এনএনবি : ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকা পুরোপুরি প্রস্তুত। সফর উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি
ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটের সদস্যরা রয়েছেন বিশেষ সতর্কাবস্থায়। ইতোমধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা ও ওয়েস্টিন হোটেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকছে গোয়েন্দা নজরদারি। দু’দিনের সফরে মনমোহনের সফরসঙ্গীর তালিকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণা, পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বনশাল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগই, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ড. মুকুল সাংমা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানওয়ালার নাম রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নাম থাকলেও তিস্তা চুক্তিতে বাংলাদেশকে বেশি পানি দেওয়া হচ্ছে-এই অভিযোগে সফর বর্জনের ঘোষণা দেন। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনটি চুক্তি, একটি প্রটোকল ও ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটের সদস্যরা রয়েছেন বিশেষ সতর্কাবস্থায়। ইতোমধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা ও ওয়েস্টিন হোটেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকছে গোয়েন্দা নজরদারি। দু’দিনের সফরে মনমোহনের সফরসঙ্গীর তালিকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণা, পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বনশাল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগই, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ড. মুকুল সাংমা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানওয়ালার নাম রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নাম থাকলেও তিস্তা চুক্তিতে বাংলাদেশকে বেশি পানি দেওয়া হচ্ছে-এই অভিযোগে সফর বর্জনের ঘোষণা দেন। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনটি চুক্তি, একটি প্রটোকল ও ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আজ দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে ভারতীয় প্রানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। সেখান থেকে মনমোহন সিং সরাসরি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে সই এবং একটি গাছের চারা রোপণ করবেন। মনমোহন সিং ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করবেন। বিকেলে হোটেলে গিয়ে পৃথকভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিকেল চারটা ৫৫ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। সেখানে তিনি প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছুক্ষণ একান্তে বৈঠক করবেন। তারপর দু’দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি সই হবে। সেখানে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলনে পৃথক বিবৃতি পাঠ করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ‘ভারত, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া’ বিষয়ক একটি বক্তৃতা দেবেন। তারপর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। সেখান থেকে যাবেন ধানম-িতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী চার মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। এতেও মনমোহন সিং কিছু সময়ের জন্য যোগ দেবেন। একই দিনে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ও মহাজোটের শরিক দলের নেতারা সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে পৃথকভাবে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। এই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর মনমোহন সিং দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাবেন।
তিস্তা চুক্তি হচ্ছে-দীপু মনি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, মনমোহন সিংয়ের সফরে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিস্তার পনি বণ্টন নিয়েও চুক্তি হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সরকার। গতকাল সোমবার রাতে গণভাবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে দীপু মনি বলেন, আমরা (ভারতের সঙ্গে) যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নই। আগে যা ছিল সে অবস্থানেই আছি।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরে তিস্তার পনি বণ্টনসহ কয়েকটি চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। দুই দিনের এই সফরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছাবেন মনমোহন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতারও এই সফরে তার সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। কিন্তু তিস্তার পানি ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলে শেষ মুহূর্তে তিনি ঢাকা না আসার কথা মনমোহনকে জানিয়ে দেন। মমতার এই সিদ্ধান্তের পর বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিও অনিশ্চয়তায় পড়ে।
দীপু মনি বলেন, তিস্তা চুক্তি হবে না- এমন কোনো তথ্য বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিস্তার পনি বণ্টন নিয়েও চুক্তি হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা।


0 Comments