Advertisement

চকরিয়া ও পেকুয়ার নিন্মাঞ্চলের আমন তলিয়ে গেছে

সুমাইয়া ফেরদৌস,চকরিয়া : টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, হারবাং ও পেকুয়া সদর ইউনিয়েনর দক্ষিণাঞ্চলের আমনের রোয়া আবারও ডুবে গেছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর দিকের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধের পেকুয়া বাজার ও বারবাকিয়া বাজারের পাশের দুইটি স্লুইচ গেট ও ৩৫ নং স্লুইচ গেট দিয়ে অনবরত পানি ঢুকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর প্রবল এই বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়; চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাং এলাকার প্রায় ৫শতাধিক জমির ইরি-বোরো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় পাহাড় থেকে ঢলের পানি নেমে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলে পুরো এলাকা ঢুবে গেছে। এই এলাকার প্রায় সহস্রাধিক একর জমির আমনের রোয়া এখন সম্পূর্ণ পানি নিচে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ স্লুইচ গেট রক্ষণাবেক্ষনের নামে মূলত গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি লিজ নিয়ে নিয়েছে। তা ছাড়া সংশ্লি¬ষ্ট জন প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মকর্তার বাসায় ওই স্লুইচ গেটের ইজাদারেরা প্রতিদিন মাছ দিয়ে আসে। এ জন্যে তারা মাছ ধরার জন্য স্লুইচ গেটে জাল বসিয়ে রাখে। এতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল এ বছর ৪ বার প্লাবিত হয়েছে। দুইবার কৃষকের বীজ তলা নষ্ট হয়ে যায়। অবশেষে কৃষকেরা বহু কষ্টে করে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে চারা কিনে এনে আমনের রোয়ার কাজ শেষ সেরেছে। গত ৮ ও ৯ সেপ্টেমম্বর মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তখনও একবার ডুবে গিয়েছিল। গত ১৫ ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর তিন দিনে পেকুয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সহস্রাধিক একর জমির আমন আবারও ডুবে গেছে। নন্দীর পাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন জানান, বৃষ্টির পানির চেয়ে পেকুয়ার উত্তর দিকের দুইটি স্লুইচ গেট দিয়ে পেকুয়া খালের পানি ঢুকেই তাদের আমনের রোয়া তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ মেহের নামার বাজার পাড়ার আবদুল মালেক মাঝি জানান, ওই এলাকার বেশীরভাগ আমন পানিতে ঢুবে গেছে। পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান; গত দুই বছর বন্যায় বা ঢলের পানির কারণে পেকুয়ার এই এলাকার কৃষকদের কোন ক্ষতি হতে পারেনি। কিন্তু এখন ওই এলাকায় পানির সুষ্টু ব্যববস্থাপনা করা হচ্ছে না। তিনি এরজন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দায়ী করে বলেছেন, চেয়ারম্যান মেম্বার যদি তৎপর হতো তাহলে কোন অবস্থাতেই পানিতে তলিয়ে গিয়ে আমনের ক্ষতি হতে পারতো না। সংশিশ্লষ্টদের অবহেলায় এবারও আমনের রোয়া নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকদের অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

Post a Comment

0 Comments