Advertisement

উখিয়ায় বাড়ছে দিনের পর দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা

ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী: উখিয়া:                               
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলছে।যে বয়সে শিশুদের বই নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও দরিদ্রতা তাদের কর্মমূখী করে তুলেছে।আর্থিক অনটন অসচেতনতার কারণে এসব শিশু-কিশোরের পিতামাতা তাদের স্কুলে না পাঠিয়ে প্রাপ্ত বয়সের আগেই সন্তানদের
বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।শুধু বেচেঁ থাকার তাগিদে অল্প বয়সে এসব শিশু অমানবিক পরিশ্রম করছে।
জানা যায়,উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মধ্যে উখিয়া,কোটবাজার,মরিচ্যা,কতুপালং,পালংখালী,এলাকায় প্রায় দুই থেকে তিন সহস্রাধিক শিশু-শ্রমিক বিভিন্ন স্থানে ঝুকিঁপূর্ণ কাজ করছে।সংসারের অভাবের তাড়নায় পেটের চাকা সচল রাখতে এ শিশুদের কচি হাতে উঠেছে জীবন সংগ্রামের হাতিয়ার।উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে,এসব শিশু গ্রামের বিভিন্ন হোটেল,চায়ের দোকান,বেকারী,গাড়ির হেলপার,মটর ও রিক্সার গ্যারেজ,ওয়েল্ডিং কারখানা,ইট-পাথর ভাঙ্গাঁ,মাদকদ্রব্য বহন করে পাচারসহ নানা অপরাধ মুলক কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়েছে। বিপদজ্জনকও শোষণমূলক শ্রমের কারণে ওদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিভিন্ন প্রতিষ্টানের মালিকেরা কম বেতনে বেশী পরিশ্রম করাতে পারে বলে শিশুশ্রমিক নিয়োগে বেশি আগ্রহী এবং অনেক শিশুকে কাজ শেখানোর নামে উল্টো অবিভাবকদের থেকে টাকা নিয়ে খাটানো হচ্ছে ঝুকিঁপূর্ণ কাজে।
রাজাপালং ইউনিয়নের উখিয়া বাজার এলাকায় কয়েকটি হোটেলের শিশুশ্রমিকদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়,অন্য শিশুদের মতো তাদেরও স্কুলে যেথে ইচ্ছে করে কিন্ত টাকার অভাবে পারিবারিক চাপে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।অনেকের অভিযোগ মালিকেরা তাদেরকে নিন্মমানের খাবার খেতে দেয় এবং ঠিক মতো তাদের প্রাপ্য বেতন দেয় না।এ অল্প বেতন দিয়ে কোনো রকম সংসারের ঘানি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। লেখাপড়ার ইচ্ছে থাকলেও দরিদ্রতার কারণে লেখাপড়ার সুযোগ নেই।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা অল্প টাকায় কাজ করানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে শিশুদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে।এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের বেশী কাজ করিয়ে নিতে পারছে শিশুদের দিয়ে।ফলে প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা বড় শ্রমিকের চাইতে শিশুশ্রমিকদের প্রতি বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে।তার ফলে দিনের পর দিন বেড়ে চলচ্ছে শিশু-শ্রমিকের সংখ্যা। শিশু আইনের তোয়াক্কা না করেই শিশুদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানকিক নির্যাতন।

Post a Comment

0 Comments