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে এই বলে, তারা বাড়ী গেলে তাদের প্রানে হত্যা করা হবে। প্রতি পক্ষ সফিউল আলম গং সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তাদের পক্ষেরও ২/৩ জন লোক আহত হয়েছে এবং তারাও চকরিয়অ সরকারী হাসপাতালে সিকিৎসা নিয়েছে।

0 Comments